৩৩ শতকে ‘ব্ল্যাক বেবি’ তরমুজ: ৫৫ হাজার টাকা খরচ, ১ লাখ ১২ হাজার টাকা বিক্রি
কক্সবাজার সদরের এক কৃষক সবজি ছেড়ে প্রথমবার ‘ব্ল্যাক বেবি’ তরমুজ লাগিয়ে চার মাসের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। খেতে আরও ২০-৩০ হাজার টাকার তরমুজ ছিল, আর পরের বছর আবাদ তিনগুণ করার কথা ভাবছেন।
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দরগাহ পাড়ার কৃষক সেলিম উদ্দিন (৫৪) আগে সবজি চাষ করতেন। বাজারে বিদেশি জাতের ‘ব্ল্যাক বেবি’ তরমুজ চড়া দামে বিক্রি হতে দেখে আগ্রহী হন। গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ভয় ও শঙ্কা নিয়ে নিজের ৩৩ শতক জমিতে বীজ বোনেন। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় এবং আইডিএফ-এর কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে দুই মাসের মাথায় ভালো ফলন পান। ২৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ১ লাখ ১২ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন; খেতে তখনো ২০-৩০ হাজার টাকার তরমুজ ছিল। মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। একেকটি তরমুজের ওজন ২-৩ কেজি। খেত থেকে তিনি প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকায় বেচেন, আর কক্সবাজার শহরের ফলের দোকানে সেগুলো বিক্রি হয় কেজি ৮০-৯০ টাকায়। কৃষি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বীজ বপনের ৪০ দিনের মধ্যে ফুল ও ফল আসে, ফল ধরার ৩০-৩৫ দিনে খাওয়ার উপযোগী হয়, এবং শীতকাল ছাড়া বছরে দুই-তিনবার চাষ করা যায়। জেলায় গ্রীষ্মকালীন তরমুজ আগে চাষ হতো না, এই প্রথম। সেলিম উদ্দিন জানান, লাভ দেখে আশপাশের অনেক কৃষক আগ্রহ দেখাচ্ছেন; রামুর এক কৃষক তাঁর খেত ঘুরে পদ্ধতি জেনে আগামী মৌসুমে দুই একরে চাষের কথা ভাবছেন। তিনি নিজে সামনের বছর আবাদ তিনগুণ করতে চান।
যা শেখার আছে
- ১.নতুন জাতে প্রথমবার ছোট জমিতে শুরু করা নিরাপদ; এখানে ৩৩ শতকে শুরু করে সাফল্যের পর বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে।
- ২.সংস্থা ও কৃষি কর্মকর্তার সহায়তা (বীজ, সার, পরামর্শ) নতুন ফসলের ঝুঁকি কমাতে পারে।
- ৩.ক্ষেত থেকে বিক্রি আর শহরের দোকানের দামের ফারাক আছে (৫০-৬০ বনাম ৮০-৯০ টাকা কেজি); কোথায় বিক্রি করবেন, তা লাভ ঠিক করে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
