আগর চাষ
আগর গাছ লাগিয়ে কাঠে পেরেক মেরে আগর জমানো, তারপর সেই কাঠ থেকে আতর। কিন্তু প্রথম টাকা আসে ৮ থেকে ১৬ বছর পর, আর রপ্তানি করতে বন অধিদপ্তরের সাইটিস অনাপত্তি সনদ লাগে।
- শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

আগর চাষ
- শুরুর পুঁজি
- ৳১,০০,০০০ – ৳১০,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ১ – ৬ জন
- প্রথম বিক্রি
- ২,৫৫৫ – ৫,৮৪০ দিন বিতর্কিত
- খরচ উঠতে
- ৯৬ – ১৯২ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- খামার · কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
আগর একটি গাছের নাম, আর আগর কাঠ হলো ওই গাছের কালো হয়ে যাওয়া অংশ। প্রকৃতিতে কাণ্ডছেদক পোকা গাছে ছিদ্র করে, সেখানে ছত্রাক ঢোকে, গাছ নিজেকে বাঁচাতে গিয়ে ক্ষতের চারপাশে বাদামি-কালো আস্তরণ তৈরি করে — সেটাই আগর। প্রাকৃতিকভাবে এই আগর জমতে ২৫ থেকে ৩০, এমনকি ৫০ বছর লাগে। তাই চাষিরা কৃত্রিম পথ ধরেন: গাছের গায়ে সারি সারি তারকাটা গেঁথে ইচ্ছা করে ক্ষত তৈরি করেন। কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে, ৫–৬ বছর বয়সী গাছে পেরেক মেরে ১৫–১৬ বছর বয়সে আগর কাঠ সংগ্রহ করা যায়; একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে ২.০–২.৫ কেজি আগর কাঠ মেলে। বণিক বার্তা (৩১-০৮-২০২৩) বলছে রোপণের ৫–৬ বছরে পেরেক আর ৭–৮ বছরে আহরণ — দুই সূত্রে অন্তত সাত বছরের ফারাক, আর এই ফারাকটাই একজন চাষির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। এই পুরো সময়টা জমি আটকে থাকে; প্রথম ৩–৫ বছর শাকসবজি বা ডাল, তারপর কয়েক বছর আদা-হলুদ বা সর্পগন্ধার মতো ছায়া-পছন্দকারী ফসল ছাড়া আয়ের আর কোনো পথ নেই। দাম টানে — সাধারণ আগর কাঠ মানভেদে কেজি ৳২০০–১,০০০, আর প্রাকৃতিকভাবে পরিপক্ব গাছের কাঠ কেজি ৳৮০,০০০–১,০০,০০০ পর্যন্ত; স্থানীয়ভাবে এক তোলা (১১.৬৬ গ্রাম) কাঁচা আতর ৳৬,০০০–১২,০০০। বাংলাদেশের আগর যায় সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান, দুবাই ও মালয়েশিয়ায়। কিন্তু আগর গাছ সাইটিস তালিকাভুক্ত — রপ্তানির আগে বন অধিদপ্তরের অনাপত্তি সনদ লাগে, আর এই সনদ পাওয়ার জটিলতাই ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳২,০০০ – ৳৩০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳৫,০০০ – ৳১,০০,০০০ / কেজি | বিতর্কিত | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৪০০ – ৳১,২৫০ / কেজি | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৭৫% – ৯৯% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ২,৫৫৫ – ৫,৮৪০ দিন | বিতর্কিত | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৯৬ – ১৯২ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ১৫ – ১২০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ২০% – ৫০% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ১ – ২০ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- তারকাটা — ১.৫ থেকে ২ ইঞ্চি, গাছের গায়ে ১–২ ইঞ্চি পর পর সারিবদ্ধভাবে গাঁথতে হয়, গোড়া থেকে উপর পর্যন্ত। এক একরের বাগানে কয়েক লাখ পেরেক লাগে। পেরেকের দাম ও গাছপ্রতি কতটি লাগে তা এখানে যাচাই করা যায়নি।শুরুর মাল
