মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট

গোবর দিয়ে রান্নার গ্যাস আর জৈব সার। এটা আয়ের ব্যবসা নয়, খরচ বাঁচানোর ব্যবস্থা — প্ল্যান্ট বসাতে ৳২৮,০০০–৫০,০০০, আর সাশ্রয় হয় মাসে জ্বালানির ৳৪,০০০ ও সার বিক্রি করে ৳২,০০০–২,৫০০।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট

বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট

শুরুর পুঁজি
৳২৮,০০০ – ৳৫০,০০০
অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
জনবল
১ – ২ জন
প্রথম বিক্রি
১৫ – ৯০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
৭ – ৩০ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
খামার · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট বসিয়ে কেউ ধনী হয় না। এটা এমন একটা যন্ত্র যা আপনার গরুর গোবরকে দুটো জিনিসে বদলে দেয় — রান্নার গ্যাস আর জৈব সার — আর তাতে আপনার প্রতি মাসের দুটো খরচ বন্ধ হয়। লাভটা আয়ের ঘরে নয়, খরচের ঘরে, আর সেটাই সবচেয়ে সৎভাবে বোঝা দরকার। পাবনায় ২০২৬ সালের জুনে দেখা গেছে, প্ল্যান্ট বসাতে লেগেছে ৳২৮,০০০, অন্যদের হিসাবে ৳৩০,০০০–৫০,০০০; একটি পরিবার মাসে জ্বালানিতে ৳৪,০০০ বাঁচাচ্ছে আর উদ্বৃত্ত জৈব সার বেচে আরও ৳২,০০০–২,৫০০ পাচ্ছে। গরু লাগে অন্তত দুটি, পাঁচটি হলে ভালো। ইডকল ২০০৬ সাল থেকে এই কাজ করছে — তাদের অর্থায়নে দিনে ১.২ থেকে ২৫ ঘনমিটার গ্যাসের প্ল্যান্ট বসে, ৩৮টি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে, আর ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৬,৫০০টির বেশি প্ল্যান্ট হয়েছে। এখন সারা দেশে প্ল্যান্টের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে, অথচ জৈব উপকরণের হিসাবে দেশে ৪০ লাখ প্ল্যান্ট সম্ভব — অর্থাৎ সম্ভাবনার মাত্র আড়াই শতাংশ কাজে লাগছে। হিসাবটা এখন আরও পক্ষে, কারণ ২০২০ সালের পর নতুন কোনো বাড়িতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না, আর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ৳১,৫৮৫। তবে দুটো সতর্কতা: গরু না থাকলে এই হিসাব অর্থহীন, কারণ গরু কেনার টাকা প্ল্যান্টের কয়েক গুণ; আর স্লারি বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্রেডার নিজের ভাষায় 'একটি বড় চ্যালেঞ্জ' — যে বাড়িতে সার ছড়ানোর জমি বা ক্রেতা নেই, সেখানে প্রতিদিনের বর্জ্য একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳৩০০ – ৳২,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৪,০০০ – ৳৬,৫০০ / এককঅভিজ্ঞ-যাচাইকৃত
পরিবর্তনশীল খরচ৳৩০০ – ৳১,৭০০ / এককসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার৫৮% – ৯৫%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়১৫ – ৯০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়৭ – ৩০ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র০ – ৩০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার২০% – ৫০%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা১.২ – ২৫সরকারি সূত্র

