নিজেদের ৫০ শতক জমিতে পাহাড়ি রেস্তোরাঁ: চারজনের খাবার ৭০০–৮০০ টাকা, পিঠা ১০ টাকা থেকে
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় চার ভাই-বোন জমানো টাকা ও ব্যাংকঋণে পাহাড়ি জুমঘরের আদলে একটি রেস্তোরাঁ চালু করেছেন। বাজার থেকে রান্না ও পরিবেশন সবই তাঁরা নিজেরা করেন, দাম রাখা হয়েছে পর্যটকের কথা ভেবে।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-বাবুছড়া সড়কের পাশে চার ভাই-বোন মিলে একটি রেস্তোরাঁ চালু করেছেন, যার নাম জুমঘর। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের শুরুর দিকে পাহাড়ের জুমঘরের আদলে রেস্তোরাঁটি চালু হয়। প্রধান উদ্যোক্তা আগে হস্তশিল্পের কাজ করতেন। সেই জিনিস কিনতে যাঁরা বাড়িতে আসতেন, তাঁরা ভালো খাবারের খোঁজ করতেন; সেখান থেকেই রেস্তোরাঁর ভাবনা আসে। নিজেদের জমানো টাকা আর ব্যাংক থেকে কিছু ঋণ নিয়ে তাঁরা নিজেদের ৫০ শতক জায়গায় রেস্তোরাঁটি গড়েন, সাজানোর কাজও নিজেরা করেছেন। রান্নাঘরসহ মোট পাঁচটি কক্ষ আছে। বাজার করা, রান্না ও পরিবেশন চার ভাই-বোনই করেন, দুজনের স্ত্রী কাজে সাহায্য করেন। মেনুতে পাহাড়ি হাঁস-মুরগি, কলাপাতার মাছ, বাঁশ কোড়লের নানা পদ, পাহাড়ি মাশরুম আর নানা রকম পিঠা আছে; অর্ডার পেলে বাঙালি ও চায়নিজ রান্নাও হয়। তাঁরা বাসি খাবার বেচেন না, চাহিদা অনুযায়ী রান্না করেন, তাই আধা ঘণ্টা আগে বলতে হয়। জন্মদিন বা অনুষ্ঠানের জন্য বুকিংও নেন। দেশি মুরগির মাংস, শাক, ডাল ও মিশ্র সবজিতে চারজন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় খেতে পারেন, আর পিঠার দাম ১০ টাকা থেকে শুরু। তাঁরা রেস্তোরাঁটি আরও বড় করতে চান।
যা শেখার আছে
- ১.নিজেদের জমিতে শুরু করলে ভাড়া লাগে না; জমানো টাকার সঙ্গে ব্যাংকঋণ মিলিয়ে চারজন মিলেই খরচ সামলানো গেছে।
- ২.স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবারকে পরিচয় করলে ছোট রেস্তোরাঁ আলাদা হয়ে ওঠে, আর পর্যটকের কথা ভেবে দাম নাগালে রাখা যায়।
- ৩.চাহিদা অনুযায়ী রান্না করলে বাসি খাবারের অপচয় থাকে না; বুকিং নিলে আগেই বিক্রির আন্দাজ পাওয়া যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
