১২০ টাকার টিন-হাঁড়িতে শুরু, ৪২ বছরে জমি, বাড়ি আর দুই সন্তানের মাস্টার্স
দিনে ১৫ টাকার দিনমজুরি থেকে ২–৩ টাকা করে জমিয়ে ১২০ টাকা — ৩০ টাকার টিন, ৭০ টাকার হাঁড়ি আর ২০ টাকার মালে শুরু। ৪২ বছরে শহরে ৩ শতক জমি, বাড়ি আর দুই সন্তানের মাস্টার্স।
কিশোরগঞ্জের চরশোলাকিয়ার এই ব্যক্তি বিশ বছর বয়সে দিনমজুরি করতেন, মজুরি দিনে ১৫ টাকা, তা-ও রোজ কাজ জুটত না। রোজ ২–৩ টাকা করে জমিয়ে ১২০ টাকা হলে তিনি ৩০ টাকায় একটি টিন, ৭০ টাকায় একটি হাঁড়ি আর বাকি ২০ টাকায় চানাচুর, বুট, বাদাম, পেঁয়াজ ও মরিচ কেনেন — গলায় টিন ঝুলিয়ে স্কুলের সামনে ঘটি গরম বিক্রি শুরু। পাঁচ বছর পর জমানো টাকায় একটি ভ্যানগাড়ি বানান, আর তখনই পণ্যের তালিকা বাড়ে চানাচুর, সেদ্ধ বুট আর গরম ডিমে; গলায় বওয়া টিন তখনই মাল বইতে পারার মতো ব্যবসা হয়। ৪২ বছরের এই ফেরিতে শহরে ৩ শতক জমি কিনে বাড়ি উঠেছে, দুই সন্তানই মাস্টার্স শেষ করেছেন, যদিও তিনি নিজে নিরক্ষর, নিজের নামটুকুও লিখতে পারেন না। তাঁর কথায়, "অভাবের জন্য নিজেরা লেহাপড়া করতে না ফারলেও কষ্ট হইলেও ছেলেমেয়েদের ফরাইছি।" এখন তাঁর অভিযোগ, জিনিসপত্রের দামে সংসার চালানো কঠিন, আর মাস্টার্স করা ছেলেটির এখনো চাকরি হয়নি।
যা শেখার আছে
- ১.হাতের কাজটা জানা থাকলে একটা হাঁড়ি আর এক দিনের মালের দামেই ফেরির ব্যবসা শুরু করা যায় — এখানে ১২০ টাকা
- ২.আসল বদলটা এসেছে পাঁচ বছর পর ভ্যানগাড়িতে — গলায় ঝোলানো টিন তখন মাল বইতে পারার ব্যবসা হয়েছে
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
