৭৫–৮০ টাকার সরিষা, ৩০০–৩৫০ টাকার তেল; মাসে থাকে ৩০–৪০ হাজার
ঘোড়ায় টানা কাঠের ঘানিতে সরিষার তেল। কেজি ৭৫–৮০ টাকায় বছরে ৩–৩.৫ লাখ টাকার সরিষা কেনা হয়, তেল বিক্রি ৩০০–৩৫০ টাকা কেজি; সব খরচ বাদে মাসে থাকে ৩০,০০০–৪০,০০০ টাকা।
সুনামগঞ্জের নারায়ণতলার এই প্রবীণ ব্যক্তি প্রায় ১৯৮০ সাল থেকে বাড়িতেই কাঠের ঘানিতে সরিষার তেল ভাঙাচ্ছেন — ঘানি টানে ঘোড়া, পাশে হাঁটেন একজন, এক দফায় সময় লাগে তিন ঘণ্টা। কাজ চলে দিনে দুই বেলা, সকাল সাতটা থেকে দশটা আর বিকেল তিনটা থেকে ছয়টা; ১০ কেজি সরিষা থেকে দুই দফায় ছয় কেজি তেল হয়। সারা বছরের সরিষা একবারেই তুলে রাখতে হয় — কেজি ৭৫–৮০ টাকা দরে বছরে ৩,০০,০০০ থেকে ৩,৫০,০০০ টাকার সরিষা, অর্থাৎ পুঁজির বড় অংশ কাঁচামালেই আটকে থাকে। তেল বিক্রি হয় ৩০০–৩৫০ টাকা কেজি, আর সব খরচ বাদে মাসে থাকে ৩০,০০০–৪০,০০০ টাকা; ছেলে কাজে হাত লাগান। প্রয়াত স্ত্রীর কথা ধরে তিনি বলেন, "মানুষটায় কইত, কাউরে ঠকাইতাম না। আমরা তেলও ভেজাল দিতাম না।" ৩১ ডিসেম্বর উপজেলা প্রশাসন ছয়জন উদ্যোক্তার একজন হিসেবে তাঁকে সম্মাননা দিয়েছে।
যা শেখার আছে
- ১.ভেজাল না মেশানোটাই বাজারে একটা আলাদা অবস্থান — প্যাকেটের তেলে ভেজাল ধরে নেওয়া ক্রেতারা এখানেই ফিরে আসেন
- ২.সারা বছরের কাঁচামাল একবারে কিনলে তিন লাখ টাকা আটকে যায় — ঘানির আসল পুঁজি যন্ত্রে নয়, সরিষায়
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
