৫ হাজার টাকায় শুরু, অংশীদারের প্রতারণায় সব হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো; ২০২৪-২৫ সালে বিক্রি ৭৬ লাখ ৫০ হাজার, আয় ১৫ লাখ
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার এক নারী ২০১১ সালে ৫ হাজার টাকায় হস্তশিল্পের পোশাক বেচা শুরু করেন। অংশীদারের প্রতারণায় ২০১৬ সালে সর্বস্ব হারালেও ২০১৮ সালে নিজের দোকান দিয়ে এখন ১২০ জন নারীকে মজুরিতে কাজ দেন।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার নুরুন নাহার তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে সুই-সুতা কিনে কাজ শেখা শুরু করেন। মজুরিতে হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠানে কাজ করেই ২০০৫ সালে এসএসসি পাস করেন। ২০১১ সালে স্বামীর অসুস্থতা ও চাকরি হারানোয় সংসারে সংকট এলে মা-বাবার দেওয়া গয়না বিক্রি করে ৫ হাজার টাকায় কিছু হস্তশিল্পের পোশাক কিনে বাড়ি বাড়ি বিক্রি শুরু করেন। পরে কিস্তিতে সেলাই মেশিন কিনে অর্ডার অনুযায়ী পোশাক বানান। ২০১৬ সালে এক প্রতিবেশীর পরামর্শে যৌথ ব্যবসা শুরু করে ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেন। ব্যবসা ভালো চললেও অংশীদার গোপনে দোকানের চুক্তিপত্র নিজের নামে করে সব পুঁজি ও পণ্য আত্মসাৎ করেন; তিনি সর্বস্বান্ত হন। হাল না ছেড়ে ২০১৮ সালে আবার ব্যাংক ঋণ নিয়ে মুক্তাগাছায় ‘কারুণ্য হস্তশিল্প’ নামে নিজের দোকান দেন। সব ঋণ শোধ করে ৫ শতাংশ জমি কিনে দোকান ও বাসা বানান। এখন ময়মনসিংহ নগরের বাতিরকল সড়কে শোরুম ও মুক্তাগাছায় কারখানা, যেখানে নকশিকাঁথা, শাড়ি, থ্রি-পিস, ওড়নাসহ হাতের তৈরি পণ্য হয়। কারখানায় ১২০ জন নারী মজুরিভিত্তিতে কাজ করেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনি ৭৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেন; ব্যয় বাদে বছরে আয় ১৫ লাখ টাকা। তিনি ১ হাজার ২০০-র বেশি নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং এ বছর নারী দিবসে অর্থনৈতিক সাফল্যের শ্রেণিতে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।
যা শেখার আছে
- ১.যৌথ ব্যবসায় দোকানের চুক্তিপত্র ও মালিকানা লিখিত ও সবার নামে আছে কি না আগে দেখে নিন; এখানে অংশীদার গোপনে চুক্তি নিজের নামে করে নিয়েছিলেন।
- ২.সামান্য পুঁজিতে শুরু করে অর্ডার অনুযায়ী বানালে ঝুঁকি কম থাকে, আর ডিজাইনের সুনাম ধীরে ধীরে ক্রেতা বাড়ায়।
- ৩.ঋণ নিয়ে ব্যবসা করলে ঋণ শোধের আগে বড় সম্প্রসারণে যাবেন না; এখানে আগে সব ঋণ শোধ হয়েছে, তারপর জমি কেনা হয়েছে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
