মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

ব্যাটারি রিকন্ডিশনিং — পুরোনো ব্যাটারি সারানো

দুর্বল হয়ে পড়া সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারিতে পানি-অ্যাসিড ঠিক করে, ধীরে চার্জ দিয়ে আবার চালু করা। ব্যাটারি ভেঙে সীসা গলানো সম্পূর্ণ আলাদা কাজ — সেটি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া করলে অপরাধ, আর দেশে প্রায় ১,১০০ কারখানার মধ্যে মাত্র ৭টির ছাড়পত্র আছে।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
ব্যাটারি রিকন্ডিশনিং — পুরোনো ব্যাটারি সারানো

ব্যাটারি রিকন্ডিশনিং — পুরোনো ব্যাটারি সারানো

শুরুর পুঁজি
৳৫০,০০০ – ৳৪,০০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ৫ জন
প্রথম বিক্রি
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
৬ – ২৪ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
ওয়ার্কশপ · কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

দেশের সড়কে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলে, আর একেকটিতে পাঁচটি করে সীসা-অ্যাসিড ব্যাটারি থাকে যা অনেক সময় ছয় মাসেই দুর্বল হয়ে পড়ে। রিকন্ডিশনিং মানে সেই দুর্বল ব্যাটারিটা আবার খানিকটা চালু করা — সেলের পানির মাত্রা দেখা, ডিস্টিল্ড ওয়াটার দিয়ে ভরা, ইলেকট্রোলাইটের ঘনত্ব মেপে ঠিক করা, টার্মিনালের ক্ষয় পরিষ্কার করা, আর কম কারেন্টে অনেকক্ষণ ধরে চার্জ দিয়ে প্লেটের সালফেট কমানো। এটুকু কাজে কোনো গলানো নেই, ধোঁয়া নেই। এর পাশেই আছে একেবারে আলাদা একটা কাজ — পুরোনো ব্যাটারি ভেঙে ভেতরের সীসা খোলা চুল্লিতে গলিয়ে পিণ্ড বানানো, যাকে বলা হয় ভাটি। দুটোকে এক করে ফেলা যাবে না। ভাটি চালানো পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের অধীনে দণ্ডনীয়; পরিবেশ অধিদপ্তর ছয় মাসে সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, শরীয়তপুর ও মুন্সিগঞ্জে ১১টি অবৈধ কারখানা বন্ধ করেছে, আমিনবাজারে ছয়টি চুল্লি ভেঙেছে, আর কুষ্টিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত দুজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে। ক্ষতিটা কাগজের নয়: অবৈধ চুল্লির আশপাশে শিশুদের রক্তে সীসার গড় ৬.৫ মাইক্রোগ্রাম, যেখানে রেফারেন্স ৩.৫; পাঁচ বছরের নিচে ৩৮ শতাংশ শিশুর রক্তে বাড়তি সীসা আছে। যে কেউ এই ব্যবসায় নামলে তাকে আগে ঠিক করতে হবে সে কোন কাজটা করছে, আর দ্বিতীয়টা করতে চাইলে ছাড়পত্র ছাড়া এক পা-ও এগোনো যাবে না।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳২০,০০০ – ৳১,৫০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৪০০ – ৳৮০০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
