সাইকেলে পোনা বিক্রি থেকে ১৭টি হ্যাচারি, বছরে নিট আয় ১০ লাখ
২০১২ সালে পৈতৃক ২০ শতাংশ জমি আর এনজিওর ২০,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে শুরু। এখন ১৫ একর ২০ শতাংশে ১৭টি হ্যাচারি, বছরে ১ থেকে দেড় কোটি রেণু-পোনা, খরচ বাদে আয় প্রায় ১০ লাখ টাকা।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চর মজিদ গ্রামের এই উদ্যোক্তা বছরের পর বছর সাইকেলের পেছনে পাত্রে করে গ্রামে গ্রামে মাছের পোনা বিক্রি করেছেন। ২০১২ সালে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ২০ শতাংশ জমিতে নিজের হ্যাচারি শুরু করেন, কিন্তু রেণু কেনার টাকা ছিল না — একটি স্থানীয় এনজিও থেকে ২০,০০০ টাকা ঋণ আর উৎপাদনের প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজে নামেন। এরপর ধাপে ধাপে বেড়েছেন: নিজের আয় থেকে ২ একর জমি কিনেছেন, ১৩ একর ইজারা নিয়েছেন, পরে এনজিও থেকে ৬ লাখ আর সোনালী ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকার কৃষিঋণ নিয়েছেন। এখন ১৫ একর ২০ শতাংশ জমিতে ১৭টি হ্যাচারি থেকে বছরে ১ থেকে দেড় কোটি রেণু ও পোনা হয়, জমির ভাড়া আর মজুরি বাদ দিয়ে থাকে প্রায় ১০ লাখ টাকা; এ মৌসুমে ২০–২২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ইতিমধ্যে ২০–২৫ লাখ টাকার পোনা বিক্রি হয়েছে। ১২ জন স্থায়ী কর্মী মাসে ৯,০০০ থেকে ১৮,০০০ টাকা পান, আর ৬০ জন পোনা বিক্রেতা ও মাছ ব্যবসায়ী তাঁর কাছ থেকে মাল নেন — ৭০ থেকে ৭২টি পরিবার এই খামারের ওপর চলে। শুকনো মৌসুমে পানির তীব্র সংকটই তাঁর সবচেয়ে বড় বাধা।
যা শেখার আছে
- ১.আগে পণ্যটা ফেরি করে বিক্রি করলে ক্রেতা কারা তা জানা হয়ে যায় — সাইকেলে পোনা বেচার বছরগুলোই হ্যাচারির দিনে ৬০ জন ক্রেতা তৈরি করে দিয়েছে
- ২.এনজিওর ২০ হাজার টাকার চেয়ে সঙ্গের প্রশিক্ষণটাই বেশি কাজে লেগেছে, কারণ পোনা বাঁচানোর ওপরেই পুরো ব্যবসাটা দাঁড়িয়ে
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
