১৫ বছর ধরে ফুটপাতের দোকানে মোবাইল ও ফ্যান মেরামত; পুঁজির অভাবে বড় হতে পারছেন না
চট্টগ্রামের এক প্রতিবন্ধী মেরামতকারী দোকানে কাজ করতে করতে মোবাইল ও বৈদ্যুতিক পাখা সারাইয়ের কাজ শিখে প্রায় ১৫ বছর ধরে ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানে সংসার চালাচ্ছেন। পুঁজি না থাকায় মালামাল কম, তাই দোকান বড় করতে পারছেন না।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ বছর বয়সে ট্রেন দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের এক কিশোর কোমরের নিচ থেকে দুই পা হারান। ২০০০ সালের দিকে বাবা মারা গেলে বড় ছেলে হিসেবে সংসারের দায়িত্ব তাঁর ওপর আসে। তিনি কখনো ইট ভাঙেন, কখনো সবজি বেচেন; পরে বসে করা যায় এমন কাজ খুঁজতে গিয়ে বিভিন্ন দোকানে কাজের ফাঁকে মুঠোফোন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মেরামত শেখেন—আলাদা প্রশিক্ষণের সুযোগ ছিল না। প্রায় ১৫ বছর আগে নগরের রৌফাবাদে রেললাইনের পাশে ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান দেন। সেখানে মুঠোফোন ও পাখাসহ বৈদ্যুতিক জিনিস মেরামত করে দৈনিক আয়ে মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ পাঁচজনের সংসার চালান। স্ত্রী সন্তানদের দেখাশোনা ও বাজার করে সহায়তা করেন। পাশের দোকানি ও এক নিয়মিত গ্রাহক বলেন, কাজে তিনি দ্রুত, নিখুঁত ও বিশ্বস্ত; কখনো ঠকাননি। তবে তিনি জানান, পুঁজি না থাকায় দোকান বড় করা যাচ্ছে না, মালামাল না থাকায় অনেকে আসতে চান না, আর বাসাভাড়ায় অনেক টাকা চলে যায়। সরকারের কাছ থেকে একটি ঘর পেলে তাঁর উপকার হতো বলে তিনি মনে করেন।
যা শেখার আছে
- ১.দোকানে কাজ করতে করতে মেরামতের দক্ষতা শেখা যায়; বিশ্বস্ততা ও নিখুঁত কাজ থেকেই নিয়মিত গ্রাহক তৈরি হয়।
- ২.অল্প মালামালে গ্রাহক হারানোর ঝুঁকি থাকে, তাই ছোট পুঁজি হলেও সাধারণ যন্ত্রাংশের কিছু মজুত রাখা দরকার।
- ৩.ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানে বাড়িভাড়া বড় খরচ; আয়ের হিসাবে তা আলাদা করে ধরুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
