ঈদ সালামির ৯০০ টাকায় ৩০০ বাচ্চা থেকে ৪টি ফিড মিল, মাসে উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ হাজার টন
চট্টগ্রামের নাহার এগ্রো গ্রুপের যাত্রা শুরু ১৯৮৬ সালে এক কিশোরের ৯০০ টাকার মুরগির খামারে; পরে মুরগির খাদ্যের দোকান, তারপর ফিড মিল। বাচ্চা মরে যাওয়া আর বার্ড ফ্লুর লোকসান পেরিয়ে এখন তাদের চারটি ফিড মিল ও বছরে এক হাজার কোটি টাকার টার্নওভার।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের মে ২০২৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে রেলওয়ের সরকারি বাসার প্রাঙ্গণে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্র ঈদ সালামির জমানো ৯০০ টাকায় ৩০০টি মুরগির বাচ্চা কিনে খামার শুরু করেন। ২০ সপ্তাহ পর দিনে ২৮০-২৯০টি ডিম আসতে থাকে, আশপাশে বিক্রি শুরু হয়। পরে গরুর খামার, ২,৪০০ ব্রয়লারের ফার্ম। ১৯৯৪ সালে সোনালী ব্যাংক থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ঋণ নেন, দুই বছরে শোধ করে আবার ৫ লাখ টাকা নেন। একপর্যায়ে ঝাউতলায় মুরগির খাদ্যের একটি দোকান দেন, খামারে মুরগি দাঁড়ায় প্রায় ৭০ হাজারে। ১৯৯৪ সালেই নাহার ডেইরি, নাহার পোল্ট্রি ও নাহার পোল্ট্রি ফিড নামে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসা শুরু হয়; ২০০২ সালে গঠিত হয় নাহার এগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেড। ধাক্কাও কম আসেনি: ২০০৪ সালে ফ্রান্স থেকে আনা ৪৬ হাজার প্যারেন্ট স্টক বাচ্চার ২৬ হাজারই মারা যায়, ব্যাংক ঋণ আটকে যায়; একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৭০ লাখ টাকা ঋণে ২০০৫ সালে মিরসরাইয়ে হ্যাচারি হয়, কিন্তু সে বছরই বার্ড ফ্লুতে বাচ্চার চাহিদা ও দাম পড়ে যায়। এখন মিরসরাই, সিরাজগঞ্জ ও যশোরে গ্রুপটির ৪টি ফিড মিলের মাসিক উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ হাজার মেট্রিক টন; মাসে উৎপাদন হচ্ছে ৩০ হাজার টন, যার ২০ শতাংশ নিজেদের খামারে লাগে, ৮০ শতাংশ বাজারে যায়। প্রায় ১০ হাজার খামারিকে বাচ্চা, খাদ্য ও কারিগরি সহায়তা দেয় তারা। ৩৫টি কারখানায় চার হাজারের বেশি মানুষ কাজ করেন, বার্ষিক টার্নওভার এক হাজার কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠাতার মতে, টিকে থাকতে পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখেন আর লাভ হলে তা আবার বিনিয়োগ করেন।
যা শেখার আছে
- ১.মুরগির খাদ্যের দোকান ও নিজের খামার থেকে ফিড মিলে যাওয়া যায়; নিজের খামারের চাহিদা (এখানে ২০%) মিলের একটি নিশ্চিত ক্রেতা হয়।
- ২.ছোট ঋণ সময়মতো শোধ করলে পরের বড় ঋণ পাওয়া সহজ হয়; কিন্তু বার্ড ফ্লুর মতো রোগে চাহিদা হঠাৎ পড়ে যায়, তাই নগদ মজুত রাখুন।
- ৩.লাভ পুনর্বিনিয়োগ ও পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার মূল কৌশল।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