পরিবর্তনশীল খরচ৳১১৫ – ৳১৬৫ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৪৯% – ৮৬%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়১৫ – ৬০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়৬ – ২৪ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র১ – ৩০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার৩০% – ৬০%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৪ – ২০সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • নিয়ন্ত্রিত কারেন্টের ও বহু-চ্যানেল চার্জার, হাইড্রোমিটার, ডিজিটাল মাল্টিমিটার, লোড টেস্টার, অ্যাসিড-প্রতিরোধী ট্রে ও ফানেল, অ্যাসিড-প্রতিরোধী দস্তানা-চশমা-অ্যাপ্রন, আর চোখ ধোয়ার পানির ব্যবস্থা। দাম এখানে যাচাই করা যায়নি।যন্ত্রপাতি
  • সেকেন্ডারি ব্যাটারির পানি (ডিস্টিল্ড ওয়াটার) — বিএসটিআই-এর বাধ্যতামূলক তালিকার ক্রমিক ২৭০, BDS 834:2007। সঙ্গে নির্দিষ্ট ঘনত্বের সালফিউরিক অ্যাসিড, ভেন্ট ক্যাপ ও টার্মিনাল। দাম যাচাই করা যায়নি।শুরুর মাল
  • বিএসটিআই সিএম লাইসেন্স — নিজের ব্র্যান্ডে ব্যাটারি বিক্রি করলে লাগবে। সীসা-অ্যাসিড স্টার্টার ব্যাটারি বাধ্যতামূলক তালিকার ক্রমিক ২৬৮ (BDS 206 পার্ট ১, ২, ৩:২০০২), ট্র্যাকশন ব্যাটারি ক্রমিক ৩০৪ (BDS IEC 60254 পার্ট ১:২০১৮)। শুধু গ্রাহকের ব্যাটারি মেরামত করে ফেরত দিলে লাগে না।লাইসেন্স
  • ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। ফরম ৳১০, বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, লাইসেন্স ফি ৳১০০–৬০,০০০, ইস্যু ৩–৫ কর্মদিবসে, প্রতি বছর নবায়ন।লাইসেন্স
  • পরিবেশগত ছাড়পত্র — পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ২০২৩ (এস.আর.ও ৫৩)। ব্যাটারি ভেঙে সীসা গলানো বা পুনঃপ্রক্রিয়া করা হলে এটি বাধ্যতামূলক; দেশে প্রায় ১,১০০ এমন কারখানার মধ্যে মাত্র ৭টির ছাড়পত্র আছে। ছাড়পত্র ছাড়া চালালে কারখানা বন্ধ ও ভেঙে ফেলা হয় এবং জরিমানা হয় — কুষ্টিয়ায় দুজনকে ৫০,০০০ টাকা করে করা হয়েছে। ফি ও প্রক্রিয়ার সময় এখানে যাচাই করা যায়নি; জেলা পরিবেশ কার্যালয়ে জানতে হবে। শুধু পানি ভরা, অ্যাসিড ঠিক করা ও চার্জ দেওয়ার কাজে এটি প্রযোজ্য কি না, তাও অফিসে গিয়ে লিখিতভাবে জেনে নেওয়া দরকার।লাইসেন্স
  • হাইড্রোমিটারের পাঠ বোঝা, সেল ধরে ধরে ভোল্টেজ মাপা, কোন ব্যাটারি ফিরবে আর কোনটা ফিরবে না তা আগে বুঝে নেওয়া, আর অ্যাসিড নিরাপদে মেশানো — সব সময় পানিতে অ্যাসিড, কখনো অ্যাসিডে পানি নয়।দক্ষতা
  • নষ্ট ব্যাটারি হস্তান্তরের নিবন্ধিত পথ — এস.আর.ও ৪৫-আইন/২০২১ অনুযায়ী উৎপাদক ও রিসাইক্লারদের সংগ্রহকারী এজেন্ট থাকার কথা। কোন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত, সেই তালিকা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জেনে নিতে হবে।সরবরাহকারী
