পাইকারি ৭ টাকার খেলনা পাখি; মাসে বিক্রি প্রায় ১ লাখ, খরচ বাদে ৬০–৬৫ হাজার
যশোরের কেশবপুরের এক কারিগর ১৭ বছর ধরে ফোম দিয়ে খেলনা পাখি বানান। পাইকারিতে প্রতিটি ৭ টাকায় বিক্রি করে মাসে খরচ বাদে ৬০–৬৫ হাজার টাকা হাতে থাকে। অন্য ব্যবসায় ব্যর্থ হয়ে এই কাজেই থিতু হয়েছেন তিনি।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যশোরের কেশবপুরের ৩১ বছর বয়সী আবু সাঈদ ১৭ বছর ধরে খেলনা পাখি বানান। তিনি টিয়া, কবুতর, মোরগ ও রুপচাঁদা মাছ—চার ধরনের খেলনা তৈরি করেন। মূল উপকরণ ফোম প্যাড, যা কেনেন কর্ণফুলী ইপিজেড এলাকা থেকে; এ ছাড়া রং, আঠা, রাবারের সুতা, খড় ও চুমকি লাগে। মাসের ১৫ দিন খেলনা বানান, বাকি ১৫ দিন বিক্রির কাজে যায়। দক্ষ একজন প্রতিদিন ৩০০–৪০০টি খেলনা বানাতে পারেন, একটিতে লাগে এক-দেড় মিনিট; পরিবারের সবাই মিলে দিনে প্রায় হাজারখানেক খেলনা হয়, একদিন পরপর। মাসে ১৩–১৪ হাজার খেলনার অর্ডার থাকে, খুলনা, রাজশাহী, দিনাজপুর, নোয়াখালী, বরিশালসহ নানা জায়গা থেকে। পাইকারিতে প্রতিটি ৭ টাকা, খরচ পড়ে ২ থেকে আড়াই টাকা। খুচরায় ১৫, ২০ বা ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। মাসে প্রায় লাখখানেক টাকার বিক্রি, উৎপাদন ও ব্যক্তিগত খরচ বাদে ৬০–৬৫ হাজার টাকা থাকে। এর আগে তিনি কাঁচামালের ব্যবসা, মিস্ত্রির কাজ, সিঙাড়া ও আইসক্রিম বিক্রি চেষ্টা করেছিলেন, কোনোটিতেই ভালো করেননি। এই আয় থেকে মায়ের কিডনি চিকিৎসায় আট লাখ টাকা খরচ, ১৮ শতাংশ জমি কেনা ও বাড়ি করা সম্ভব হয়েছে।
যা শেখার আছে
- ১.কম খরচের পণ্য একসঙ্গে অনেক বানিয়ে পাইকারি অর্ডারে বেচলে প্রতি পিসে অল্প লাভেও মোট আয় ভালো হয়।
- ২.পরিবারের সবাই মিলে বানালে উৎপাদন বাড়ে; মাসের অর্ধেক সময় তৈরি আর অর্ধেক বিক্রির জন্য রাখার হিসাব কাজে লাগে।
- ৩.অন্য ব্যবসায় বারবার না গিয়ে নিজের দক্ষতার কাজে মন দিলে স্থিতিশীল আয় আসতে পারে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
