১,০০০ ডিম আর তুষ-হারিকেন দিয়ে শুরু, এখন মাসে দেড় লাখের বেশি হাঁসের বাচ্চা
নেত্রকোনার মদনের এক হ্যাচারি মালিক বড় ভাইয়ের শেখানো তুষ পদ্ধতিতে ১,০০০ ডিম দিয়ে শুরু করে এখন মাসে দেড় লাখের বেশি হাঁসের বাচ্চা ফোটান। গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের একটি পারিবারিক হ্যাচারিতে মাসে প্রায় ৬৬ হাজার টাকা নিট লাভ হয়।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেত্রকোনার মদন উপজেলার কাথুরিকোনা গ্রামের ৪২ বছরের এক ব্যক্তির একসময় সাত সদস্যের পরিবারের খাবার জোটানোই কঠিন ছিল। বড় ভাইয়ের পরামর্শে তিনি ১,০০০ ডিম কিনে ধানের তুষ আর কেরোসিনের হারিকেন দিয়ে বাচ্চা ফোটানোর প্রচলিত পদ্ধতি শুরু করেন, এবং সেটা কাজ করে। পদ্ধতিটি বিদ্যুৎ ছাড়াই চলে: ৫–৭ দিনের নিষিক্ত ডিম ধুয়ে রোদে শুকিয়ে তুষে ঘেরা বাঁশের ডোলে রাখা হয়, চার ঘণ্টা হারিকেন আর চার ঘণ্টা ডিম, এভাবে ১৮ দিন পালা করে গরম দেওয়া হয়; এরপর তোশকে ঢাকা বিছানায় আরও ১২ দিন। ২৫তম দিনে টর্চ দিয়ে পচা ডিম বাদ দেওয়া হয়, ২৮–৩০ দিনে বেশির ভাগ বাচ্চা ফোটে। এখন তিনি মাসে দেড় লাখের বেশি বাচ্চা ফোটান, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট স্বীকৃত প্রশিক্ষক হয়েছেন, পাকা বাড়ি ও নিজের জমিও করেছেন। গ্রামে ১৮০টির বেশি পরিবার পুরো সময় এ কাজ করে। প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে একটি পরিবার মাসে গড়ে ১০,১২৫টি ডিম বসায়, ৭০ শতাংশ ফোটে; ডিম, তুষসহ মাসিক খরচ ১,১০,৬৬৬ টাকা, প্রতিটি বাচ্চা ২৫ টাকায় বেচে আয় প্রায় ১,৭৭,২০০ টাকা, নিট লাভ ৬৬,৫৩৪ টাকা। তবে মৌসুমভেদে দাম ওঠানামা করে, আর বেশির ভাগ মালিক নিজের টাকা বা অনানুষ্ঠানিক ঋণে চলেন; বানিয়াচংয়ের এক হ্যাচারি মালিক বলেছেন, কম সুদে ঋণ ও প্রশিক্ষণ পেলে উৎপাদন দ্বিগুণ করা যেত।
যা শেখার আছে
- ১.অভিজ্ঞ কারও কাছে হাতে-কলমে শিখে ছোট ব্যাচে শুরু করুন; তুষ পদ্ধতিতে তাপ ও সময়ের নিয়ম কড়াভাবে মানতে হয়।
- ২.ডিমের দাম, ফোটার হার আর বাচ্চার দাম দিয়ে প্রতি ব্যাচের লাভ হিসাব করুন; মৌসুমে দাম ওঠানামা করে।
- ৩.বিদ্যুৎ-ঘাটতির এলাকায় কম খরচের তুষ পদ্ধতি দামি মেশিনের বিকল্প হতে পারে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