  • হাওয়া চলাচলের ঘর, পাকা ও অ্যাসিড-সহনশীল মেঝে, পানির কল, আর চার্জিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সংযোগ। ঘরটি বসতবাড়ির ভেতরে বা রান্নাঘরের পাশে নয় — সীসার ধুলো ঘরে ঢুকলে শিশুদের রক্তে ওঠে।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1প্রথমেই সীমানা টানুন: আপনি ব্যাটারি সারাবেন, নাকি ভেঙে সীসা গলাবেন। দ্বিতীয়টি পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া করলে কারখানা ভেঙে দেওয়া হয় ও জরিমানা হয়। এক দোকানে দুটো একসঙ্গে চালানোর কথা ভাববেন না।
  2. 2হাতে-কলমে শিখুন — সেলের পানির মাত্রা দেখা, হাইড্রোমিটারে ইলেকট্রোলাইটের ঘনত্ব মাপা, লোড টেস্টার দিয়ে ব্যাটারি জীবিত কি না বোঝা। না শিখে ভালো ব্যাটারি নষ্ট করলে তার দাম আপনাকেই দিতে হবে।
  3. 3ঘর নিন হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থাসহ, মেঝে পাকা, আর পাশে পানির কল। অ্যাসিড ছিটলে ধুয়ে ফেলার জায়গা না থাকলে কাজ করবেন না।
  4. 4ব্যক্তিগত সুরক্ষা কিনুন আগে, যন্ত্র পরে — অ্যাসিড-প্রতিরোধী দস্তানা, চোখের চশমা, অ্যাপ্রন। সীসা ও অ্যাসিড দুটোই ধীরে ক্ষতি করে, একদিনে নয়।
  5. 5বহু-চ্যানেলের চার্জার ও নিয়ন্ত্রিত কারেন্টের চার্জার বসান। সালফেট ভাঙার চার্জ কম কারেন্টে ১২–২৪ ঘণ্টা চলে, তাই যত বেশি চার্জ পয়েন্ট তত বেশি কাজ।
  6. 6ডিস্টিল্ড ওয়াটার কিনুন — সেকেন্ডারি ব্যাটারির পানি বিএসটিআই-এর বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় ক্রমিক ২৭০, BDS 834:2007। কলের পানি বা অচিহ্নিত পানি ঢাললে প্লেট আরও দ্রুত নষ্ট হয়।
  7. 7ট্রেড লাইসেন্স নিন (ফরম ৳১০, বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, ফি ৳১০০–৬০,০০০; ৩–৫ কর্মদিবসে) এবং ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রের বিষয়ে স্থানীয় অফিসে জেনে নিন।
  8. 8প্রতিটি ব্যাটারি নেওয়ার সময় খাতায় লিখুন — মালিকের নাম, ব্যাটারির নম্বর, ভোল্টেজ, ঘনত্বের পাঠ ও কত দিনের পুরোনো। এই খাতাই পরে বলে দেবে কোন ব্র্যান্ডের ব্যাটারি ফেরে আর কোনটা ফেরে না।
  9. 9যে ব্যাটারি আর চলবে না, তা কী করবেন আগেই ঠিক করুন। এস.আর.ও ৪৫-আইন/২০২১ অনুযায়ী উৎপাদক ও রিসাইক্লারদের পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহের এজেন্ট রাখতে হয় — নিবন্ধিত রিসাইক্লার বা উৎপাদকের সংগ্রহকারীর কাছেই দিন, ভাটিতে নয়।
  10. 10গ্রাহককে স্পষ্ট বলুন রিকন্ডিশন করা ব্যাটারি নতুনের সমান নয় এবং কতদিন চলতে পারে তারও নিশ্চয়তা নেই। মুখে ওয়ারেন্টি দিয়ে দিলে ফেরত আসা ব্যাটারির খরচ আপনার ঘাড়েই পড়বে।
  11. 11নিজের নামে ব্যাটারি বানিয়ে বা মেরামত করে ব্র্যান্ড লাগিয়ে বিক্রির কথা ভাবলে আগে বিএসটিআই দেখুন — সীসা-অ্যাসিড স্টার্টার ব্যাটারি (BDS 206 পার্ট ১–৩) ও ট্র্যাকশন ব্যাটারি (BDS IEC 60254 পার্ট ১:২০১৮) দুটোই বাধ্যতামূলক মান সনদের তালিকাভুক্ত।
  12. 12বছরে অন্তত একবার নিজের ও কর্মীদের রক্তে সীসার মাত্রা পরীক্ষা করান। অবৈধ চুল্লির আশপাশে শিশুদের গড় ৬.৫ মাইক্রোগ্রাম, রেফারেন্স ৩.৫ — এই কাজে থাকলে সংখ্যাটা নিজের বলেও জানা দরকার।

