এনজিওর ২০ হাজার টাকায় শুরু, তিন মাসে ৪০ হাজার চারা বিক্রি
২০২০ সালে এনজিওর ২০,০০০ টাকা ঋণে মাটি ছাড়া ৪০,০০০ চারা, তিন মাসে বিক্রি ৪০,০০০ টাকায়। এবার ২৫ শতকে ৪ লাখ চারা, খরচ প্রায় ৪ লাখ টাকা; দেড় মাসে ৭ লাখ টাকার বিক্রি আশা করছেন।
রংপুরের পীরগঞ্জের ছাতরা ইউনিয়নের আগাচাতরা গ্রামের ৪০ বছর বয়সী এই চাষি পড়েছেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত, নিজের চাষের জমি নেই। আগে অন্যের নার্সারি থেকে চারা কিনে বাজারে বিক্রি করতেন, তাতে সংসার কোনোমতে চলত। মাটি ছাড়া চারা তোলার একটি ভিডিও দেখে ২০২০ সালে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ২০,০০০ টাকা ঋণ নেন এবং মাটির বদলে জীবাণুমুক্ত কচুরিপানা ও নারকেলের ছোবড়া ভরা প্লাস্টিকের ট্রে-কাপে ৪০,০০০ চারা বসান; তিন মাস পর সেই চারা বিক্রি হয় ৪০,০০০ টাকায়। এখন তিনি বছরে ১৫,০০০ টাকায় ২৫ শতক জমি ইজারা নেন। এবারের মৌসুমে ওই ২৫ শতকেই বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ ও টমেটোর ৪ লাখ চারা বসিয়েছেন, খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা; প্রতিবেদনের ২৬ দিন আগে বসানো এই চারার মধ্যে ১ লাখ টাকার বিক্রি হয়ে গেছে, আর দেড় মাসের মধ্যে ৭ লাখ টাকার বিক্রি ও অন্তত ৩ লাখ টাকা লাভ তিনি আশা করছেন। তাঁর ভাষায়, "প্রতিটি চারা উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রায় ১ টাকা ২০ পয়সা, তা বিক্রি করা হয় সর্বোচ্চ দুই টাকায়।" বীজ সপ্তাহখানেকেই গজায়, ২০–২২ দিনে ৫–৬ ইঞ্চি হলে চারা বিক্রির উপযোগী হয়; ক্রেতারা নার্সারিতেই আসেন, খুচরা আর পাইকারি দুই-ই। এখন তাঁর হাতে ৭–৮ লাখ টাকার পুঁজি, আর একটি টিনের ঘরও তুলেছেন।
যা শেখার আছে
- ১.সুবিধাটা চক্রে — বীজ সপ্তাহখানেকে গজায়, ২০–২২ দিনে চারা বিক্রি হয়, তাই মাঠের একটা ফসল বড় হওয়ার মধ্যেই ওই ২৫ শতক কয়েকবার ঘুরে যায়
- ২.ছোবড়ার চারায় মাটিবাহিত রোগ থাকে না আর শিকড় না ছিঁড়েই লাগানো যায় — ক্রেতা আসলে চারা নয়, চারা বাঁচার নিশ্চয়তাটাই কেনেন, তাই তাঁরা ফিরে আসেন
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