- বনজদ্রব্য পরিবহনের পাস — বনজদ্রব্য পরিবহন (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০১১ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯৭৩ সালের বিধিমালা অনুযায়ী আগর কাঠ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় নিতে পাস লাগে। ফি ও মেয়াদ যাচাই করা যায়নি।লাইসেন্স
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। ফরম ৳১০, লাইসেন্স বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০, ৩–৫ কর্মদিবসে ইস্যু, প্রতি বছর নবায়ন।লাইসেন্স
- ভ্যাট নিবন্ধন ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ — আতর রপ্তানি করতে হলে দরকার। বিডিনিউজের হিসাবে মৌলভীবাজারের প্রায় ২০০টি কারখানার মধ্যে মাত্র ৭০টির মতো ট্যাক্স ও ভ্যাট নিবন্ধন আছে, অর্থাৎ বেশিরভাগ কারখানাই কাগজে নেই। ফি ও প্রক্রিয়া এখানে যাচাই করা যায়নি।লাইসেন্স
- সাইটিস রপ্তানি অনাপত্তি সনদ (CITES Export NOC) — বন অধিদপ্তর। আগর (Aquilaria) সাইটিস তালিকাভুক্ত উদ্ভিদ, তাই আগর কাঠ বা আতর বিদেশে পাঠাতে বন অধিদপ্তরের অনাপত্তি লাগে; বন অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ইস্যু করা এনওসির তালিকা নিয়মিত প্রকাশিত হয় (সর্বশেষ হালনাগাদ ২৭-০৭-২০২৬)। ফি, মেয়াদ ও প্রক্রিয়ার সময় এখানে যাচাই করা যায়নি; বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলে জেনে নিতে হবে।লাইসেন্স
- 'দৌড়াল' — স্থানীয় ভাষায় যাঁরা আগর কাঠ শনাক্ত করেন। গাছ কাটার উপযুক্ত হয়েছে কিনা তা বয়স নয়, গাছের রুগ্নতা দেখে বুঝতে হয়, আর লগ চিরে কালো অংশ আস্ত রেখে 'ধুম' বানানো পুরোপুরি হাতের কাজ। এই দক্ষতা ছাড়া ভালো কাঠও কম দামে যায়।দক্ষতা
- বড়লেখার সুজানগর ইউনিয়নের আগর-আতর কারখানার সঙ্গে সম্পর্ক — বণিক বার্তার হিসাবে ওখানে প্রায় ২৫০টি কারখানা, জেলার আর কোথাও আরও ৫০টি; নিবন্ধিত ১৭৬টি। কাঁচা কাঠের ক্রেতা মূলত এরাই।সরবরাহকারী
- টিলা বা উঁচু জমি, অথবা বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমি। একক বাগানে সারি ৫–৬ ফুট, গাছ থেকে গাছ ৩–৪ ফুট — এক একরে প্রায় ১,৮০০–২,৯০০টি গাছ। ১৫ বছর ধরে জমিটি অন্য কাজে লাগবে না, শুধু প্রথম কয়েক বছর আন্তঃফসল করা যাবে।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1সিদ্ধান্তটা নিন চোখ খোলা রেখে: এটা ৮ থেকে ১৬ বছরের অপেক্ষা। যে জমিতে আগর লাগাবেন, সেই জমি থেকে এই পুরো সময়ে ধান বা সবজির আয় আর পাবেন না। যার এই সময় ধরে অন্য আয় নেই, তাঁর এটা করা উচিত নয়।
- 2জমি বাছুন। টিলা বা পাহাড়ের ঢালে আগর ভালো জন্মে, তবে বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশ, পতিত জমিতেও হয়। বাংলাদেশে চাষ হয় Aquilaria agallocha ও Aquilaria malaccensis প্রজাতির গাছ।
- 3চারা জোগাড় করুন। বীজ থেকেও করা যায়, তবে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা মাত্র ৭–১০ দিন থাকে, তাই ফল পাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বালুর বেডে বসাতে হয়; ২০–২৫ দিন পর পলিব্যাগে সরাতে হয়। সাধারণত ১–২ বছর বয়সী চারা মাঠে লাগানো হয়।
- 4বর্ষায় লাগান — জুন থেকে সেপ্টেম্বর। ৫০x৫০x৫০ সেমি. গর্তে পচা গোবর ও সার দিয়ে রাখুন। একক বাগানে সারি ৫–৬ ফুট, গাছ থেকে গাছ ৩–৪ ফুট; মিশ্র বাগানে একটু বেশি ফাঁক।
