মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি
আরও গল্প
যা শিখেছিপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে পঞ্চগড়ের বোদার একজন চা-চাষি

সরকারি দর ১৮.৫০ টাকা, কারখানা দেয় ১২–১৫; ২০ লাখ লোকসানে বাগান উপড়ে ফেললেন

পঞ্চগড়ের বোদায় ৭ বিঘার চা-বাগান প্রথম তিন-চার বছর লাভ দিলেও পরে প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান হয়; কাঁচা পাতার সরকারি দর ১৮.৫০ টাকা হলেও কারখানা দিচ্ছিল ১২–১৫ টাকা, তার ওপর আরও ২০–৩০ শতাংশ কর্তন।

প্রায় ১২ বছর আগে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার তেপুকুরিয়ায় ৭ বিঘা জমি কিনে সাংবাদিকতার পাশাপাশি চা-বাগান করেছিলেন ৪৫ বছর বয়সী এই চাষি। উৎপাদনে আসার প্রথম তিন-চার বছর বাগান লাভই দিয়েছিল। তারপর কাঁচা পাতার দাম ভেঙে পড়ে — জেলা প্রশাসন কেজিপ্রতি দর ঠিক করে দেয় ১৮.৫০ টাকা, অথচ কারখানাগুলো দেয় ১২ থেকে ১৫ টাকা, আর ভেজা, বড় বা খারাপ পাতার অজুহাতে প্রতি কেজিতে আরও ২০–৩০ শতাংশ কেটে নেয়; কখনো কখনো চাষিকে বাকিতেই পাতা দিয়ে আসতে হয়। তাঁর ভাষায়, "এই বাগান করতে গিয়ে কয়েক বছরে প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে আমার।" শেষমেশ প্রায় ৪ বিঘার গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে, বাকিটায় শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন; প্রতিবাদ হিসেবে তিনি বাগানেই দুধ দিয়ে গোসল করেন। চা বহু বছরের বিনিয়োগ — দাম উল্টো দিকে ঘুরলে টাকাটা ততদিনে মাটির নিচে, বেরোনোর পথ কেবল গাছ তুলে ফেলা।

যা শেখার আছে

  1. ১.যে ফসল একমাত্র এক শ্রেণির ক্রেতাই প্রক্রিয়া করতে পারে, সেখানে চাষির দর-কষাকষির জোর থাকে না — সরকারি ন্যূনতম দাম কাগজেই থাকল, কারখানা কম দিল আর গেটে আবার কাটল
  2. ২.চা বহু বছরের ডুবে যাওয়া বিনিয়োগ — দাম বিপক্ষে গেলে টাকা ততদিনে গাছেই বসে গেছে, বেরোনোর একমাত্র পথ বাগান উপড়ে ফেলা

যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচনা

এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।