১৪০ শতক জমিতে আমের বাগান ও নার্সারি; ৯ লাখ খরচে এক বছরে আয় প্রায় ২ লাখ
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে এক কলেজছাত্র ২০২৪ সালে ইজারা নেওয়া জমিতে ৪০ জাতের আমের বাগান ও নার্সারি করেন। প্রথম মৌসুমে আম ও কলমের চারা বেচে আয় প্রায় দুই লাখ টাকা হওয়ার আশা তাঁর।
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী গ্রামের ২২ বছর বয়সী এক তরুণ মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন। বাবার আমের বাগানের স্বপ্ন পূরণে ২০২৪ সালে বাবার উৎসাহ ও আর্থিক সহায়তায় ৫ লাখ টাকায় ১৪০ শতক জমি ইজারা নেন। এরপর প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে আমের বাগান ও নার্সারি গড়ে তোলেন। ঢাকার গাবতলীতে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ৪০ জাতের চারা সংগ্রহ করেছেন; দেশি হাঁড়িভাঙা ও আম্রপালির পাশাপাশি জাপান, চীন, থাইল্যান্ড, ব্রুনেই ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতও আছে। এখন বাগানে চার শতাধিক গাছ। গত ফেব্রুয়ারিতে গাছে প্রথম ফল আসে, গত মাস থেকে পাকা আম বিক্রি শুরু। এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ মণ বিষমুক্ত আম বেচে উৎপাদন ব্যয় বাদে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ হয়েছে। মৌসুম শেষে বাকি আম ও কলমের চারা বেচে আরও প্রায় এক লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন, অর্থাৎ মোট প্রায় দুই লাখ। বেশির ভাগ আম বাগান থেকেই বিক্রি হয়ে যায়; চাঁদপুর, ঢাকা, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের এলাকাতেও চাহিদা আছে। আগামী মৌসুমে ৩০০ মণের বেশি আম পাওয়ার আশা। আম ও চারা বিক্রির টাকায় তাঁর লেখাপড়ার খরচ চলে, পরিবারেও সচ্ছলতা এসেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন।
যা শেখার আছে
- ১.ফলের সঙ্গে কলমের চারাও বিক্রি করলে এক জমি থেকে দুই ধরনের আয় আসে।
- ২.ইজারার ৫ লাখ ও বাগান তৈরির প্রায় ৯ লাখের তুলনায় প্রথম মৌসুমের আয় ছোট; লাভের জন্য কয়েক মৌসুম ধরে হিসাব করুন।
- ৩.বাগানে ক্রেতা সরাসরি আসেন বলে পরিবহন ও বাজারজাতের খরচ কম; কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিলে ভুল কমে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
