৯ হাজার লেয়ার মুরগির খামারে ডিমে ২৫ পয়সা লোকসান থেকে ১ টাকা ৪৫ পয়সা লাভ
দিনাজপুরের বিরলে চার ভাইয়ের লেয়ার খামারে দুই মাস আগে ডিমের উৎপাদন খরচ ছিল ৯ টাকা আর বিক্রি দাম ছিল তার নিচে। গরমে উৎপাদন কমে দাম বাড়ায় এখন প্রতিটিতে লাভ ১ টাকা ৪৫ পয়সা, কিন্তু খামারিরা দাম নির্ধারণ ও আমদানির চাপের কথা বলছেন।
দিনাজপুরের বিরলের বিলাইমারীতে চার ভাই মিলে একটি লেয়ার খামার চালান, যেখানে মুরগি আছে ৯ হাজার। প্রথম আলোর ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই মাস আগেও প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ ছিল ৯ টাকা, কিন্তু তখন ডিম বিক্রি করতে হতো সর্বোচ্চ ৮ টাকা ৭৫ পয়সায়; ফলে প্রতিটিতে ২৫ পয়সার মতো লোকসান হতো। এরপর আবহাওয়ার তারতম্যে উৎপাদন ৩০ শতাংশ কমে যায়, খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৯ টাকা ৮০ পয়সা। তবে ডিমের দামও বেড়েছে: প্রতিবেদনের আগের দিন খামার থেকে প্রতিটি ডিম ১১ টাকা ২৫ পয়সায় বিক্রি হয়, লাভ ১ টাকা ৪৫ পয়সা। খামারিদের একজন জানান, দিনাজপুরে ডিমের দাম ঠিক করে দুটি বড় কোম্পানি; তারা যে দাম ঠিক করে, তার চেয়ে ১৫ পয়সা কমে খামারিকে আড়তে ডিম বেচতে হয়। কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলেন, দাম ঠিক হয় ঢাকার তেজগাঁও থেকে। জেলায় লেয়ার খামার ৩৪১টি, আকার ৫০০ থেকে ৫০ হাজার মুরগি পর্যন্ত। অন্য এক খামারির ভাষ্য, গরমে মুরগি মরে যায়, ভারতীয় ডিম-বাচ্চা-ওষুধ যখন-তখন বাজারে আসে, সরকারি নীতিমালা নেই, বড় কর্পোরেটের সঙ্গে ছোট ও মাঝারি খামার পেরে উঠছে না, ফলে জেলায় প্রায় ৪০ শতাংশ খামার বন্ধের পথে।
যা শেখার আছে
- ১.ডিমের উৎপাদন খরচ প্রতিদিনের বাজারদামের সঙ্গে মিলিয়ে হিসাব রাখুন; খরচ ৯ টাকা ও দাম সামান্য কম হলেই লোকসান।
- ২.গরমে উৎপাদন কমে প্রতি ডিমের খরচ বাড়ে, তাই গরমের মাসগুলোর জন্য আলাদা হিসাব করুন।
- ৩.ছোট খামারির দর-কষাকষির ক্ষমতা কম; কোম্পানি-নির্ধারিত দামের নিচে বিক্রি করতে হতে পারে, এটি মার্জিনে ধরুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
