বর্গা জমিতে নার্সারি: শীতের পাঁচ মাসে ৩ লাখ টাকার বেশি বিক্রির আশা, অলংকারকাঠিতে দেড় শতাধিক নার্সারি
পিরোজপুরের নেছারাবাদের অলংকারকাঠি গ্রামে ২০ বছর ধরে নার্সারিতে যুক্ত এক ব্যবসায়ী এখন বর্গা জমিতে নিজের নার্সারি চালান। নভেম্বর থেকে মার্চ ফুলের মৌসুমে তিনি তিন লাখ টাকার বেশি বিক্রির আশা করছেন।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ৩৮টি গ্রামে ৫০০ হেক্টর জমিতে কয়েক শ নার্সারি গড়ে উঠেছে, আর স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের অলংকারকাঠি গ্রাম নার্সারি গ্রাম হিসেবে পরিচিত। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে এক নার্সারি ব্যবসায়ী জানান, তিনি ২০ বছর ধরে এই পেশায়। একসময় অন্যের নার্সারিতে কাজ করতেন, এখন অন্যের জমি বর্গা নিয়ে নিজের নার্সারি করেছেন। সেখানে ১৫ থেকে ২০ ধরনের ফুল, ফল ও কাঠের চারা আছে। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ফুলের ভরা মৌসুম; এই পাঁচ মাসে তিনি তিন লাখ টাকার বেশির ফুল ও চারা বিক্রির আশা করছেন। গ্রামে সড়কের দুই পাশে দেড় শতাধিক নার্সারি আছে, প্রতিটিতে ৫ থেকে ৭ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন, ফলে হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এক নারী শ্রমিক জানান, নার্সারিতে কাজ করে দিনে ২০০ টাকা মজুরি পান এবং এই বাড়তি আয়ে সংসার ভালো চলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর শীতে এলাকায় প্রায় শতকোটি টাকার ফুল ও ফুলের চারা বিক্রি হবে। দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসেন, খুচরা ও পাইকারি দুই ধরনের বেচাকেনা চলে। একজন প্রবাসী ক্রেতা জানান, ঢাকায় দাম বেশি বলে তিনি এখানে এসেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, এই পেশায় ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ যুক্ত।
যা শেখার আছে
- ১.নিজের জমি না থাকলেও বর্গা নিয়ে নার্সারি শুরু করা যায়; এই ব্যবসায়ী প্রথমে অন্যের নার্সারিতে কাজ শিখে তবে নিজে শুরু করেছেন।
- ২.নার্সারির বিক্রি মৌসুমভিত্তিক; নভেম্বর থেকে মার্চের পাঁচ মাসেই বেশির ভাগ বিক্রির আশা, তাই বাকি মাসের জন্য ফল ও কাঠের চারা রাখা কাজে আসে।
- ৩.একই এলাকায় অনেক নার্সারি থাকলে দূর থেকে ক্রেতা আসে এবং খুচরা ও পাইকারি দুই ধরনের বিক্রি চলে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
