দালালের হাতে ২ লাখ খুইয়ে ৭০ হাজার টাকায় গাড়ল পালন শুরু; ৬০টি বেচে সোয়া ৪ লাখ, খামারে এখন ১১২টি
বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনার চরের এক খামারি বিদেশ যাওয়ার আশায় সর্বস্ব খুইয়ে ইউটিউব দেখে গাড়ল পালন শুরু করেন। পাঁচ বছরে ৬০টি গাড়ল বেচে দেনা শোধ করেছেন, এখন খামারে ১১২টি।
বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনার চরের এক খামারি আগে জামালপুরের এক চরে কৃষিকাজ করতেন। আট বছর আগে শর্টকাটে বড়লোক হওয়ার আশায় বসতভিটা ও গরু বেচে বিদেশ যাওয়ার জন্য এক দালালের হাতে দুই লাখ টাকা দেন; দালাল টাকা নিয়ে উধাও হয়, তিনি সব হারান। পরিবার নিয়ে চরে এসে দিনমজুরি ও ঢাকায় রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করেন। ইউটিউবে সংকর জাতের গাড়ল পালনের ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত নেন গাড়ল পালনের। হাতে ছিল ২০ হাজার টাকা, এনজিও থেকে স্ত্রীর নামে আরও ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সেই টাকায় আটটি দেশি ভেড়া, আটটি ভেড়ার বাচ্চা ও একটি অস্ট্রেলিয়ান ডরপার জাতের গাড়ল কিনে পাঁচ বছর আগে খামার শুরু করেন। এ পর্যন্ত সোয়া চার লাখ টাকায় ৬০টি গাড়ল বিক্রি করে দেনা শোধ করেছেন, এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, সংসার ও সন্তানদের পড়ার খরচ চালিয়ে দেড় লাখ টাকা নগদ জমিয়েছেন। এখন খামারে ছোট-বড় ১১২টি গাড়ল। মাদি গাড়ল বছরে গড়ে দুটি বাচ্চা দেয়। সংকরায়ণ করা মাদি গাড়ল বাজারে ৮ থেকে ১০ হাজার, গর্ভবতী ১৫ হাজার, পুরুষ ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়; মাংস কেজিপ্রতি গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। গাড়ল চরের ঘাস খায়, রাখাল লাগে না; বাড়তি খাবার ভুসি, খইল ও ভাত। চরে পশুচিকিৎসক মেলে না, তাই অসুখে ইউটিউবে দেখে স্থানীয় বাজার থেকে ওষুধ এনে খাওয়ান। তাঁকে দেখে চরের অনেক যুবক গাড়লের খামার করেছেন।
যা শেখার আছে
- ১.কম খরচে শুরু করা যায়; ৭০ হাজার টাকায় ১৭টি পশু দিয়ে খামার শুরু হয়েছিল।
- ২.চরের ঘাসে চরালে রাখাল ও খাবারের খরচ কম, তবে চরে পশুচিকিৎসক না থাকায় রোগের ঝুঁকি নিজেকেই সামলাতে হয়।
- ৩.ধারের টাকায় না বুঝে ঝুঁকি নিলে সব হারাতে হয়; দালালের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টায় সর্বস্ব গিয়েছিল।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
