১০ হাজার টাকায় ফেসবুক পেজ; ৪৫ হাজার টাকা লোকসানের পর এখন মাসে ৩–৪ লাখ টাকার বিক্রি
রংপুরের এক নারী ২০২১ সালে ফেসবুক পেজে হাতের সেলাইয়ের পোশাক বিক্রি শুরু করেন। প্রতারণায় প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লোকসান খেলেও ২০২৩ সালে নতুন করে শুরু করে এখন মাসে ৩–৪ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করেন এবং ৫০ জনের বেশি নারী তাঁর সঙ্গে কাজ করেন।
রংপুর নগরের এক নারী অসুস্থতা ও অভাবের মধ্যে ঘরে বসে কিছু করার ইচ্ছা নিয়ে ছিলেন। করোনার সময় কিস্তিতে মুঠোফোন কেনার পর ইউটিউব দেখে সুই-সুতার নকশা শেখেন এবং স্বামীর জন্য একটি পাঞ্জাবি বানান। মানুষ প্রশংসা করলে ২০২১ সালে ‘হাতের ছোঁয়া’ নামে ফেসবুকে পেজ খোলেন; প্রায় ১০ হাজার টাকা পুঁজিতে কাপড়, সুই-সুতাসহ ছোট সরঞ্জাম কেনেন। শুরুর দিকে ইতালিপ্রবাসী এক নারী প্রায় আড়াই লাখ টাকার বাটিক ও হাতের কাজের জামার অর্ডার দেন। কিন্তু একজন আত্মীয়ের মাধ্যমে প্রতারিত হয়ে নিম্নমানের কাপড়ে কাজ হওয়ায় পণ্যগুলো বাতিল হয় এবং প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লোকসান হয়। এরপর তিনি ঠিক করেন, যা করবেন নিজের সিদ্ধান্তে। ২০২৩ সালে ইউটিউব দেখে নকশা আঁকা ও সূক্ষ্ম সেলাইয়ের কাজ রপ্ত করে আবার শুরু করেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, নারায়ণগঞ্জসহ নানা জায়গার ক্রেতারা অর্ডার দেন; ক্রেতার চাহিদামতো নকশা করে বিক্রি হয়। এখন পাঞ্জাবি, কামিজ, ফতুয়া, টু-পিস, নকশিকাঁথা মিলিয়ে মাসে প্রায় ৩–৪ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়, তাঁর মাসিক আয় ৩০–৪৫ হাজার টাকা। স্বামী কাপড় এনে দেওয়া, প্যাকেজিং ও কুরিয়ারে পাঠানোর কাজে সাহায্য করেন। গ্রামের অর্ধশতাধিক নারী ফাঁকে ফাঁকে সেলাই করে মাসে ২–৫ হাজার টাকা আয় করেন।
যা শেখার আছে
- ১.বড় অর্ডারে কাঁচামাল আত্মীয়ের ভরসায় না ছেড়ে নিজে মান যাচাই করুন; এক ভুলে এখানে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা গেছে।
- ২.লোকসানের পর দক্ষতা (নকশা ও সূক্ষ্ম সেলাই) বাড়িয়ে নতুন করে শুরু করা সম্ভব।
- ৩.আশপাশের নারীদের কাজ ভাগ করে দিলে চাহিদা সামলানো যায় এবং তাদেরও আয় হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
