ছাদের হাউসে দুটি ঝিনুক থেকে শুরু, এক বছরে ২ লাখ টাকার মুক্তা বিক্রি
যশোরের অভয়নগরের এক কলেজছাত্র করোনাকালে ইউটিউব দেখে ছাদের হাউসে মুক্তা চাষ শুরু করেন; ৩০–৪০ হাজার টাকা খরচে এক বছরে ২ লাখ টাকার মুক্তা বিক্রি করেছেন।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার একতারপুর গ্রামের এক তরুণ ২০২০ সালে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় ইউটিউবে ঝিনুকে মুক্তা চাষ দেখে বাড়ির ছাদের পানির হাউসে দুটি ঝিনুক দিয়ে পরীক্ষা করেন। সফল হয়ে খাল-বিল থেকে প্রায় ৫০০ ঝিনুক সংগ্রহ করেন; ৩০০টি ছাদের হাউসে, ২০০টি আত্মীয়ের পুকুরে রাখেন। ২০২২ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে তিন দিনের প্রশিক্ষণ নেন, নওগাঁ ও কোটচাঁদপুরের খামার দেখে বছরের শেষে নিজের খামার গড়েন। ঝিনুকে নকশা করা ইমেজ ঢুকিয়ে ৭–১১ মাস পানিতে রেখে মুক্তা তোলেন। এ গ্রেডের প্রতিটি মুক্তা পাইকারি ৫০০–৬০০ টাকা, সব মিলিয়ে দাম ১০০–১৫০ থেকে ৬০০ টাকা; ক্রেতা মূলত নকশার কাজ করা জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান। তাঁর কথায়, ‘এক বছরে দুই লাখ টাকার মুক্তা বিক্রি করেছি। ওসব মুক্তা তৈরি করতে সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছিল।’ এর বাইরে পুকুর ভাড়া ১৫ হাজার টাকা। তিনি ইমেজ, নেট ও ঝিনুকও বিক্রি করেন। খামারে ১৯ জন কর্মী দিনে ৪০০–৫০০ টাকা মজুরিতে কাজ করেন। দুটি পুকুরে সাড়ে সাত হাজার এবং ছাদে তিন হাজার ঝিনুক আছে; এগুলো থেকে ছয় লাখ টাকার মুক্তা বিক্রির আশা করছেন।
যা শেখার আছে
- ১.দুটি ঝিনুক দিয়ে পরীক্ষা, তারপর প্রশিক্ষণ, তারপর বড় পরিসর: ধাপে ধাপে এগোলে খরচের ঝুঁকি কম থাকে।
- ২.মুক্তার ক্রেতা (জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান) ঠিক থাকলেই চাষ লাভজনক হয়; বিক্রির পথ আগে নিশ্চিত করুন।
- ৩.ইমেজ, নেট, ঝিনুক বিক্রির মতো পার্শ্ব-আয় মূল আয়ের ওঠানামা সামলাতে সাহায্য করে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