শুরু করতে যা লাগবে

  • বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট — নির্মাণ খরচ ৳২৮,০০০–৫০,০০০ (পাবনা, ০৯-০৬-২০২৬)। দুই ধরন: ইট-সিমেন্টে গাঁথা প্ল্যান্ট আর আগে থেকে তৈরি বায়ো-ডাইজেস্টার; ইডকল দুটোতেই অর্থায়ন করে। দিনে ১.২ থেকে ২৫ ঘনমিটার গ্যাসের মাপ পাওয়া যায়। সঙ্গে পাইপ, বায়োগ্যাসের চুলা ও বার্নার।যন্ত্রপাতি
  • গরু — অন্তত দুটি, পাঁচটি হলে পরিবারের রান্না ও উদ্বৃত্ত সার দুটোই হয় (পাবনার চালু প্ল্যান্টের উদাহরণ, ০৯-০৬-২০২৬)। গোবরই একমাত্র কাঁচামাল আর এটাই এই ব্যবস্থার আসল পুঁজি। গরুর দাম এখানে যাচাই করা যায়নি, তবে তা প্ল্যান্টের দামের কয়েক গুণ।শুরুর মাল
  • নিজের বাড়ির জন্য বসানো বায়োগ্যাস প্ল্যান্টে আলাদা কোনো লাইসেন্স লাগে বলে কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি। তবে জৈব সার প্যাকেট করে ব্র্যান্ড নামে বিক্রি করলে ট্রেড লাইসেন্স (ফরম ৳১০, বই ৳৫০, আদর্শ কর ৳৩০, স্ট্যাম্প ৳১৫০–৩০০, ফি ৳১০০–৬০,০০০, ৩–৫ কর্মদিবস) এবং সার ব্যবস্থাপনা আইনের অধীনে নিবন্ধন লাগতে পারে — এই দ্বিতীয়টি এখানে যাচাই করা যায়নি।লাইসেন্স
  • রাজমিস্ত্রির কাজ ভালো হওয়া চাই — ইট-সিমেন্টের ডাইজেস্টারে ফাটল ধরলে গ্যাস বেরিয়ে যায় আর মেরামত ব্যয়বহুল। চালানোর দিকে: প্রতিদিন গোবর-পানির সঠিক অনুপাতে মেশানো, গ্যাসের চাপ পড়ে গেলে কারণ বোঝা, আর চার-পাঁচ বছর পর পর ট্যাংক পরিষ্কার করা।দক্ষতা
  • ইডকলের সহযোগী সংস্থা — ইডকল ৩৮টি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে অর্থায়ন ও নির্মাণ তদারকি করে; যোগাযোগের নম্বর ১৬৬৫৩ (সকাল ৮টা–রাত ৯টা), ইমেইল biogas@idcol.org। গ্রামীণ শক্তিও সারা দেশে ৪০,০০০-এর বেশি প্ল্যান্ট বসিয়েছে।সরবরাহকারী
  • জৈব সারের ক্রেতা — পাশের সবজি বা ধানের চাষি, নার্সারি, মাছের ঘের বা স্থানীয় সারের দোকান। পাবনায় একটি পরিবার মাসে ৳২,০০০–২,৫০০ পাচ্ছে শুধু এই উদ্বৃত্ত সার বেচে; ক্রেতা না থাকলে এই আয়টুকু শূন্য।সরবরাহকারী
  • গোয়ালঘরের পাশে জায়গা — ২০১১ সালের একটি প্রতিবেদনে সাধারণ গৃহস্থালি প্ল্যান্টের জন্য প্রায় ২০০ বর্গফুট জায়গার কথা বলা হয়েছে (পুরনো তথ্য)। সেই সঙ্গে স্লারি ছড়ানোর জমি বা মাছের ঘের — এটি না থাকলে প্রতিদিনের বর্জ্য একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1গরু গুনুন। এটাই প্রথম ও একমাত্র আসল প্রশ্ন। পাবনার যে প্ল্যান্টগুলো চলছে, সেগুলোর একটির পেছনে দুটি গরু, আরেকটির পেছনে পাঁচটি। গরু না থাকলে এই হিসাবের কিছুই খাটে না — গরু কেনার টাকা প্ল্যান্টের কয়েক গুণ, আর গরু কেবল গ্যাসের জন্য কেনা বোকামি।
  2. 2হিসাব করুন এখন রান্নায় কত যায়। এলপিজি হলে ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ৳১,৫৮৫ (বিইআরসি, ০২-০৯-২০২৬); মাসে কয়টি লাগে গুনে ফেলুন। লাকড়ি বা কেনা কাঠ হলে সেটাও টাকায় ধরুন। এই সংখ্যাটাই আপনার প্রকৃত আয়।
