লবণের দ্বীপ কুতুবদিয়ায় ৮০ শতকে তরমুজ: ২ লাখ ১০ হাজার খরচে ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বিক্রি
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় লবণাক্ততার কারণে ধানে লাভ না হওয়ায় এক নারী পাঁচ বছর আগে তরমুজ লাগান। এ বছর ৮০ শতক জমিতে খরচ বাদে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভ হচ্ছে।
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া দ্বীপে লবণ উৎপাদনের ধুমের মধ্যে আলী আকবরডেইল ইউনিয়নের ১৪ হেক্টর জমিতে ১৭ জন চাষি ঝুঁকি নিয়ে তরমুজ চাষ করছেন। তাঁদের একজন ৪৫ বছর বয়সী এক নারী। তাঁর স্বামী অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করতেন, কিন্তু লবণাক্ততা আর সেচের সমস্যায় লাভ হচ্ছিল না। কৃষি বিভাগের লোকজনের কাছ থেকে তরমুজ চাষের কৌশল জেনে তিনি পাঁচ বছর আগে জমিতে বীজ ফেলেন। এ বছর তিনি ৮০ শতক জমিতে তরমুজ লাগিয়েছেন, খরচ হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রথম আলোর প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার তরমুজ, গাছে আরও প্রায় ৩০ হাজার টাকার আছে। খরচ বাদে লাভ হচ্ছে প্রায় দুই লাখ টাকা। জমির ৭০ শতাংশের তরমুজ ছিল ২ থেকে ৪ কেজির, প্রতিটি বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায়; মৌসুমের শুরুতে ১৭ কেজির একটি তরমুজ বিক্রি হয় ১ হাজার ৭০০ টাকায়। স্বামী পাইকারের কাছে তরমুজ বেচেন। এই আয়ে তিনি ছাগল কিনেছেন এবং অল্প কিছু জমির বায়না দিয়েছেন। পাশের এক চাষি দুই কানি জমিতে চাষ করে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পেয়েছেন, কারণ তাঁর জমিতে লবণাক্ততা বেশি হওয়ায় কিছু গাছ নষ্ট হয়েছে। বর্ষায় সাগর উত্তাল হলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে ফসল ডুবিয়ে দেওয়ার ঝুঁকিও আছে।
যা শেখার আছে
- ১.যে জমিতে লবণাক্ততার কারণে ধান লাভজনক নয়, সেখানে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে অন্য ফসল ভাবা যায়।
- ২.একই এলাকায় জমিভেদে লবণাক্ততা আলাদা, তাই ফলন ও আয়ও আলাদা হয়; জমি বাছাই গুরুত্বপূর্ণ।
- ৩.শীতকালে সাগর শান্ত থাকে বলে ঝুঁকি কম; বর্ষায় ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢোকার ঝুঁকি মাথায় রাখতে হবে।
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে আর পরিচয় গোপন রেখে আমরা এটি প্রকাশ করেছি।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। প্রথম কথাটা আপনিই লিখতে পারেন।
