৪৬০ প্রজাতির বাগান থেকে বছরে অন্তত ৪ লাখ টাকা; ৬০৯টি গাছ কুরিয়ারে, মাসে ৩০-৩৫ হাজার
কক্সবাজারের পেকুয়ায় এক বিশ্ববিদ্যালয়পাস যুবক পুকুরপাড়ে ক্যাকটাস ও বিরল গাছের বাগান করে সারা দেশে চারা পাঠান। শুরুতে গাছ পচে গিয়েছিল আর অনলাইনে প্রতারিতও হয়েছিলেন, তবু এখন তিনি বছরে অন্তত চার লাখ টাকা আয় করেন।
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা এক যুবক বাড়ির পুকুরপাড়ে দুটি শেডে বাগান করেছেন। ৪৬০ প্রজাতির গাছের মধ্যে অন্তত দেড় শ ক্যাকটাস, তাই নাম ‘পেকুয়া ক্যাকটাস গার্ডেন’। তিনি পেকুয়া চৌমুহনীতে বন্ধুদের সঙ্গে একটি কোচিং সেন্টারে পড়ান এবং নিয়মিত বাগানেও সময় দেন। করোনার শেষ দিকে ক্যাকটাস সংগ্রহ শুরু করেন। শুরুটা ভালো ছিল না: পরিচর্যা ঠিক না হওয়ায় কিছু গাছ পচে যায়, অনলাইনে অর্ডার করে প্রতারণার শিকারও হন। পরে গাছপ্রেমীদের বিভিন্ন গ্রুপে যুক্ত হয়ে নানা প্রজাতি সংগ্রহ করেন। গ্রাফটিং থেকে শেড তৈরি—সবই নিজের হাতে করেছেন; গুগল ও ইউটিউব দেখে শিখেছেন। দাম আকার ও জাতভেদে ক্যাকটাস ৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, ফার্ন ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা, স্টেফেনিয়া ১৫০ থেকে দেড় হাজার টাকা। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি ৬০৯টি গাছ কুরিয়ারে পাঠিয়েছেন, গড়ে মাসে আয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। তাঁর মতে আরেকটু সময় দিলে মাসে ৫০ হাজার টাকা সম্ভব। বছরে আয় অন্তত চার লাখ টাকা। অনলাইনের পাশাপাশি অনেকে সরাসরি এসেও কেনেন, তিনি বৃক্ষমেলায়ও বিক্রি করেন। ইনডোরে ক্যাকটাস, মানি প্ল্যান্ট, অর্কিডের চাহিদা বেশি বলে তিনি জানান। কৃষি কর্মকর্তা তাঁকে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলেছেন।
যা শেখার আছে
- ১.শৌখিন গাছ পচে যেতে পারে; পরিচর্যার নিয়ম না জেনে বেশি কিনলে লোকসান হয়।
- ২.অনলাইনে অর্ডার করে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি আছে; গাছপ্রেমীদের গ্রুপ থেকে সংগ্রহ নিরাপদ হতে পারে।
- ৩.অনলাইন কুরিয়ার, বৃক্ষমেলা ও সরাসরি বিক্রি—তিনটি পথ একসঙ্গে রাখলে ক্রেতা বাড়ে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
