১৯৯৭ সালে ব্যাটারি ও মাইক ভাড়া দিয়ে শুরু; জেলেনৌকার কিশোর এখন সাউন্ড সার্ভিসের মালিক
ভোলার লালমোহনের এক কারিগর নদীভাঙনে সব হারিয়ে ১৫ বছর বয়সে জেলেনৌকায় কাজ নেন, ইঞ্জিন চালু করে মিস্ত্রি হন। ১৯৯৭ সালে ব্যাটারি ও মাইক ভাড়ার ব্যবসা শুরু করে এখন ছেলেকে নিয়ে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া ও মেরামত করেন।
ভোলার লালমোহনের এক কারিগর জেলেনৌকার সদস্য থেকে মাইক-সাউন্ড সার্ভিসের মালিক হয়েছেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন দফা নদীভাঙনে বাড়ি, জমি ও মাছ ধরার নৌকা হারিয়ে পরিবারটি নিঃস্ব হয়, পঞ্চম শ্রেণির পর অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়। বাবার মৃত্যুর পর ১৫ বছর বয়সে তিনি পরের নৌকায় মাছ ধরতে নামেন। আশির দশকের এক দিন ট্রলারের মিস্ত্রি ছুটিতে থাকায় মালিক ঘোষণা দেন, যে ইঞ্জিন চালু করতে পারবে সে পাবে মিস্ত্রির ভাগ, যা অন্যদের এক ভাগের জায়গায় সোয়া এক ভাগ। ছয়জনের মধ্যে ১৫ বছরের কিশোরই ইঞ্জিন চালু করেন, সেখান থেকে মিস্ত্রিজীবনের শুরু। কোনো ওস্তাদ ছাড়াই পরে ব্যাটারি তৈরি, মাইক-সাউন্ড সিস্টেম, অ্যামপ্লিফায়ার, সোলার প্যানেল ও রেডিও মেরামত শেখেন। ১৯৯৭ সালে মেঘনা তীরের বাত্তিরখাল মাছঘাটে মাইক, ক্যাসেট প্লেয়ার ও ব্যাটারি ভাড়ার ব্যবসা শুরু করেন; একটি ব্যাটারি ভাড়া দিয়েই দিনে ৫০ টাকা আয় হতো। ব্যাটারি তৈরির কাজ শিখে নিজেই বানাতে শুরু করেন। ইলেকট্রনিকসে দক্ষ হয়ে জেলেনৌকার কাজ ছেড়ে লালমোহনের মঙ্গল শিকদার বাজারে নিজের নামে মাইক সার্ভিস শুরু করেন। এখন ওয়াজ মাহফিল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া দেন; তিনি ও তাঁর ছেলে যন্ত্রাংশ মেরামত ও নতুন অ্যামপ্লিফায়ার বানান। ব্যবসা আরও বড় করার ইচ্ছা থাকলেও এখনকার অবস্থায় তিনি ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন।
যা শেখার আছে
- ১.ছোট শুরু (একটি ব্যাটারি ভাড়ায় দিনে ৫০ টাকা) থেকেও ধাপে ধাপে যন্ত্র শিখে নিজে তৈরি ও মেরামতের সক্ষমতা ব্যবসার আসল সম্পদ।
- ২.মাহফিল ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মতো নির্দিষ্ট গ্রাহক খুঁজে নিন, যারা সাউন্ড সিস্টেম নিয়মিত ভাড়া নেয়।
- ৩.পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকে কাজ শেখালে মেরামত ও নতুন যন্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ হয়।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
