খুলনায় ১ ঘনমিটারের ভ্যাকুট্যাগে এক বছরে ২০৮টি কাজ, আয় ৭.২৮ লাখ, লাভ ১.৪৬ লাখ টাকা
খুলনার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কমিউনিটি উন্নয়ন কমিটি ছোট ভ্যাকুট্যাগ দিয়ে সেপটিক ট্যাংক ও পায়খানার গর্ত খালি করে এক বছরে ১,৪৫,৭৮০ টাকা লাভ করেছে। একই সময়ে সিটি করপোরেশনের বড় ভ্যাকুট্যাগ চাহিদার অভাবে লোকসান দিয়েছে।
খুলনা শহরে যন্ত্রের সাহায্যে সেপটিক ট্যাংক ও পিট খালি করার সেবা দেয় খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) এবং তিনটি কমিউনিটি উন্নয়ন কমিটি (সিডিসি)। সিডিসিগুলোর ১ ঘনমিটারের ভ্যাকুট্যাগ ২০১২ সালে জাতিসংঘের একটি সংস্থা দান করেছিল। ছোট ভ্যাকুট্যাগ ২ মিটারের কম চওড়া সরু গলিতে ঢুকতে পারে বলে এগুলোই বেশি ব্যবহৃত হয়। ২০২১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সিডিসির ফেব্রুয়ারি ২০১৮ থেকে জানুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত হিসাব বিশ্লেষণ করা হয়। এই সময়ে ২০৮টি আবেদন আসে। প্রতি ট্রিপ (১ ঘনমিটার) ফি ছিল ১,০০০ টাকা, আর একটি ট্যাংক খালি করতে গড়ে ৩.৫টি ট্রিপ লাগত; তাতে বছরে আয় হয় ৭,২৮,০০০ টাকা। কর্মী, জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ আর যোগাযোগ-বিজ্ঞাপন-সুরক্ষা সরঞ্জাম মিলিয়ে খরচ হয় ৫,৮২,২২০ টাকা; লাভ দাঁড়ায় ১,৪৫,৭৮০ টাকা। তবে এই হিসাবে গাড়ির দাম ও অবচয় ধরা হয়নি। অন্যদিকে কেসিসির ২ ঘনমিটারের ভ্যাকুট্যাগে (আমদানি খরচ প্রায় ৩৫ লাখ টাকা) একই সময়ে ১৫৬টি আবেদন আসে, ফি ১,৫০০ টাকা; আয় ২,৩৫,৫৬০ টাকার বিপরীতে খরচ ৪,৬৭,১৪৫ টাকা, মূলত শহরে খালি করার চাহিদা কম থাকায় লোকসান হয়। সেখানে খরচের ৬৯ শতাংশই কর্মীর বেতন, ২২ শতাংশ জ্বালানি। গবেষকদের হিসাবে, ২ ঘনমিটারের ভ্যাকুট্যাগ লাভজনক হতে দিনে অন্তত ছয়টি ট্রিপ দরকার। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ পরিবার দুর্গন্ধ ও প্রতিবেশীর আপত্তির কারণে হাতে পরিষ্কারের চেয়ে যন্ত্রে পরিষ্কার পছন্দ করে; আর অনেক পরিবার সিডিসির সেবার কথা জানেই না।
যা শেখার আছে
- ১.এই ব্যবসায় লাভ নির্ভর করে দিনে কয়টা ট্রিপ হয় আর ফি কত তার ওপর; স্থির কর্মী-খরচ পোষাতে নিয়মিত কাজ নিশ্চিত করুন।
- ২.সরু গলিতে ঢুকতে পারে এমন ছোট গাড়ি শহুরে পাড়ায় বেশি কাজ পায়।
- ৩.অনেক পরিবার সেবাটির কথা জানে না; প্রচার করুন, আর গাড়ির দাম ও অবচয় বাদ দিয়ে লাভ হিসাব করবেন না।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
