মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি
ফিরে যান
যা কাজ করেছেআমার সংবাদের প্রতিবেদনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের একজন মাছ ও পোনাচাষি

পোনা কিনতেই যেত খরচের এক-তৃতীয়াংশ, নিজে পোনা করে বছরে আয় ১০–১২ লাখ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের এক মাছচাষি সাত-আট বছর কেনা পোনায় চাষ করে তেমন লাভ পাননি। প্রশিক্ষণ নিয়ে দুই বছর ধরে নিজেই ডিম থেকে পোনা করছেন, বাড়তি পোনা বিক্রি করে খরচ উঠে আসছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের এই চাষি প্রায় এক দশক মাছ চাষে আছেন। শুরুতে অন্যের পুকুর লিজ নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে পোনা কিনে চাষ করতেন। আমার সংবাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর উৎপাদন খরচের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই চলে যেত পোনা কিনতে; সাত-আট বছর এভাবে চাষ করে লাভের মুখ তেমন দেখেননি। খরচের তিনটি বড় খাত ছিল পুকুর লিজ, পোনা, আর পরিবহন-খাবার-শ্রমিক।

দুই বছর আগে এক বেসরকারি সংস্থার মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে দুই দিনের প্রশিক্ষণ নেন, কিছু উপকরণও পান। এরপর থেকে নিজেই মাছের ডিম কিনে পোনা উৎপাদন শুরু করেন। ডিম এনে আঁতুড় পুকুরে ১০ থেকে ১৫ দিন নার্সিং করে লালন পুকুরে সরান, সেখানে দেড় থেকে দুই মাস রেখে নিজের পুকুরে ছাড়েন বা পোনা হিসেবে বিক্রি করেন।

এতে পোনা কেনার খরচ কমেছে, আর বাড়তি পোনা অন্য চাষিদের কাছে বিক্রি করে মোট খরচ প্রায় উঠে আসে। এখন তিনি ২০ বিঘার পাঁচটি পুকুরে মাছ চাষ করেন, বছরে আয় প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা; দুই ছেলে নিয়মিত সাহায্য করেন। স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তার মতে, জেলায় ফ্যাটেনিং পদ্ধতিতে মাছ চাষ বাড়ায় পোনার চাহিদাও বেড়েছে।

যা শেখার আছে

  1. ১.খরচের কোন খাতে সবচেয়ে বেশি টাকা যাচ্ছে তা আলাদা করে দেখুন; এখানে পোনাই ছিল এক-তৃতীয়াংশ, সেটা নিজে করাতেই লাভ ফিরেছে।
  2. ২.নিজের চাহিদার চেয়ে বেশি পোনা করলে বাড়তিটা বিক্রি করে চাষের খরচ তোলা যায়, যদি এলাকায় পোনার চাহিদা থাকে।
  3. ৩.আঁতুড় ও লালন পুকুরের কৌশল প্রশিক্ষণ ছাড়া জানা কঠিন; দুই দিনের প্রশিক্ষণই এখানে মোড় ঘুরিয়েছে।

যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচনা

এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।