৪৫ বছর ঘোড়ার ঘানিতে ভেজালহীন সরিষার তেল, কেজি ৩০০–৩৫০ টাকা, মাসে ৩০–৪০ হাজার আয়
সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামের এক দম্পতি অভাবের মধ্যে ঘানিতে তেল ভাঙানো শুরু করেন এবং কখনো ভেজাল মেশাননি। এখন বাবা-ছেলে ব্যবসাটি চালান, আর মাসে খরচ বাদে আয় ৩০–৪০ হাজার টাকা।
সুনামগঞ্জ সদরের সীমান্তঘেঁষা এক গ্রামের ৭১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ৪৫ বছর ধরে কাঠের ঘানিতে সরিষার তেল ভাঙান। বিয়ের বছরই অভাব দেখা দিলে স্ত্রীর পরামর্শে তাঁরা এ কাজে নামেন; স্ত্রীর পরিবারে ঘানির কাজ হতো, আর এলাকায় ভেজালের অভিযোগও ছিল, তাই স্ত্রীর কথা ছিল সততা ধরে রাখতে হবে। সরিষার আবাদ, মাড়াই, শুকানো, প্রক্রিয়াজাত করা সবই স্বামী-স্ত্রী মিলে করতেন। এখন ১৫ ফুট বাই ১৫ ফুটের টিনের ঘরে ঘোড়ায় টানা ঘানিতে সকালে তিন ঘণ্টা ও বিকেলে তিন ঘণ্টা তেল ভাঙানো হয়। দুবারে ১০ কেজি সরিষায় ছয় কেজি তেল হয়, বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। বছরে তিনি ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার সরিষা কিনে রাখেন, কেজি ৭৫–৮০ টাকা দরে, ছাতক ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থেকে। নিজের কিছু জমিতেও আবাদ করেন। তেলের আয়ে ঘর হয়েছে, জমি কেনা হয়েছে, চার মেয়ের বিয়ে ও ছেলের পড়াশোনা চলেছে। এখন ছেলের সঙ্গে ব্যবসা চালান; মাসে খরচ বাদে আয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। উপজেলা প্রশাসন বিশুদ্ধ তেল উৎপাদনের জন্য তাঁকে সম্মাননা দিয়েছে।
যা শেখার আছে
- ১.ভেজালের অভিযোগ থাকা বাজারে সততা ধরে রাখলে গ্রাম ও শহর দুই জায়গায় নিয়মিত ক্রেতা তৈরি হয়।
- ২.প্রতি ১০ কেজি সরিষায় ছয় কেজি তেল ও সারা বছরের কাঁচামাল একসঙ্গে কিনে রাখার হিসাব ধরলে পুঁজি লাগে বছরে তিন-সাড়ে তিন লাখ টাকার সরিষা।
- ৩.ঘানির কাজে পুঁজি, পরিশ্রম ও ধৈর্য তিনটিই লাগে; একজনকে ঘোড়ার সঙ্গে তিন ঘণ্টা সময় দিতে হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
