মায়ের গয়না বেচে ৩০০ কোয়েল, এখন সাড়ে ৩ হাজার; দিনে ২,৪০০ ডিম, মাসে আয় ১ লাখ
মাদারীপুরের কালকিনির এক শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণ কম বেতনের চাকরি ছেড়ে ২০১৬ সালে কোয়েল পালন শুরু করেন; নিজেই বাচ্চা ফুটিয়ে ঢাকার নিমতলীতে বিক্রি করেন।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ২৯ বছরের এক তরুণের জন্ম থেকেই বাঁ পা ও কোমর বাঁকা। দাখিল পাস করে একটি মাদ্রাসায় চাকরি নিলেও বেতনে সংসার চলত না; ২০১৬ সালে চাকরি ছেড়ে দেন। শখের বশে হাট থেকে ছয়টি কোয়েল কিনে তিন মাস পালেন, পরে অন্যের মুঠোফোনে ইউটিউবে কোয়েল পালনের ভিডিও দেখে বাণিজ্যিক খামারের কথা ভাবেন। মায়ের পরামর্শে তাঁর স্বর্ণালংকার বিক্রি করে ঢাকার নিমতলী থেকে ৩০০ কোয়েল কিনে আনেন। সেই ৩০০ থেকে খামারে এখন সাড়ে তিন হাজার কোয়েল। দিনে গড়ে ২ হাজার ৪০০ ডিম হয়, প্রতিটি আড়াই টাকায় বিক্রি। একটি যন্ত্র কিনে ১৬ দিন পরপর ১ হাজার ৪৮৫টি বাচ্চা ফোটান, আর দুই মাস পরপর নিমতলীতে গিয়ে ৩০০ কোয়েল ৪৫ টাকা দরে বেচেন। পাশাপাশি বাজিগর, অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘু ও দেশি-বিদেশি কবুতর জোড়া ৩ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন এবং তিনটি পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করেন। খামারে তিনজন কর্মচারী। তাঁর হিসাবে সব মিলিয়ে মাসে এক লাখ টাকা আয় হয়। সরকারি সহায়তা তখনো পাননি; সহজ শর্তে ঋণ পেলে গবাদিপশু যোগ করতে চান।
যা শেখার আছে
- ১.কয়েকটি পাখি দিয়ে কয়েক মাস পরীক্ষা করে তারপর বড় বিনিয়োগ করলে ঝুঁকি কমে।
- ২.নিজে বাচ্চা ফোটালে বাচ্চা কেনার খরচ বাঁচে এবং বাচ্চা বিক্রিও আয়ের আরেকটি পথ হয়।
- ৩.কোয়েলের ডিমের দাম কম (প্রতিটি আড়াই টাকা); আয় টেকাতে ডিম, বাচ্চা, পাখি মিলিয়ে কয়েকটি পণ্য রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
