ঘণ্টায় ৩ ডলার থেকে ১৫ ডলার, এক ক্লায়েন্টেই মাসে ৬০০ ডলার, অধীনে ১০ জন
চট্টগ্রামের এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী ১৫ হাজার টাকার কোর্স করার সামর্থ্য না থাকায় শুধু লেখার দক্ষতা দিয়ে আপওয়ার্কে প্রোফাইল খোলেন। ঘণ্টায় ৩ ডলার থেকে শুরু করে পরে ১৫ ডলারে কনটেন্ট লেখেন, আর ১০ জনের একটি দলকে কাজ ভাগ করে দেন।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর কথা আছে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বাবার পক্ষে ১৫ হাজার টাকার আউটসোর্সিং কোর্সের খরচ দেওয়া সম্ভব ছিল না। তাই তিনি একমাত্র যে দক্ষতায় ভরসা ছিল — লেখা — সেটি দিয়েই আপওয়ার্কে প্রোফাইল খোলেন। বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ নিতে বাবা-মাকে রাজি করান, আর মায়ের কাছে দুই মাস সময় চান। যোগ দেওয়ার এক মাসের মধ্যে প্রথম বিড সফল হয়; পরের তিন মাস ছোট ছোট কাজ করেন ঘণ্টায় মাত্র ৩ ডলারে। প্রথম আয় ৯ হাজার টাকা দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগের খরচ শোধ করেন। শুরু করেছিলেন এশিয়ার একটি ভ্রমণ ওয়েবসাইটের কনটেন্ট রাইটার হিসেবে। পরে এক ক্লায়েন্ট থেকেই মাসে ৬০০ ডলার নিয়মিত আয় হয়, যা তাঁর সেমিস্টারের টিউশন ফির চেয়ে বেশি। দেড় বছরের কম সময়ে টপ রেটেড হন; তিন মাস পর থেকে আর বিড করতে হয়নি, ক্লায়েন্টরাই কাজ দিতেন। এখন তিনি কনটেন্ট লেখার মতো কাজে ঘণ্টায় ১৫ ডলার নেন, আর বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ১০ জন ফ্রিল্যান্সারের দলকে একই কাজ ১০ ডলারে দেন। নিজে ৩০ মিনিটে এক হাজার শব্দ লিখতে পারেন বলে জানান। তবে অন্য সময় অঞ্চলের ক্লায়েন্টের জন্য প্রায়ই রাত জাগতে হয়, আর ছাত্র অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স আসায় ব্যাংকে বারবার ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে।
যা শেখার আছে
- ১.শুরুতে কম রেটে কাজ নিয়ে ভালো রিভিউ জমালে পরে ক্লায়েন্টরাই কাজ নিয়ে আসে — তখন রেট বাড়ানো যায়।
- ২.নিজের রেট আর সহযোগীদের রেটের মধ্যে ফারাক রেখে কাজ ভাগ করলে একা লেখক থেকে ছোট এজেন্সি হওয়া যায়।
- ৩.বিদেশি আয় ব্যাংকে আনার আগে ক্লায়েন্টের চুক্তি বা আয়ের প্রমাণ গুছিয়ে রাখুন।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