মৌসুম

  1. জানুস্বাভাবিক
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চবেশি
  4. এপ্রিলবেশি
  5. মেবেশি
  6. জুনবেশি
  7. জুলাইস্বাভাবিক
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেকম
  12. ডিসেকম
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীঢাকা · ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সবচেয়ে বড় বহর এখানেই, আর ঢাকাতেই ২৬১টি ব্যাটারির খুচরা দোকান গোনা হয়েছে। একই সঙ্গে সাভার, ধামরাই ও কেরানীগঞ্জে অবৈধ সীসার চুল্লির বিরুদ্ধে অভিযান হয়েছে — কাজ ও নজরদারি দুটোই এখানে সবচেয়ে বেশি।
  • খুব উপযোগীগাজীপুর · শিল্প এলাকা ও ঘন ইজিবাইক চলাচল; শ্রীপুরের মনসুরাবাদে শালবনের ভেতরে অবৈধ সীসার কারখানা বন্ধ করা হয়েছে, অর্থাৎ বাজার আছে আর নজরদারিও শুরু হয়েছে।
  • খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · গার্মেন্টস ও পরিবহনের ঘনত্ব বেশি, আইপিএস ও ইজিবাইক দুই ধরনের ব্যাটারিরই বড় বাজার।
  • সম্ভববগুড়া · উত্তরাঞ্চলের যন্ত্রপাতি ও মেরামতের কেন্দ্র; আশপাশের জেলার ইজিবাইক এখানেই সারাতে আসে।
  • সম্ভবচট্টগ্রাম · বন্দর ও পরিবহনের ঘনত্ব, ট্রাক-পিকআপ ও আইপিএসের ব্যাটারির বড় বাজার।
  • সম্ভবকুষ্টিয়া · কুমারখালীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধ ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়ার কারখানায় জরিমানা করেছে — এই জেলাতেও পুরোনো ব্যাটারির স্রোত আছে।
  • সম্ভবমুন্সীগঞ্জ · ঢাকার লাগোয়া, ইজিবাইকের সংখ্যা বেশি; এখানেও অবৈধ সীসা কারখানা বন্ধ করা হয়েছে।
  • সম্ভবনরসিংদী · অবৈধ সীসা কারখানার বিরুদ্ধে অভিযানের তালিকায় নাম আছে — অর্থাৎ পুরোনো ব্যাটারির জোগান এখানে যথেষ্ট, কিন্তু নজরদারিও আছে।
  • সম্ভবরংপুর · শহর ও উপজেলা সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোই প্রধান বাহন, কিন্তু চালকের আয় কম বলে নতুন ব্যাটারির বদলে মেরামতের চাহিদা বেশি।
  • সম্ভবশরীয়তপুর · অভিযানের তালিকাভুক্ত জেলা; গ্রামীণ সড়কে ইজিবাইকই প্রধান বাহন।
  • সম্ভবটাঙ্গাইল · ইজিবাইকের ব্যাটারি বদলের সৌরচালিত ক্যাবিনেট এখানে চালু হয়েছে; ব্যাটারি-সেবার চাহিদা তৈরি হয়ে আছে।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • মাঝারিনির্ভরশীলতা: পুরো কাজটা বিদ্যুতের ওপর দাঁড়ানো। সালফেট ভাঙার চার্জ ১২–২৪ ঘণ্টা টানা চলতে হয়; লোডশেডিং হলে চক্র ভেঙে যায় আর ব্যাটারি আগের অবস্থায় ফিরে যায়। গরমকালে, যখন কাজ সবচেয়ে বেশি, লোডশেডিংও তখনই সবচেয়ে বেশি।
  • মাঝারিচলতি মূলধন: বিদ্যুতের বিল মাস শেষে দিতেই হয়, অথচ গ্যারেজ ও চার্জিং স্টেশনের বিল আসে তারও পরে। আর যে ব্যাটারিগুলো শেষ পর্যন্ত ফিরল না, সেগুলোর পেছনে যাওয়া দিন দুয়েকের বিদ্যুৎ ও শ্রম কেউ শোধ করে না।
  • বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা সীসা গলানোর দিকে এক পা বাড়ালেই ব্যবসা শেষ। পরিবেশ অধিদপ্তর ছয় মাসে সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, শরীয়তপুর ও মুন্সিগঞ্জে ১১টি কারখানা বন্ধ করেছে ও আমিনবাজারে ছয়টি চুল্লি ভেঙেছে; কুষ্টিয়ায় দুজনকে ৫০,০০০ টাকা করে জরিমানা হয়েছে। মনে রাখা দরকার, প্রয়োগ এখনো বিরল — জানুয়ারি ২০১৯ থেকে মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত মামলা হয়েছে মাত্র ৩০টি, জরিমানা মোট ১৬.৩ লাখ টাকা, কারাদণ্ড একজনের সাত দিন। বিরল বলেই অনেকে ঝুঁকি নেন, আর ধরা পড়লে একবারেই সব যায়।
  • বেশিঅন্যান্য: সীসা ও অ্যাসিড আপনার নিজের শরীরের ক্ষতি করে, আর ধুলো জামায় লেগে ঘরে ঢুকলে সন্তানের। বাংলাদেশ সীসাদূষণে বিশ্বে তৃতীয়, পাঁচ বছরের নিচে ৩৮ শতাংশ শিশুর রক্তে বাড়তি সীসা আছে, আর অবৈধ চুল্লির আশপাশে শিশুদের গড় ৬.৫ মাইক্রোগ্রাম — রেফারেন্স ৩.৫। একটি গবেষণায় এমন স্থাপনার কাছাকাছি গর্ভপাতের হার ১৬ শতাংশ থেকে ২০.২ শতাংশে উঠতে দেখা গেছে। এই ক্ষতি ফেরানো যায় না।
  • বেশিচাহিদা: রিকন্ডিশন করা ব্যাটারি কত দিন চলবে তা কেউ বলতে পারে না, তাই মুখের কথায় ব্যবসা চলে। একটি ব্যাটারি দুই সপ্তাহে বসে গেলে সেই চালক আর আসেন না এবং গ্যারেজের সবাইকে বলে দেন। ঢাকার ২৬১টি ব্যাটারির দোকানে ছদ্মবেশী জরিপে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই ক্রেতাকে অসংগতিপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে — ক্রেতার অবিশ্বাস এই বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