- 5প্রথম ৩–৫ বছর ফাঁকা জায়গায় শাকসবজি ও ডাল লাগান। এরপর কয়েক বছর ছায়া পছন্দকারী সর্পগন্ধা, আদা বা হলুদ। এই আন্তঃফসলই অপেক্ষার বছরগুলোয় আপনার একমাত্র আয়।
- 6খরায় সেচ দিন, আগাছা দমন করুন, আর বছরে দুইবার — বর্ষার আগে ও পরে — সার দিন। নতুন বাগানে রাসায়নিক সার দরকার নেই; গাছের বয়স বাড়লে দেওয়া যায়।
- 7পেরেক মারার সময় ঠিক করুন। কৃষি তথ্য সার্ভিসের পর্যবেক্ষণে ৪–৫ বছর বয়সী গাছে ১.৫–২ ইঞ্চি তারকাটা ১–২ ইঞ্চি পর পর সারিবদ্ধভাবে গাঁথা হয়; তারকাটার অর্ধেক অংশ কাণ্ডে ঢোকানো হয়, একটু আড়াআড়ি করে। ১০-১২ বছরের ১০-১২ ইঞ্চি পরিধির গাছে ৪-৫ ইঞ্চি পর পরও মারা হয়।
- 8এরপর কেবল অপেক্ষা। ক্ষতের চারপাশে কালো আস্তরণ পূর্ণ হতে ৪–৬ বছর লাগে। গাছ কাটবেন বয়স দেখে নয় — বৃদ্ধি বন্ধ হওয়া, কাণ্ডে দৃশ্যমান ক্ষত, কাঠের বিকৃতি, পাতা ছোট হয়ে আসা ও ডাল মরে যাওয়া দেখে।
- 9জানুয়ারি থেকে এপ্রিলে কাটুন। এ সময় গাছ সুপ্ত থাকে বলে কাঠে তেলের পরিমাণ বেশি ও মান ভালো হয়। সারা বছর কাটা গেলেও দামে পার্থক্য হয়।
- 10কাঠ বাছাই করুন। লগ করে দুই ভাগ — ঘন কালো, হালকা কালো ও তামাটে এক ভাগে, ধূসর-সাদা অন্য ভাগে। হালকা কালো ও তামাটে লগ লম্বালম্বি চিরে 'ধুম' বানানো হয়, সাবধানে তারকাটা তুলে ফেলা হয় যাতে কালো অংশ আস্ত থাকে।
- 11ঠিক করুন কাঠ বেচবেন নাকি নিজে আতর বাটবেন। কাঁচা কাঠ কারখানায় বেচলে সাধারণ গ্রেডে কেজি ৳২০০–১,০০০। নিজে বাটলে আয় অনেক বেশি, কিন্তু চোলাই যন্ত্র, ট্যাংক, জ্বালানি ও শ্রমিক লাগে — ২০১৬ সালে একটি ছোট কারখানা বসাতে ৳৩,৫০,০০০ লেগেছিল।
- 12রপ্তানি করতে চাইলে কাগজ আগে গুছান। আগর গাছ সাইটিস তালিকাভুক্ত, তাই বন অধিদপ্তরের সাইটিস রপ্তানি অনাপত্তি সনদ (NOC) লাগে; এর সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট নিবন্ধন ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ। বৈধতার এই কাগজই এই শিল্পের সবচেয়ে বড় বাধা বলে ব্যবসায়ীরা বছরের পর বছর অভিযোগ করে আসছেন।
মৌসুম
- জানুবেশি
- ফেব্রুবেশি
- মার্চবেশি
- এপ্রিলবেশি
- মেস্বাভাবিক
- জুনস্বাভাবিক
- জুলাইকম
- আগস্টকম
- সেপ্টেস্বাভাবিক
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেস্বাভাবিক
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীমৌলভীবাজার · দেশের আগর-আতরের কেন্দ্র। বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নেই ছোট-বড় প্রায় ২৫০–৩০০টি কারখানা, জেলার আর কোথাও আরও ৫০টি; বন বিভাগে নিবন্ধিত ১৭৬টি। কাঁচা কাঠ বেচার একমাত্র প্রকৃত বাজারও এখানেই।
- খুব উপযোগীসিলেট · কৃষি তথ্য সার্ভিস সিলেট অঞ্চলকে আগর চাষের উপযোগী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে; টিলা জমি ও বৃষ্টিপাত দুটোই মানানসই, আর বড়লেখার কারখানাগুলো কাছেই।
- সম্ভববান্দরবান · পাহাড়ি জমি উপযুক্ত, তবে বনজদ্রব্য পরিবহনে পার্বত্য চট্টগ্রামের আলাদা বিধিমালা প্রযোজ্য আর কাঠ বড়লেখা পর্যন্ত টানতে হয়।
- সম্ভবচট্টগ্রাম · কৃষি তথ্য সার্ভিস চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামকে আগর চাষের উপযোগী বলেছে; পাহাড়ের ঢালে ভালো জন্মে আর বন্দর কাছে।
- সম্ভবকক্সবাজার · পাহাড়ের ঢালে সম্ভব, তবে লবণাক্ত বাতাস ও বালু মাটির জায়গা এড়াতে হবে।
