দুটি গরু দিয়ে শুরু, এখন দিনে দেড় হাজার লিটার দুধ
১৯৯৪ সালে দেড় লাখ টাকায় দুটি গরু কিনে শুরু; এখন ২১৫টি গবাদিপশু, দিনে প্রায় ১,৫০০ লিটার দুধ, খামারের গেটেই লিটার ৮০ টাকায় বিক্রি।
বগুড়া শহরের রহমাননগরের এই খামারি ১৯৯৪ সালে ঠিকাদারির কাজ ছেড়ে দেড় লাখ টাকায় দুটি গরু কিনে দুধের খামার শুরু করেন। প্রথম দিকে দিনে ১৫–২০ লিটার দুধের ক্রেতাই ছিল না, তাই প্রতিদিন বিকেলে বালতিতে দুধ নিয়ে রিকশা ভাড়া করে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে নিজেই বিক্রি করতেন। বত্রিশ বছর পর ৪৮ শতক জমির এই খামারে এখন ২১৫টি গবাদিপশু — ১৭০টি দুধেল গাভি আর ৪৫টি বকনা — যার বাজারদর ৪ কোটি টাকার বেশি, আর দিনে দুধ হয় প্রায় ১,৫০০ লিটার। এখন আর তাঁকে ক্রেতা খুঁজতে হয় না: সকাল আটটা, বিকেল তিনটা আর রাত আটটা — তিন বেলায় ক্রেতারা গেটে লাইন ধরেন, অনেকে খালি হাতে ফেরেন। গেটে দুধের দাম লিটারপ্রতি ৮০ টাকা, এক মাস আগেও ছিল ৭০ টাকা; উৎপাদন খরচ লিটারে ৭৫ টাকার ওপরে, যার ৮০ শতাংশই খাদ্যের খরচ। গেটে দৈনিক চাহিদা ৬,০০০–৭,৫০০ লিটার, তাই একেকজনকে ১–২ লিটার করে দেওয়া হয়। দিনে ১ লাখ টাকার বেশি আর বছরে ৪ কোটি টাকার বেশি দুধ বিক্রি হয়; নিয়মিত কর্মী ১১ জন, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে কাজ করেন প্রায় ২০ জন।
যা শেখার আছে
- ১.ক্রেতার চোখের সামনে দুধ দোহানো আর খামার থেকেই বিক্রি — এই আস্থাটাই লিটারে ৮০ টাকা নিতে আর মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই পুরো উৎপাদন বেচতে দিয়েছে
- ২.লিটারপ্রতি খরচের ৮০ শতাংশই খাদ্য, তাই খাদ্যের দাম বাড়লে বিক্রির দামও বাড়াতে হয় — এক মাসে ১০ টাকা বাড়িয়েও তাঁর লাইন কমেনি
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