একই রকম আরও ব্যবসা

হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

রাজমিস্ত্রি ও ঠিকাদারি

গাঁথুনি, ঢালাই ও ফিনিশিংয়ের শ্রম চুক্তি। ঢাকায় প্লিন্থের প্রতি বর্গফুটে নির্মাণ খরচ ৳১৮০০–৩০০০, আর রাজমিস্ত্রির সরকারি ন্যূনতম হাজিরা শহরে ৳৯৪০।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳৫ লাখ
জনবল
৩ – ২৫ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

স্ক্রিন প্রিন্ট ও টি-শার্ট

কাপড়ে নকশা ছাপার কাজ। পুঁজি কম, কিন্তু প্রতিটি নকশা ও প্রতিটি রঙের আলাদা স্ক্রিন লাগে — তাই অর্ডার ছোট হলে প্রতি পিসের খরচ অনেক বেড়ে যায়।

পুঁজি
৳৫০ হাজার – ৳৪ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

তাঁত ও জামদানি

কাঠের তাঁতে হাতে বোনা শাড়ি। শাড়ি বিক্রি হয় ৳১,৫০০ থেকে ৳৩ লাখে, অথচ একজন তাঁতির মাসিক আয় প্রায় ৳৪,৫৯০ — লাভ থাকে মহাজনের হাতে।

পুঁজি
৳৬০ হাজার – ৳৪ লাখ
জনবল
২ – ১০ জন
প্রথম আয়
৭ – ১৮০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপ

দর্জি ও ছোট গার্মেন্টস ইউনিট

প্যান্ট সেলাই ৳৬০০, কারিগর পান ৳২২০, খরচ ৳৯০ — দোকানের থাকে ৳২৯০। একজন কারিগর দিনে ৫টা প্যান্ট বা ১০টা শার্ট করেন। বড় টাকা সাব-কন্ট্রাক্টে, আর সেখানকার নিয়ম এখন কড়া।

পুঁজি
৳৬০ হাজার – ৳৮ লাখ
জনবল
১ – ৩০ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান