আট বিঘা চা-বাগান: গতবার দুই মাসে সাড়ে ৫ হাজার কেজি পাতা, এবার একটিও না
পঞ্চগড় সদরের এক চা-চাষি আগের মৌসুমে দাম না পেয়ে টাকার অভাবে বাগানের যত্ন নিতে পারেননি; পোকা আর তাপপ্রবাহে মৌসুমের প্রথম দুই মাসে একটি পাতাও বিক্রি হয়নি।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ৫৫ বছরের এক চা-চাষির আট বিঘা চা-বাগান আছে। আগের বছর মৌসুমের প্রথম দুই মাসে তিনি সাড়ে পাঁচ হাজার কেজি কাঁচা পাতা বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু সেই মৌসুমে পাতার দাম এত কম ছিল যে টাকার অভাবে বাগানের যত্ন নিতে পারেননি। চা-বাগানে বছরে দুবার সার, খরায় ১৫ দিন পরপর সেচ আর বছরে অন্তত ছয়বার কীটনাশক লাগে; এসব না হওয়ায় পোকার আক্রমণ বাড়ে, তার ওপর তাপপ্রবাহে নতুন কুঁড়ি আসেনি। তাঁর কথায়, ‘এবার মৌসুম শুরুর দুই মাস চলে গেছে, কিন্তু একটা পাতাও বিক্রি করতে পারিনি।’ প্রতিবেদন জানায়, ২০২০ সাল পর্যন্ত কারখানাগুলোর প্রতিযোগিতায় চাষিরা কেজিতে ৩৩–৩৯ টাকা পেতেন। আগের বছর তা নেমে আসে ১০–১৫ টাকায়; ভেজা বা খারাপ পাতার কথা বলে ওজনের সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাদ দেওয়ায় কেজিতে আট টাকাও থাকেনি, অথচ উৎপাদন খরচ কেজিতে প্রায় ১৮ টাকা। পাতার অভাবে উত্তরাঞ্চলের ২৮টি কারখানার অর্ধেকের বেশি চালুই হয়নি। দক্ষ শ্রমিক না থাকায় পঞ্চগড়ে কাস্তে দিয়ে পাতা কাটা হয়, এতে কুঁড়ি দেরিতে আসে এবং মান খারাপ বলে দামও কাটা পড়ে।
যা শেখার আছে
- ১.এক মৌসুমের কম দাম পরের মৌসুমের ফলনও নষ্ট করে দিতে পারে; বাগানের নিয়মিত সার-সেচ-কীটনাশকের জন্য আলাদা টাকা রেখে দিন।
- ২.কাঁচা পাতার দাম কয়েকটি কারখানার ওপর নির্ভর করে; ওজন কাটার হিসাব লিখিত নিন এবং সম্ভব হলে চাষিরা মিলে দর-কষাকষি করুন।
- ৩.হাতে পাতা তোলার দক্ষ শ্রমিক থাকলে মান ভালো হয় ও কাটা কম পড়ে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
