মিঠাপানিতে বাগদা: ২০২২ সালে অ্যারোটর নষ্ট হয়ে ৫ লাখ টাকা লোকসান, পরের বার এক একরে ৮০ মণ
খুলনার ডুমুরিয়ায় নদী শুকিয়ে যাওয়ায় লোনাপানি আনা বন্ধ হলে এক চাষি ২০১৯ সালে মিঠাপানির পুকুরে বাগদা চাষ শুরু করেন। ২০২২ সালে ৫ লাখ টাকা লোকসানের পর ২০২৩ সালে এক একরে প্রায় ৮০ মণ পেয়েছেন, খরচের প্রায় দ্বিগুণ লাভে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার হাসানপুর গ্রামের এক চাষির (বয়স ৪৬) গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া হামকুড়া নদী শুকিয়ে যাওয়ায় পুকুরে লোনাপানি তোলার উপায় ছিল না। ২০১৯ সালে তিনি মিঠাপানির পুকুরে গলদার সঙ্গে দুই হাজার বাগদার পোনা ছাড়েন; আগে ১৫-২০ দিন পোনাকে নিয়ন্ত্রিত লবণাক্ত পানিতে রাখা হয়। ওই বছর ১৫০-২০০টির মতো বাগদা পান। পরের বছর ২০ হাজার পোনায় চার মাস পর ৮-৯ হাজার বাগদা মেলে। ২০২১ সালে ৫০ হাজার পোনা ছেড়ে প্রায় ৩২ হাজার বাঁচে। ২০২২ সালে প্রথমবার ৫০ হাজার পোনায় ২৭ মণ পান, কিন্তু দ্বিতীয়বার আড়াই লাখ পোনা ছাড়লে অ্যারোটর যন্ত্র নষ্ট হয়ে বাগদা মরে যায় এবং প্রায় ৫ লাখ টাকা লোকসান হয়। ২০২৩ সালে এক একরের পুকুরে ৮০ হাজার পোনা ছেড়ে প্রায় ৮০ মণ বাগদা পান; শতকে প্রায় ৩২ কেজি, ১২০ দিনে গড় ওজন প্রায় ৫০ গ্রাম, খরচের প্রায় দ্বিগুণ লাভ। খাবারে ক্ষতিকর সবুজ প্ল্যাঙ্কটন খেতে মৎস্য কর্মকর্তাদের পরামর্শে রুই-কাতলা ছাড়েন। দিনে তিনবার খাবার দেন, দুবার লবণমিশ্রিত। তুলে নেওয়ার দিন ৫৫ মণ বাগদা ওঠে এবং প্রায় ৫০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এরপর পুকুরে গলদা ও মাছ, পরে ধান চাষের পরিকল্পনা। লবণের মাত্রা মেপে কর্মকর্তারা শূন্য পিপিটি পান। প্রতিবেদনে মোট খরচের অঙ্ক নেই।
যা শেখার আছে
- ১.পোনার সংখ্যা হঠাৎ বাড়ালে যন্ত্র বিগড়ে গেলে লোকসান বড় হয়; অ্যারোটর ঠিক রাখুন আর বিকল্প ব্যবস্থা ভাবুন।
- ২.নতুন পদ্ধতিতে ছোট সংখ্যায় শুরু করে বছর বছর বাড়ালে ভুল থেকে শেখা যায়।
- ৩.মৎস্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ কাজে এসেছে, যেমন ক্ষতিকর প্ল্যাঙ্কটন নিয়ন্ত্রণে মাছ ছাড়া।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