  3. 3স্লারি কোথায় যাবে, আগে ঠিক করুন। স্রেডার নিজের ভাষায় বর্জ্য (স্লারি) ব্যবস্থাপনা 'একটি বড় চ্যালেঞ্জ'। নিজের জমি বা মাছের ঘের থাকলে সবচেয়ে ভালো; না থাকলে পাশের চাষি বা নার্সারির সঙ্গে আগেই কথা বলে রাখুন। পাবনায় একটি পরিবার শুধু সার বেচেই মাসে ৳২,০০০–২,৫০০ পাচ্ছে।
  4. 4ইডকলের কল সেন্টারে (১৬৬৫৩, সকাল ৮টা–রাত ৯টা) বা biogas@idcol.org-এ যোগাযোগ করুন। ইডকল ৩৮টি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে কাজ করে; আপনার এলাকার সংস্থাটির নাম ও বর্তমান ভর্তুকি-ঋণের শর্ত ওখান থেকেই জেনে নিন।
  5. 5ভর্তুকির চলতি হার নিজের কানে শুনে নিন। ২০১১ সালে ইডকলের স্টার্ট-আপ ভর্তুকি ছিল ৳৯,০০০ আর সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ঋণ ৳১৪,০০০–১৬,০০০; ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে গৃহস্থালি প্রকল্পে ভর্তুকি বলা হয়েছে ১০–২০ শতাংশ। দুটো হিসাবই পুরনো, তাই চলতি হার না জেনে পরিকল্পনা করবেন না।
  6. 6প্ল্যান্টের ধরন বাছুন। ইডকল দুই ধরনে অর্থায়ন করে — ইট-সিমেন্টে গাঁথা প্ল্যান্ট, আর আগে থেকে তৈরি বায়ো-ডাইজেস্টার। ইট-সিমেন্টে আয়ু বেশি কিন্তু রাজমিস্ত্রির কাজ ভালো না হলে ফাটল ধরে; প্রি-ফ্যাব বসানো দ্রুত।
  7. 7মাপ বাছুন গরুর সংখ্যা ধরে, বড় স্বপ্ন ধরে নয়। ইডকল দিনে ১.২ থেকে ২৫ ঘনমিটার গ্যাসের প্ল্যান্টে অর্থায়ন করে। বেশি বড় প্ল্যান্ট বানালে গোবরে ভরে না, আর আধা-ভরা ডাইজেস্টারে গ্যাস ঠিকমতো হয় না।
  8. 8গোয়ালঘরের পাশেই বসান। গোবর যত দূর টানতে হবে, প্রতিদিনের কাজ তত ভারী হবে, আর যেদিন কাজটা ভারী লাগবে সেদিন থেকেই প্ল্যান্ট বন্ধ হওয়ার পথ শুরু। রান্নাঘর পর্যন্ত পাইপের দৈর্ঘ্যও কম রাখুন।
  9. 9প্রতিদিন নিয়ম করে গোবর ও পানি মিশিয়ে ঢালুন। এটা একদিনের কাজ নয়, প্রতিদিনের কাজ — বন্ধ রাখলে গ্যাস কমে যায় আর চুলা নিভে যায়।
  10. 10চার-পাঁচ বছর পর পর ট্যাংক পরিষ্কার করুন — পাবনার অভিজ্ঞতা তাই বলছে। জমে থাকা পলি সরালে গ্যাস আবার আগের মতো হয়। পরিষ্কার না করাই অচল হয়ে পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ।
  11. 11উদ্বৃত্ত জৈব সারের ক্রেতা ধরে রাখুন। ইডকলের হিসাবে তাদের পুরো কর্মসূচি বছরে ৩,৩৫,০০০ টন জৈব সার উৎপাদন করে আর ৪৮,০০০ টন রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমায় — অর্থাৎ এই জিনিসের বাজার আছে, শুধু আপনার এলাকায় ক্রেতাটি খুঁজে নিতে হবে।
  12. 12গ্যাস লিক পরীক্ষা করুন নিয়মিত। ফাটল বা পাইপের জোড়া দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে গেলে চুলার আগুন দুর্বল হয়, আর বদ্ধ জায়গায় মিথেন জমা বিপজ্জনক। সাবান-পানি লাগিয়ে বুদবুদ দেখাই সবচেয়ে সহজ পরীক্ষা।

