মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি
ফিরে যান
যা শিখেছিটাঙ্গাইলের মধুপুরের এক আনারসচাষি

মধুপুরে ২ একরে আনারস, লোকসান ৫০ হাজার টাকা; চাষির হাতে ১০–১৫ টাকা, শহরে ৪০–৫০

টাঙ্গাইলের মধুপুরের এক আনারসচাষি গত বছর দুই একরে আনারস করে ৫০ হাজার টাকা লোকসান গুনেছেন। জিআই স্বীকৃতি পেলেও চাষিরা পাইকারি হাটে ১০–১৮ টাকায় ফল বেচছেন, অথচ ঢাকায় তা বিক্রি হয় ৪০–৫০ টাকায়।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের মধুপুরে শুধু এ উপজেলাতেই ৬,৬৩০ হেক্টরে আনারস চাষ হয়, যার প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্যালেন্ডার (জায়ান্ট কিউ) জাত। জলছত্র বাজার থেকে দিনে ১০০-র বেশি ট্রাক আনারস যায়, প্রতিটিতে ৩ থেকে ১০ হাজার ফল। কিন্তু চাষিরা প্রতিটি আনারস পান ১০–১৮ টাকা, আর ঢাকা ও বড় শহরে তা বিক্রি হয় ৪০–৫০ টাকায়। মধুপুরের এক চাষি জানান, গত বছর তিনি দুই একরে আনারস লাগিয়ে ৫০ হাজার টাকা লোকসান করেছেন। তাঁর কথায়, অতিরিক্ত রাসায়নিক না দিলে ফল বড় হয় না, রংও আসে না, অথচ বাজারে বড় আর উজ্জ্বল ফলেরই চাহিদা। বাজার সমিতির এক নেতার হিসাবে, ০.৩ একরে ৮,০০০ আনারস হয়; ১০ টাকা দরে তা ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু ক্যালেন্ডার জাত পাকতে ১৮ মাস লাগে, আর শ্রম, সার ও কীটনাশকে খরচ প্রায় ৫০ হাজার টাকা; ফলে চাষির বছরে থাকে ৩০–৪০ হাজার টাকা। আরেক তরুণ চাষি বলেছেন, এ বছর ফলন বেশি হলেও আয় গত বছরের চেয়ে কম; সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই বলে কাটার সঙ্গে সঙ্গে বেচতে হয়। লাল মাটির উঁচু জমিতে অন্য ফসল ভালো হয় না বলে চাষিরা আনারস ছাড়তেও পারছেন না। জিআই স্বীকৃতি মিললেও চাষিদের মতে তাঁদের অবস্থা বদলায়নি।

যা শেখার আছে

  1. ১.আনারসের এক মৌসুম ১৮ মাস পর্যন্ত লম্বা; পুরো সময়ের খরচ ধরে, ফলপ্রতি কত পেলে লাভ হবে তা আগে হিসাব করুন।
  2. ২.মৌসুমের চূড়ায় সবাই একসঙ্গে বেচলে দাম পড়ে যায়; সংরক্ষণ, সরাসরি বিক্রি বা দল বেঁধে বাজারজাতের পথ খুঁজুন।
  3. ৩.শুধু আকার বাড়াতে অতিরিক্ত রাসায়নিক দেওয়া খরচ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি দুটোই বাড়ায়; মানের জন্য দাম দেয় এমন ক্রেতা খুঁজুন।

যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচনা

এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।