৫ হাজার টাকা ও একটি পুরোনো সেলাই মেশিন থেকে ২০ বছরে কোটি টাকার নকশিকাঁথা-হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান
জামালপুরের এক নারী ২০০০ সালে পাঁচ হাজার টাকা ও একটি পুরোনো সেলাই মেশিন নিয়ে ‘দীপ্ত কুটির’ শুরু করেন। এখন তাঁর প্রতিষ্ঠানে ৪২ জন কর্মী, আর তিনি প্রায় পাঁচ হাজার নারীকে কাজ শিখিয়েছেন।
জামালপুরের এক নারী ১৯৯০ সালে বিয়ের পর স্বামীর সীমিত আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। স্বামীকে সহযোগিতা করতে ঢাকায় থাকার সময় যুব উন্নয়নের সেলাই, পোশাক তৈরি, ব্লক বাটিক ও হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ নেন। ২০০০ সালে স্বামীর বদলির সুবাদে জামালপুরের ঢাকাইয়া পট্টি এলাকায় এসে পাঁচ হাজার টাকার পুঁজি ও একটি পুরোনো সেলাই মেশিন নিয়ে ‘দীপ্ত কুটির’ গড়ে তোলেন। ২০ বছরে সেটি জামালপুরের নকশিকাঁথা ও অন্যান্য হস্তশিল্পের কোটি টাকার প্রতিষ্ঠান হয়েছে; পুঁজি এখন কোটি টাকার বেশি। প্রতিষ্ঠানে ৪২ জন কর্মী কাজ করেন, বেশির ভাগ নারী। নকশিকাঁথা, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শাড়ি, বিছানার চাদর, শাল, বালিশের কভার, ওয়ালম্যাট ইত্যাদি তৈরি হয়। পণ্য জামালপুর, ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্রি হয়, আর নেপাল, চীন, দিল্লি, কলকাতা ও শিলিগুড়িসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি যায়। তিনি এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার নারীকে সেলাই, নকশা, রং ও বাটিক শিখিয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে কাজ নিয়ে গ্রামের নারীদের দিয়ে করান, এমন এক উদ্যোক্তার মাসে আয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা; গ্রামের অন্য নারীরা ঘরে বসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেন। ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট ও মনিপুরে একটি শোরুম করেছেন, আর জামালপুর শহরে ৩ শতাংশ জমিতে ছয়তলা ভবন তৈরি করছেন, যেখানে থাকবে প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও বড় শোরুম। তাঁর ভাষায়, তাঁর বড় মূলধন ছিল সততা ও নিষ্ঠা।
যা শেখার আছে
- ১.প্রশিক্ষণ নিয়ে অল্প পুঁজিতে (৫ হাজার টাকা ও একটি মেশিন) শুরু করা যায়; দক্ষতাই আসল মূলধন।
- ২.গ্রামের নারীদের ঘরে বসে কাজ দিলে উৎপাদন বাড়ে ও খরচ সামলানো যায়; কাজ শিখিয়ে দিলে তাঁরাই পরে নিজেরা উদ্যোক্তা হন।
- ৩.দেশে-বিদেশে পাইকারি বিক্রি একাধিক বাজারে ঝুঁকি ভাগ করে; এখানে নেপাল, ভারত ও চীনেও পণ্য গেছে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
