সাড়ে ৩ লাখ টাকা ধারে শুরু, আগুনে কারখানা পুড়ে ১৬ জন নিয়ে আবার যাত্রা; এখন ৪০০ কর্মীর জুতা-স্যান্ডেল কারখানা
গাজীপুরের কুসুমকলি শু ফ্যাক্টরি ২০০৫ সালে প্রায় শূন্য পুঁজিতে শুরু হয়ে বড় ব্র্যান্ডের জন্য জুতা বানাত; ২০১২ সালে কারখানা পুড়ে যায়। এখন তাদের নিজস্ব ব্র্যান্ড ভিনকা (মূলত স্যান্ডেল ধরনের জুতা) ডিলারের মাধ্যমে সারা দেশে বিক্রি হয়।
প্রথম আলোর নভেম্বর ২০২১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকায় চাকরি করা এক নারী যুব উন্নয়ন থেকে নানা প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যবসার পথ খুঁজছিলেন। স্বামী জুতা বিপণনের কাজ করতেন, সেখান থেকে জুতা বানানোর চিন্তা আসে; কিন্তু দুজনের কেউই জানতেন না কী থেকে কী করতে হয়, পুঁজিও ছিল নামমাত্র। সাবেক কর্মস্থলের এক কর্মকর্তা এক বছরে কয়েক দফায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ঋণ দেন। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করে কুসুমকলি; ৫-৬ বছরের পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের শীর্ষ জুতা ব্র্যান্ডগুলোর জন্য জুতা বানাতে শুরু করে। কিন্তু ২০১২ সালের ২৫ জুন কারখানাটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মাত্র ১৬ জন কর্মী নিয়ে আরেকজনের কারখানায় একটু জায়গা নিয়ে আবার শুরু করেন তিনি। ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ১৪ দিন বাজার ঘুরে দেখে 'ভিনকা' নামে প্রতিষ্ঠান ও শোরুম খোলেন, যেখানে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা জুতা বিক্রি হয়। ২০১৯ সালে সেরা মাঝারি উদ্যোক্তা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান, সেই বছরই বড় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে কাজ বন্ধ করে নিজের ব্র্যান্ডে মন দেন এবং গাজীপুরের লতিফপুরে জমি কিনে কমপ্লায়েন্স কারখানা করেন। তাঁর দুই ব্র্যান্ডের মধ্যে ভিনকা মূলত স্যান্ডেল ধরনের জুতা, ড. মার্ক মেডিকেটেড জুতা। করোনায় মার্চ ২০২০ থেকে কুয়ালালামপুরের শোরুম বন্ধ, রপ্তানি আটকে যায়; তখন চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, বরিশালের মফস্বলে বিক্রি বাড়ান, জুলাই ২০২১-এ বসুন্ধরা সিটিতে শোরুম খোলেন। কারখানা কিছুদিন বন্ধ থাকলেও ৪০০ কর্মীর কাউকে ছাঁটাই না করে নিয়মিত বেতন-বোনাস দিয়েছেন, আর করোনার মধ্যে ২৫ লাখ টাকা আয়কর দিয়েছেন।
যা শেখার আছে
- ১.বড় ব্র্যান্ডের জন্য অর্ডারে জুতা বানিয়ে দক্ষতা ও পরিচিতি গড়ে তারপর নিজের ব্র্যান্ডে যাওয়া যায়।
- ২.কারখানায় আগুনের ঝুঁকি বাস্তব; আগুনে সব হারালেও অন্যের কারখানায় জায়গা ভাড়া নিয়ে ছোট দলে আবার শুরু করা সম্ভব।
- ৩.বিদেশের বাজার আটকে গেলে দেশের মফস্বল শহরে ডিলার বাড়িয়ে বিক্রি ধরে রাখা যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
