কোনো ফসল না হওয়া উঁচু জমিতে ৫ বিঘায় আনারস, এক বছরে ১ লাখ টাকার ফল বিক্রি
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক কৃষক উঁচু পতিত জমিতে পাঁচ বছর ধরে জলঢুপ জাতের আনারস চাষ করছেন। এ বছর দুটি প্লট থেকে ১ লাখ টাকার আনারস বেচেছেন, সঙ্গে চারা বিক্রিও চলছে।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের লোহাদি গ্রামে এক কৃষকের উঁচু জমিতে একসময় কোনো ফসলই হচ্ছিল না। আশপাশের কৃষক ও স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি সেখানে আনারস লাগান। এখন দুটি আলাদা জায়গায় মোট পাঁচ বিঘা জমিতে তিনি জলঢুপ জাতের আনারস চাষ করেন; বাগানের বয়স পাঁচ বছর। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর দুটি প্লট থেকে তিনি এক লাখ টাকার আনারস বিক্রি করেছেন। ফল বেচার পাশাপাশি বাগান থেকে নিয়মিত আনারসের চারাও বিক্রি হয়। একই এলাকার আরেক কৃষক প্রায় তিন বিঘা জমিতে ক্যালেন্ডার ও জলঢুপ জাতের আনারস লাগিয়েছেন, কারণ জমিটি ধানের উপযোগী ছিল না। দুই বছরের মাথায় এ বছর তিনি ৫০ হাজার টাকার আনারস বেচেছেন, আর প্রতিটি চারা বিক্রি হয় ৮ থেকে ১০ টাকায়। কৃষকদের কথা, আনারসে রোগবালাই কম, আর জলঢুপ জাতটি অন্যদের আগেই পাকে বলে বাজারে দাম ভালো মেলে। উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে কাপাসিয়ায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে আনারস হয়েছে এবং প্রায় ১০ হাজার কৃষক নিয়মিত চাষ করছেন। কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন, কৃষকেরা ঋণ চাইলে জমির ভিত্তিতে সরকারের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে।
যা শেখার আছে
- ১.যে উঁচু জমিতে ধান হয় না, সেখানে আনারসের মতো ফসল ভেবে দেখা যায়; আশপাশের কৃষক ও কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে শুরু করুন।
- ২.ফলের পাশাপাশি চারা বিক্রি করলে বাড়তি আয় আসে; একটি চারা ৮–১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
- ৩.আগাম জাত বাজারে ভালো দাম পায়; ঋণ লাগলে কৃষি অফিসে ৪ শতাংশ সুদের সরকারি ঋণের খোঁজ নিন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
