মহাখালীর রাস্তার বার্গার কার্ট থেকে ১৪ আউটলেট, দিনে ৫,০০০ বার্গার
২০১৬ সালে তিন তরুণের রাস্তার বার্গার কার্ট বছর শেষে জায়গার কারণে বন্ধ হলেও ২০১৭ সালে দোকান খুলে তারা ছয় বছরে ১৪টি আউটলেটে পৌঁছান; দাম আর মান ধরে রাখাকেই তাঁরা মূল কারণ বলেন।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার মহাখালীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্টো দিকে রাস্তার পাশে বার্গারের কার্ট বসান তিন তরুণ — দুই স্কুলবন্ধু আর একজন আইবিএর সহপাঠী। একজনের চেনা এক ভালো বার্গার কারিগর থেকেই শুরু। শুরুতে বন্ধুদের বিনা পয়সায় বার্গার খাওয়ানো হতো; পরে তাঁরাই অফিস থেকে ফেরার পথে কিনতেন, পরিবার বা অফিসের অনুষ্ঠানের অর্ডার দিতেন। মুখে মুখে প্রচারেই কার্টের নাম মহাখালী ছাড়িয়ে ঢাকার অন্য এলাকায় ছড়ায়।
চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও জায়গাসংক্রান্ত কারণে সেই বছরের ডিসেম্বরে কার্টটি বন্ধ করতে হয়। ২০১৭ সালে মহাখালীতেই প্রথম পূর্ণাঙ্গ আউটলেট খোলেন তাঁরা, আর পুরোনো গ্রাহকেরা ফিরে আসেন। নিজস্ব হানি মাস্টার্ড সসকে জনপ্রিয়তার বড় কারণ বলা হয়; পরে গ্রাহক চাইলে সসের পরিমাণ বেছে নেওয়ার সুযোগও দেন।
ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তখন ঢাকায় ১১টি, চট্টগ্রামে ২টি ও ময়মনসিংহে ১টি আউটলেট, গড়ে দিনে ৫,০০০-এর বেশি বার্গার বিক্রি। অংশীদারদের মতে, জনপ্রিয় হওয়ার পর অনেক রেস্তোরাঁ খরচ বাঁচাতে মান কমায় — তাঁরা তা না করে দামের তুলনায় ভালো জিনিস দেওয়ায় জোর দিয়েছেন, আর সামনের সারির কর্মীদের প্রশিক্ষণে নজর রেখেছেন। শুরু থেকে তিনজনই বার্গার বানানো থেকে হিসাব-ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত নিজেরা করেছেন।
যা শেখার আছে
- ১.ছোট কার্টে কম খরচে শুরু করে চাহিদা যাচাই করুন; পূর্ণ দোকানে যান চাহিদা প্রমাণ হওয়ার পর।
- ২.জনপ্রিয় হওয়ার পর খরচ বাঁচাতে মান কমালে গ্রাহক হারাবেন — দাম আর মানের ভারসাম্যই টিকে থাকার শর্ত।
- ৩.রাস্তার কার্টের জায়গা অনিশ্চিত; জায়গা হারালে কী করবেন, আগেই ভেবে রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
