৬০০ টাকার ৪০টি ভিয়েতনামি নারিকেল চারা, চার বছরেও একটি নারিকেল নয়
সৌদিপ্রবাসী থাকাকালে ইউটিউবে দেখে উদ্বুদ্ধ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের এক ব্যক্তি হর্টিকালচার সেন্টার থেকে ৬০০ টাকা দরে ৪০টি ভিয়েতনামি খাটো নারিকেলের চারা কিনে বাগান করেন; চার বছরেও ফল না আসায় ক্ষতির মুখে আবার বিদেশে চলে যান।
খাটো জাতের ভিয়েতনামি নারিকেল তিন বছরের মধ্যে ফল দেবে, এই আশায় ঝিনাইদহের শতাধিক কৃষক বাগান করেছিলেন। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেলার ছয় উপজেলায় প্রায় ২১শ ভিয়েতনামি নারিকেলগাছ থাকলেও কারও গাছে তখনো নারিকেল আসেনি। কালীগঞ্জ উপজেলার এক প্রবাসী সৌদি আরবে থাকার সময় টেলিভিশন ও ইউটিউবে এই নারিকেল নিয়ে প্রতিবেদন দেখে উদ্বুদ্ধ হন। এরপর মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টার থেকে ৬০০ টাকা দরে ৪০টি চারা কিনে বাগান করেন। কিন্তু চার বছরেও নারিকেল আসেনি; আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিনি আবার বিদেশে চলে যান, বাগান আগের মতোই পড়ে আছে। সদরের খাজুরা গ্রামের আরেক কৃষক হর্টিকালচারের প্রদর্শনী প্লটে ৪০টি গাছ লাগিয়েছিলেন; পাঁচ বছরে দু-চারটি গাছে চোমর বের হলেও কোনো নারিকেল দাঁড়ায়নি। তিনি বলেন, প্রকল্প দেওয়ার সময় তাঁকে কোটি টাকার স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। কেউ কেউ হতাশ হয়ে গাছ কেটে ফেলেছেন; একজনের গাছে ৩০–৩৫টি নারিকেল ধরলেও সেগুলো ছোট এবং পাকার আগেই ফেটে যায়। জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এই জাতে প্রচুর পরিচর্যা লাগে। বারির সাবেক মহাপরিচালক ও নারিকেল বিশেষজ্ঞ বলেন, দেশের আবহাওয়া এই জাতের অনুকূল নয়, যাঁরা বাগান করেছেন তাঁরা ভুল করেছেন।
যা শেখার আছে
- ১.টেলিভিশন বা ইউটিউবের সাফল্যের গল্প দেখে নতুন জাতে পুরো বিনিয়োগ করবেন না; নিজের এলাকায় সেই জাতে কেউ ফল পেয়েছেন কি না আগে দেখুন।
- ২.বহুবর্ষজীবী গাছে ভুল জাত বাছলে বছরের পর বছর জমি ও শ্রম আটকে যায়; অল্প কয়েকটি গাছ দিয়ে পরীক্ষা করে তারপর বাড়ান।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
