৮৮টি গাড়ল দিয়ে শুরু, এক বছরে বাচ্চা বেচে ৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা; এখন ১৪২টি
কুড়িগ্রামের চিলমারীর দুর্গম চরে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ২০২২ সালে ভারত থেকে আনা গাড়ল দিয়ে খামার শুরু করেন। গত এক বছরে ৮০টির বেশি বাচ্চা বেচে তিনি ৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা পেয়েছেন।
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার শাখাহাতীর চরে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য গাড়লের খামার করেছেন। চাকরির সময় দেশের নানা খামার দেখে তাঁর এই পরিকল্পনা আসে। অবসরের পর ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম দফায় ভারত থেকে ৫২টি, পরে আরও ৩৬টি, মোট ৮৮টি গাড়ল এনে শুরু করেন। শুরুতে অধিকাংশ ছিল বাচ্চা, তাই আয় আসতে তিন-চার মাস লেগেছে। গাড়ল ভেড়ার একটি সংকর জাত; আকারে ভেড়ার দ্বিগুণ ওজনের হয়। দিনে চরের চারণভূমিতে চরে, রাতে এক বিঘা নেপিয়ার ঘাসের জমির পাশের চার ফুট উঁচু টিনশেডে থাকে। সকালে কিছু নেপিয়ার ঘাস ও ভুট্টাদানা দেওয়া হয়। তিনি জানান, রোগবালাই প্রায় নেই। পাঁচ মাস বয়সী একটি বাচ্চার দাম ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। গত এক বছরে ৮০টির বেশি বাচ্চা বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন ৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এখন খামারে ১৪২টি গাড়ল। তাঁর খামার থেকে বাচ্চা নিয়ে দেশের নানা জায়গায় নয়টি খামার গড়ে উঠেছে। তাঁর হিসাবে ১০০টি গাড়লের খামারে বছরে অন্তত ৩০ লাখ টাকা আয় সম্ভব। শুরুতে প্রতিবেশীরা তাঁকে বোকা ভেবেছিলেন, কিন্তু এখন চরের অনেকে এমন খামার করতে চাইছেন। প্রতিবেদনে খামারের মোট বিনিয়োগ বা খরচের হিসাব দেওয়া হয়নি।
যা শেখার আছে
- ১.বাচ্চা দিয়ে শুরু করলে আয় আসতে তিন-চার মাস লাগে; এই সময়ের খরচের জন্য আলাদা অর্থ রাখুন।
- ২.প্রজননক্ষম গাড়লের বাচ্চা বিক্রিই এখানে আয়ের বড় উৎস।
- ৩.চারণভূমি আর নিজের ঘাসের জমি থাকলে খাবারের খরচ কম রাখা যায়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
