৪০ হাজার খরচে ৭০০ ঝিনুক, ৪০০ মুক্তা বিক্রি ৮০ হাজারে; কিন্তু স্থানীয় বাজার নেই
পটুয়াখালীর এক যুবক ইউটিউবে দেখা এক মুক্তাচাষিকে ডেকে এনে প্রশিক্ষণ নেন; প্রথম বছরে খরচের দ্বিগুণে মুক্তা বেচলেও ক্রেতা মূলত ভারতের দু-একজন ব্যবসায়ী।
পটুয়াখালীর এক ৩০ বছরের যুবক, যিনি মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোননি এবং চাকরি বা ব্যবসা কোনোটাই জোটেনি, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ইউটিউবে লালমনিরহাটের এক মুক্তাচাষির ভিডিও দেখেন। তাঁর মোবাইল নম্বর জোগাড় করে যোগাযোগ করলে সেই চাষি বাড়িতে এসে হাতে-কলমে শিখিয়ে যান। বাড়ির পাশের ৩০ শতাংশের পতিত পুকুর চুন দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে খাল-বিল থেকে ৭০০ ঝিনুক সংগ্রহ করেন, অস্ত্রোপচার করে ইমেজ বসিয়ে জালের প্যাকেটে নয়টি করে পুকুরে ভাসিয়ে রাখেন। ঝিনুকের খাবার বলতে শুধু গোবর। নকশা মুক্তা নয় মাসে, গোল মুক্তা প্রায় আড়াই বছরে হয়। প্রথম বছর দূর থেকে প্রশিক্ষক আনায় খরচ বেশি পড়ে; পুকুর তৈরি ও ঝিনুক সংগ্রহসহ প্রায় ৪০ হাজার টাকা। নয় মাস পর ৭০০ ঝিনুক থেকে ৪০০টি নকশা মুক্তা পেয়ে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এখন তিনটি পুকুরে আট হাজার ঝিনুক। কিন্তু প্রতিবেদনের বড় সতর্কতা বাজার: ডিজাইন মুক্তার চাহিদা মূলত বিদেশে, বিশেষ করে ভারতে; ভারতের দু-একজন ব্যবসায়ী এসে কিনে নেন, স্থানীয় বাজার এখনো গড়ে ওঠেনি। তাই গ্রামের অনেক যুবক আগ্রহী হলেও চাষ বাড়ছে না।
যা শেখার আছে
- ১.অস্ত্রোপচার করা সব ঝিনুকে মুক্তা হয় না (এখানে ৭০০-তে ৪০০টি); হিসাব করার সময় এই হার ধরে নিন।
- ২.ক্রেতা হাতে গোনা কয়েকজন হলে তাঁদের ওপর নির্ভরতা বড় ঝুঁকি; বাড়ানোর আগে নিয়মিত বিক্রির পথ খুঁজুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