- সম্ভবহবিগঞ্জ · টিলা ও চা-বাগানের ঢালে জমি আছে, মৌলভীবাজারের কারখানা থেকে দূরত্ব কম; তবে স্থানীয় ক্রেতা নেই।
- সম্ভবখাগড়াছড়ি · পাহাড়ি পতিত জমিতে সামাজিক বনায়নের সঙ্গে আগর লাগানো যায়, কিন্তু আহরণ ও পরিবহনে বন বিভাগের অনুমতি লাগে।
- সম্ভবরাঙ্গামাটি · টিলার ঢালে জন্মে; তবে ক্রেতা দূরে বলে পরিবহনেই লাভের বড় অংশ চলে যায়।
- সম্ভবসুনামগঞ্জ · উঁচু জমিতে সম্ভব, কিন্তু হাওরের নিচু এলাকায় নয় — আগর জলাবদ্ধতা সহ্য করে না।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিচলতি মূলধন: আট থেকে ষোলো বছর কোনো আয় নেই। সূত্রগুলো এই সময়ের হিসাবেই একমত নয় — কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে ১৫-১৬ বছর, বণিক বার্তা বলছে ৭-৮ বছর। অর্থাৎ যিনি সাত বছর ধরে পরিকল্পনা করে ঋণ নিয়েছেন, তিনি আরও আট বছর ঝুলে যেতে পারেন। এর মধ্যে সার, সেচ, পাহারা ও জমির খাজনা চলতেই থাকে। মাঝপথে টাকার দরকার পড়লে অপরিণত গাছ কাটতে হয়, আর অপরিণত আগর কাঠের দাম কিছুই না।
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: রপ্তানির কাগজ। আগর সাইটিস তালিকাভুক্ত, তাই বন অধিদপ্তরের অনাপত্তি সনদ ছাড়া বৈধভাবে বিদেশে পাঠানো যায় না। বিডিনিউজ (১৩-০২-২০২১) লিখেছে, সাইটিস ও এনওসির জটিলতায় অনেক ব্যবসায়ী অবৈধ পথে পণ্য পাঠাতে বাধ্য হন; প্রথম আলো (০১-০৪-২০১৬) লিখেছিল, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকারি হিসাবে আতর রপ্তানি শূন্য ছিল যদিও অনানুষ্ঠানিক রপ্তানি চলছিল। অবৈধ পথে গেলে চালান ধরা পড়ার ঝুঁকি চাষির নয়, কিন্তু দামটা তাঁরই কমে।
- বেশিচাহিদা: ক্রেতা প্রায় পুরোটাই মধ্যপ্রাচ্য, আর সেই বাজার বন্ধ হলে পুরো শিল্প থেমে যায়। ২০২০-২১ সালে করোনায় দুই বছর মধ্যপ্রাচ্যের ক্রেতারা আসেননি; প্রথম আলোর (২৪-১১-২০২১) হিসাবে সুজানগরের প্রায় ৩০০ কারখানার বেশিরভাগ বন্ধ হয়ে যায় আর প্রায় ৫,০০০ শ্রমিক বেকার হন। যে ফসল ১৫ বছর ধরে তৈরি হয়, তার বিক্রির দিনে বাজার বন্ধ থাকলে বিকল্প নেই।
- বেশিঅন্যান্য: পেরেক মারলেই আগর জমে না। কৃষি তথ্য সার্ভিস নিজেই লিখেছে, গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গাছ কতটা রুগ্ন হয়েছে দেখে — অর্থাৎ কোন গাছে কতটা রজন জমল তার আগাম নিশ্চয়তা নেই। সাধারণ সাদা আগর কাঠ নরম, আতর ছাড়া আর কোনো কাজে লাগে না, জ্বালানি কাঠ হিসেবে যায়। এক একরের হাজার দুয়েক গাছের কতগুলো ভালো গ্রেড দেবে, তার কোনো সরকারি বা গবেষণার সংখ্যা নেই।
- মাঝারিনির্ভরশীলতা: ক্রেতা হাতে গোনা। কাঁচা কাঠ কেনে মূলত বড়লেখার সুজানগরের কারখানাগুলো, আর জেলার বাইরে ক্রেতা নেই বললেই চলে। বিডিনিউজ লিখেছে, ২০০টি কারখানার মধ্যে মাত্র ৭০টির মতো ভ্যাট নিবন্ধিত — অর্থাৎ বেশিরভাগ লেনদেন কাগজহীন, দাম নিয়ে দরকষাকষির কোনো লিখিত ভিত্তি থাকে না, আর টাকা না পেলে যাওয়ার জায়গাও থাকে না।
সূত্র
CITES Export NOC — রপ্তানির জন্য অনাপত্তি সনদের তালিকা ও আদেশসমূহ (হালনাগাদ ২৭-০৭-২০২৬)
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: requirements · বাংলাদেশ
- সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: requirements · বাংলাদেশ
