দিনে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই, মজুরিই ৩ হাজার — দিনের আয় তা-ও ছোঁয় না
মাইজদীর এই ওয়েল্ডিং কারখানা খোলা থাকে নয় ঘণ্টা, তার প্রায় পাঁচ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না। তিন কর্মীর মজুরি দিনে ৩,০০০ টাকা, অথচ দিনের কাজ প্রায়ই ৩,০০০ টাকায় পৌঁছায় না।
নোয়াখালীর মাইজদীর কলেজ রোডের এই ধাতব ও ওয়েল্ডিংয়ের কারখানা খোলে সকাল ১০টায়, বন্ধ হয় সন্ধ্যা ৭টায়। এই নয় ঘণ্টার মধ্যে প্রায় পাঁচ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না, আর বিদ্যুৎ না থাকলে যন্ত্র বসে থাকে। তবু তিন কর্মীর মজুরি বাবদ দিনে ৩,০০০ টাকা গুনতেই হয়, সঙ্গে টুকিটাকি খরচ; মালিক বলছেন দিনের কাজ অনেক সময় ৩,০০০ টাকাও হয় না। তাঁর ভাষায়, "লস টানতে টানতে অবস্থা কাহিল।" সেনবাগের আরেকটি ইস্পাত ও ওয়েল্ডিং কারখানায় ২৭ জন কর্মী, সন্ধ্যা ৭টায় বাধ্যতামূলক বন্ধ আর ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং নিয়ে তার মালিক বুঝে উঠতে পারছেন না মজুরি আর ভাড়া আসবে কোথা থেকে। বিতরণ সংস্থার হিসাবেও ঘাটতি স্পষ্ট — দিনে চাহিদা ৩২ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ ১১–১৪, সন্ধ্যায় ৩৬-এর বিপরীতে প্রায় ১৭ মেগাওয়াট, আর প্রতিটি ফিডারে দিনে বিদ্যুৎ মেলে ১০–১২ ঘণ্টা।
যা শেখার আছে
- ১.ঢালাই-গ্রিলের পুরো কাজটাই বিদ্যুতের ওপর — বিদ্যুৎ গেলে যন্ত্র বন্ধ হয়, কিন্তু মজুরির ঘড়ি বন্ধ হয় না
- ২.কর্মী যত বেশি, লোডশেডিংয়ের ক্ষতিও তত বড় — বাইরের সরবরাহ অনিয়মিত হলে স্থায়ী খরচ কম রাখাই একমাত্র রক্ষা
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
