শখের এডেনিয়াম থেকে ছাদ-নার্সারি; জুলাই-নভেম্বরে সাড়ে ১১ লাখ টাকার গাছ বিক্রি, বেচাকেনা প্রায় সবই অনলাইনে
নাটোরের এক গৃহিণী বৃক্ষমেলা থেকে কেনা একটি এডেনিয়াম দিয়ে শুরু করে বাড়ির ছাদে হাজারো ভ্যারাইটির সংগ্রহ গড়েছেন। গত জুলাই থেকে নভেম্বরে অনলাইনে তিনি সাড়ে ১১ লাখ টাকার গাছ বিক্রি করেছেন।
নাটোরের এক গৃহিণী স্নাতকোত্তর শেষ করে ঘরে অফুরান সময় পেতেন। প্রায় এক যুগ আগে বৃক্ষমেলায় একটি এডেনিয়াম (মরু গোলাপ) তাঁর নজর কাড়ে। বাড়িতে এনে পরিচর্যা শুরু করেন, অনলাইনে ভিডিও দেখে শেখেন, তারপর শুরু হয় সংগ্রহ। এখন প্রায় আড়াই হাজার বর্গফুটের ছাদে তাইওয়ান, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের হাজারো ভ্যারাইটি আছে; সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার ৩৫টি রঙিন গাছ এনেছেন। সংগ্রহের পাশাপাশি বীজ ও গ্রাফটিংয়ে নতুন চারা তৈরি করেন; গ্রাফটিং নিজের হাতে করেন, ছাদে কাজ করেন দুজন কর্মী। গাছের মিডিয়া তৈরি হয় পাতা পচা, হাড়কুচি, শিংকুচি, ধানের চিটা, বালি ও ভার্মিকম্পোস্ট দিয়ে, শীতের শেষে তা একবার বদলানো হয়। একটি বিরল গাছ তিনি কিনেছেন ৩০ হাজার টাকায়। ছাদ লোকচক্ষুর আড়ালে, তাই গাছের কেনাবেচা মূলত অনলাইনে। গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তিনি সাড়ে এগারো লাখ টাকার গাছ বিক্রি করেছেন। এডেনিয়াম শীতে ঘুমিয়ে থাকে এবং শীত ও অতিবৃষ্টিতে ভালো থাকে না, তাই শীত বাদে প্রায় সারা বছর ফুল দেয়। শীতের এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে কৃষি বিভাগ তাঁকে একটি পলিনেট হাউস দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর পরিকল্পনা মধুখালীতে আরেকটি উদ্যান করা, দুবাইয়ের বাজারে যাওয়া এবং একটি প্রদর্শনী করা।
যা শেখার আছে
- ১.শখ থেকেই ব্যবসা হতে পারে; ছাদে জায়গা কম হলেও বিরল জাত সংগ্রহ করে দাম বাড়ানো যায়।
- ২.গ্রাফটিং আর বীজ থেকে নিজে চারা করলে সংগ্রহের পাশাপাশি বিক্রির মতো গাছও তৈরি হয়।
- ৩.অনলাইনে বিক্রি করলে ছাদ বা বাড়ির ঠিকানা মূল্য হয় না; কিন্তু শীত ও অতিবৃষ্টিতে গাছ ভালো থাকে না, তাই মৌসুমি ঝুঁকি হিসাবে রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
