প্রস্তাবিত দৈনিকের অনলাইন সংস্করণ হিসেবে চালু পোর্টাল, ৩০ জন কর্মী নিয়ে সাড়ে ছয় মাসেই বন্ধ
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে একটি প্রস্তাবিত দৈনিক পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ হিসেবে চালু হয় নিউজ পোর্টাল ‘সারাক্ষণ’। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দৈনিক বের করা আবার অনিশ্চিত হয়ে পড়লে লোকসান টানতে না চেয়ে মালিকপক্ষ ২০২১ সালের এপ্রিলে পোর্টালটি বন্ধ করে দেয়।
‘সারাক্ষণ’ আসলে একটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে বের হওয়ার কথা ছিল। করোনা সংক্রমণের কারণে সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়। তখন প্রস্তাবিত দৈনিকটির অনলাইন সংস্করণ হিসেবে ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নিউজ পোর্টালটি চালু করা হয়। কর্তৃপক্ষের হিসাবে পোর্টালটির সঙ্গে ৩০ জনের মতো কর্মী যুক্ত ছিলেন। এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন একটি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, আর প্রকাশক ছিলেন আরেকটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের স্ত্রী, অর্থাৎ পেছনে বড় মালিকপক্ষ ছিল। তবু পোর্টালটি টেকেনি। ২০২১ সালের এপ্রিলে দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এলে দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের বিষয়টি আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সম্পাদক প্রথম আলোকে বলেন, এ অবস্থায় মালিকপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির লোকসান আর টানতে চাইছে না, তাই পোর্টালটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল ২০২১ রোববার দুপুরে কর্তৃপক্ষ পোর্টালটি আর না চালানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। চালুর মাত্র সাড়ে ছয় মাসের মাথায় এভাবে বন্ধ হয়ে যায় সারাক্ষণ। মালিকপক্ষের সঙ্গে যুক্ত একজনের মালিকানাধীন আরেকটি অনলাইন পোর্টাল অবশ্য তখনো চালু ছিল। এই ঘটনায় দেখা যায়, পোর্টালটিকে নিজে আয় করা একটি ব্যবসা হিসেবে নয়, বরং একটি ছাপা পত্রিকার আগাম অংশ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছিল; মূল পরিকল্পনা আটকে যেতেই লোকসানি পোর্টালটি চালিয়ে যাওয়ার কারণ আর থাকেনি।
যা শেখার আছে
- ১.পোর্টাল চালুর আগে ঠিক করুন সেটি নিজে বিজ্ঞাপন বা অন্য আয়ে খরচ তুলবে কীভাবে; অন্য কোনো প্রকল্পের ভরসায় চালালে সেই প্রকল্প থামলে পোর্টালও থেমে যায়।
- ২.৩০ জনের মতো কর্মীর মাসিক বেতন একটি নতুন পোর্টালের জন্য বড় স্থায়ী খরচ; আয় না আসা পর্যন্ত ছোট দল নিয়ে শুরু করাই নিরাপদ।
- ৩.বড় মালিকপক্ষ থাকলেই টিকে থাকা নিশ্চিত নয়; লোকসান কত দিন সহ্য করা হবে, তা শুরুতেই পরিষ্কার থাকা দরকার।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