সম্ভাবনাময় আগর-আতর শিল্প — কৃষি কথা, জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ (প্রকাশ ১৫-০৬-২০১৭)
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি, শুরুর পুঁজি, districts, খরচ উঠে আসার সময়, বিক্রয় মূল্য, বিক্রয় মূল্য, প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়, পরিবর্তনশীল খরচ, অপচয় ও ক্ষতির হার · মৌলভীবাজার, সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম
সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির ধাপ সমূহ
সংগ্রহ: ১৬ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: requirements · বাংলাদেশ
Farmers in Thakurgaon count losses as potato prices fall
সংগ্রহ: ২৮ ফেব, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · ঠাকুরগাঁও
দেশে দেশে সুগন্ধ ছড়াচ্ছে মৌলভীবাজারের আগর-আতর
সংগ্রহ: ৩১ আগ, ২০২৩যে হিসাবের সূত্র: বিক্রয় মূল্য, বিক্রয় মূল্য, প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় · মৌলভীবাজার — বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়ন
- সংগ্রহ: ২৪ নভে, ২০২১
যে হিসাবের সূত্র: বিক্রয় মূল্য, risks · মৌলভীবাজার — বড়লেখা, সুজানগর
সম্ভাবনার আতর শিল্পের দুয়ারে ‘বৈধতার’ চাবি
সংগ্রহ: ১৩ ফেব, ২০২১যে হিসাবের সূত্র: requirements · মৌলভীবাজার
সুজানগরের আগর-আতর জয় করেছে মধ্যপ্রাচ্য
সংগ্রহ: ১ এপ্রি, ২০১৬যে হিসাবের সূত্র: মাসিক চলতি মূলধন, প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় · মৌলভীবাজার — বড়লেখা, সুজানগর
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
এই ব্যবসার গল্প
৩৬টি আগরগাছ বিক্রি ১৩ লাখ টাকায়, একটিই ৬ লাখ
বাঘাইছড়ির এই বাগানমালিক ৩৬টি আগরগাছ বিক্রি করেছেন মোট ১৩ লাখ টাকায় — সবচেয়ে বড় গাছটিই গেছে ৬ লাখে, বাকিগুলো ২৫–৩০ হাজার টাকায়।
- কারণ
- চাহিদা কম, ভালো মান
একই রকম আরও ব্যবসা
কৃষি ও খামারটার্কি পালন
২০১৫–২০২০ সালের হুজুগে প্রায় ৫ হাজার খামার হয়েছিল, এখন কয়েক শ। বাচ্চার দাম ৬০০ থেকে ১৫০ টাকায় নেমেছে আর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এই পালন নিরুৎসাহিত করে।
- পুঁজি
- ৳১ লাখ
- জনবল
- ১ – ৩ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ দিন
কৃষি ও খামারপান বরজ
বাঁশ ও ছনের বরজে পান চাষ। বিঘাপ্রতি খরচ প্রায় ৳১ লাখ, আর রাজশাহীতে ৬৪ পাতার এক বিড়া ৳১০০–১২০ থেকে নেমে ৳৪ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে।
- পুঁজি
- ৳১ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ১২০ – ১৮০ দিন
কৃষি ও খামারসমতলের চা চাষ
সমতল জমিতে চা লাগিয়ে কাঁচা পাতা তুলে কারখানায় নগদে বিক্রি। মার্চ ২০২৬-এ নির্ধারিত দর কেজি ৳২৮, বাজারে ৳৩৪–৩৫; তবে ওজন থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কাটা যায়।
- পুঁজি
- ৳১ লাখ – ৳৫ লাখ
- জনবল
- ১ – ৬ জন
- প্রথম আয়
- ৭৩০ – ১,০৯৫ দিন
কৃষি ও খামারপুকুরে মাছ চাষ
মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে পুকুরে হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন ৪.৯৬ টন — ময়মনসিংহে ১২.৭২ টন আর রাঙ্গামাটিতে ২.০১ টন। জেলা বদলালেই আয় বদলে যায়।
- পুঁজি
- ৳১ লাখ – ৳৬ লাখ
- জনবল
- ১ – ৪ জন
- প্রথম আয়
- ২৪০ – ৩৬৫ দিন
