৩৫ হাজার টাকার ৭০ বরইগাছ থেকে ১০ একরের বাগান, ১৩ জাতের আমে মৌসুমে আয় ৮ লাখের বেশি
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে লোনা পানির অনাবাদি জমিতে এক পরিবার ফলের বাগান করেছে। বিদেশি ও বিরল জাতের আম বেচে এক মৌসুমে ৮ লাখ টাকার বেশি আয় হয়েছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর খিতাপচর গ্রামের ৬০ বছর বয়সী এক কৃষকের ছয় বছর আগেও অধিকাংশ জমি অনাবাদি ছিল; জোয়ারে লোনা পানি ঢুকত। তাঁর দুই ছেলে উচ্চমাধ্যমিকের পর চাকরি না পেয়ে বাবার জমিতেই ভবিষ্যৎ গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাত্র ৩৫ হাজার টাকায় ৭০টি বরইগাছ লাগিয়ে শুরু; সেই উদ্যোগই এখন ১০ একরের একটি খামার, প্রায় সাড়ে চার হাজার ফলগাছ। এবার তাঁদের বাগানে আম্রপালি ও বারি-৪ ছাড়াও থাই, ব্রুনেই, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ১৩ জাতের আম ছিল। ছেলেরা বলেন, সবাই একই আম চাষ করলে তাঁরা আলাদা কিছু করতে চেয়েছেন। বাজারে যেতে হয়নি; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পরিচিতদের মাধ্যমে ক্রেতারা বাগানে এসেছেন, কেউ গাছ থেকে বেছে নিয়েছেন, কেউ আগে বুকিং দিয়েছেন। মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার কেজি আম বিক্রি করে ৮ লাখ টাকার বেশি আয় হয়েছে। একই বছরে পেয়ারা প্রায় ২ লাখ, বরই ৫ লাখ, সুপারি ৪ লাখ, ডাব ১ লাখ ৬৫ হাজার ও কলা প্রায় ১ লাখ টাকার বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে গত এক বছরে আয় প্রায় ২০ লাখ টাকা। চারজন নিয়মিত শ্রমিক কাজ করেন। বারির বিজ্ঞানী বলেছেন, বেশির ভাগ বিদেশি জাত এখনো সীমিত পরিসরে চাষ হচ্ছে, বড় পরিসরে যাওয়ার আগে আরও গবেষণা দরকার।
যা শেখার আছে
- ১.সবাই যা চাষ করে তার বদলে বিরল জাতের ফল বেছে নিলে বাজারে যেতে না হয়ে ক্রেতাই বাগানে আসেন।
- ২.একটি ফসলের ওপর নির্ভর না করে আম, বরই, সুপারি, ডাব ও অন্যান্য ফল মিলিয়ে আয়ের ঝুঁকি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
- ৩.বিদেশি জাতের টিকে থাকা ও ফলন এখনো গবেষণার বিষয়; প্রথমে অল্প গাছে পরীক্ষা করা নিরাপদ।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
