ধানমন্ডির ছোট তেহারির দোকান: দিনে ২–২.৫ লাখ টাকার বিক্রি নেমেছে ৭০–৮০ হাজারে
ধানমন্ডির একটি ছোট তেহারির দোকান ১৯৮৭ সালে শুরু হয়, কর্মচারী থেকে মালিক হন একজন। ২০১০–১১ সালের দিকে দিনে দুই-আড়াই লাখ টাকার বিক্রি হলেও এখন নকল-নামের দোকানের ভিড়ে তা ৭০–৮০ হাজারে নেমেছে।
ধানমন্ডির ১৩ নম্বরে একটি ছোট তেহারির দোকান ১৯৮৭ সালে চালু হয়। প্রথম মালিকের পরের বছর একজন কর্মচারী হিসেবে যোগ দেন; ১৯৯১ সালের দিকে মালিক বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে দোকান ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা সফল হয়নি, তাই ওই কর্মচারীকে অস্থায়ী দায়িত্ব দেন। ১৯৯২ সালে অগ্রিম টাকা পরিশোধ করে তিনি নিজেই দোকান চালাতে শুরু করেন। নিজের চেষ্টায় রান্না শিখেছেন, এখন তিনজন বাবুর্চি প্রধান বাবুর্চির রেসিপি মেনে রান্না করেন; নতুন বাবুর্চিকে তাঁর কাছ থেকেই শিখতে হয়, তাই স্বাদ একই থাকে। তেহারিতে হাড়ছাড়া মাংস, চিনিগুঁড়া চাল ও সরাসরি মিল থেকে আনা শর্ষের তেল ব্যবহার হয়। দোকানে পাঁচ-ছয়টি টেবিলে ২০–২২ জন বসতে পারেন, খাবার মেলে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা, দাম ২০০–৪০০ টাকা। ২০১০–১১ সালের দিকে বসে খাওয়া ও নেওয়া মিলিয়ে দিনে দুই-আড়াই লাখ টাকার তেহারি বিক্রি হতো। এখন দিনে ৭০–৮০ হাজার টাকার বিক্রি, আর লাভও খুব বেশি নয়। মালিকের ভাষ্য, ঢাকার মোড়ে মোড়ে এখন বিভিন্ন ধরনের তেহারির দোকান, অনেকের নামও মিলে যায়; তাই বিক্রি কমেছে। প্রতিদিন এক মণেরও বেশি চালের তেহারি রান্না হয়, মাংসও সমপরিমাণ লাগে।
যা শেখার আছে
- ১.স্বাদ স্থির রাখতে রেসিপি একজনের হাতে রেখে নতুন বাবুর্চিকে তাঁর কাছেই শেখান; এই দোকানের স্বাদ শুরু থেকে একই আছে।
- ২.জনপ্রিয় নামের নকলে ক্রেতা ভাগ হয়ে যায়; একই ধরনের দোকান বেড়ে গেলে বিক্রি ও লাভ কমে।
- ৩.চালু বিক্রি দেখে ভবিষ্যৎ ধরে নেবেন না; ২–২.৫ লাখ থেকে ৭০–৮০ হাজারে নামতে এই দোকানের প্রায় এক যুগ লেগেছে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
