৩ হাজার টাকায় শুরু, এখন দেড় লাখ রঙিন মাছ আর মাসে ৫০ হাজার
করোনায় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকতে ৩,০০০ টাকা আর কিছু অটো ব্রিড মাছ দিয়ে ঘরে শুরু। ৪৫ শতকের পুকুরের মাছ পাঁচ মাস পর বিক্রি হয় বড় লাভে; এখন ৩ পুকুর, ১৮ চৌবাচ্চা, মাসে আয় ৪৫–৫০ হাজার টাকা।
করোনায় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার সময় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী রঙিন মাছ চাষের একটি ভিডিও দেখে ৩,০০০ টাকা পুঁজি আর কিছু অটো ব্রিড মাছ নিয়ে ঘরেই শুরু করেন। প্রথম সমস্যা মাছ নয়, ক্রেতা — আশপাশে আদৌ কেউ কিনবে কি না তা তিনি জানতেন না। পরিচিত একজন খবর পেয়ে এক দফা মাছ কিনে নিলে বোঝা যায় চাহিদা আছে, আর অল্প দিনেই তিনি চাহিদা মেটাতে পারছিলেন না। বড় করার কথায় পরিবার বাধা দেয়, কারণ বড় খামার মানে বড় ক্ষতির ঝুঁকিও; তাই পরিচিত একজনের কাছ থেকে ২০,০০০ টাকা ধার নিয়ে কই কার্প আর কমেট আনেন এবং কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই ইউটিউব দেখে নিজেই রেণু উৎপাদন শেখেন। এরপর ৪৫ শতকের একটি পুকুরে মাছ ছাড়েন, পাঁচ মাস পর সেই মাছ বিক্রি হয় বড় লাভে — তাতেই পরিবার রাজি হয়। এখন তাঁর ৩টি পুকুর আর ১৮টি চৌবাচ্চায় ১৫–২০ জাতের প্রায় দেড় লাখ রঙিন মাছ, মাসে আয় ৪৫,০০০–৫০,০০০ টাকা। তাঁর হিসাবে দেশে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার রঙিন মাছ জাপান ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানি হয়।
যা শেখার আছে
- ১.বড় করার আগে দেখে নিন আশপাশে আদৌ কেউ কিনবে কি না — পরিচিত একজনের কাছে এক দফা বিক্রিই তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছিল স্থানীয় বাজার আছে
- ২.প্রতিবার বাইরে থেকে মাছ না কিনে নিজেই রেণু উৎপাদন শেখাটাই ৩ হাজার টাকার শখকে সরবরাহের ব্যবসায় বদলে দিয়েছে
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