মৌসুম

  1. জানুস্বাভাবিক
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইস্বাভাবিক
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেস্বাভাবিক
  12. ডিসেস্বাভাবিক
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীদিনাজপুর · পাইপলাইনের গ্যাস নেই আর গবাদি পশু বেশি; ধানের জমিতে জৈব সারের চাহিদাও আছে।
  • খুব উপযোগীগাজীপুর · পোলট্রি ও ডেইরি খামারের ঘনত্ব বেশি; ইডকলের অভিজ্ঞতায় পোলট্রি বর্জ্যভিত্তিক প্ল্যান্টই সবচেয়ে সফল হয়েছে বলে স্রেডা উল্লেখ করেছে।
  • খুব উপযোগীময়মনসিংহ · বড় পোলট্রি ও ডেইরি এলাকা, আর পাইপলাইনের গ্যাস সব জায়গায় নেই বলে রান্নায় এলপিজি বা লাকড়ির খরচ বেশি।
  • খুব উপযোগীপাবনা · ইডকল ২০০৬ সাল থেকে এই জেলায় ২,০০০-এর বেশি প্ল্যান্ট বসিয়েছে; দুধের খামার ঘন, মিস্ত্রি ও সহযোগী সংস্থা দুটোই হাতের কাছে, আর সার বেচার ক্রেতাও আছে।
  • খুব উপযোগীরংপুর · পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস নেই, ফলে রান্না চলে এলপিজি ও লাকড়িতে; ১২ কেজি সিলিন্ডার ৳১,৫৮৫ হওয়ায় বাঁচানোর অঙ্কটা এখানে সবচেয়ে বড়।
  • খুব উপযোগীসিরাজগঞ্জ · পাবনা-সিরাজগঞ্জের দুগ্ধবলয় — প্রতি বাড়িতে গরু থাকায় গোবরের জোগান নিশ্চিত, আর পাশের চরের সবজিচাষিরা জৈব সার কেনেন।
  • সম্ভববগুড়া · সবজির বড় এলাকা বলে জৈব সারের ক্রেতা সহজে মেলে; গরুর সংখ্যাও ভালো।
  • সম্ভবকুমিল্লা · ডেইরি ও পোলট্রি দুটোই আছে; তবে অনেক এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস থাকায় সাশ্রয়ের অঙ্কটা ছোট হয়ে যায়।
  • সম্ভবযশোর · সবজি ও ফুলের চাষ বেশি বলে জৈব সারের নিশ্চিত ক্রেতা আছে, আর গবাদি পশুও যথেষ্ট।
  • সম্ভবকিশোরগঞ্জ · হাওর এলাকায় লাকড়ি ও গোবরের ঘুঁটে দিয়েই রান্না হয়; বায়োগ্যাস সেই দুটোরই বিকল্প, কিন্তু বর্ষায় প্ল্যান্ট ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি আছে।
  • সম্ভবসাতক্ষীরা · পাইপলাইনের গ্যাস নেই, গরু আছে; তবে লবণাক্ত পানি ও উঁচু ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে ডাইজেস্টার বসানোর জায়গা বেছে নিতে হয়।
  • সম্ভবটাঙ্গাইল · গ্রামে গরু পালন বেশি আর ঢাকার কাছে বলে মিস্ত্রি ও যন্ত্রাংশ পাওয়া সহজ।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিনির্ভরশীলতা: পুরোটাই গরুর ওপর। গরু বিক্রি হয়ে গেলে, মরে গেলে বা কোরবানিতে চলে গেলে গোবর বন্ধ, গ্যাস বন্ধ, আর প্ল্যান্টটা মাটির নিচে পড়ে থাকে। যে পরিবার আজ পাঁচটি গরু রাখে, আগামী বছর তিনটি রাখলে গ্যাস আর পুরো মাস চলবে না। তাই এই বিনিয়োগ আসলে গরু পালনের সিদ্ধান্তের একটি অংশ, আলাদা কোনো ব্যবসা নয়।
  • বেশিঅন্যান্য: বসানো প্ল্যান্টের বড় অংশ কিছুদিন পর অচল হয়ে পড়ে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হিসাবে রান্নাঘরের বর্জ্যভিত্তিক দুই লাখ প্রকল্পের প্রায় এক লাখই অকার্যকর। কারণগুলো সাধারণ — গোবর দেওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া, ট্যাংক পরিষ্কার না করা, ফাটল দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়া। প্ল্যান্ট বসানোর দিনই টাকাটা যায়, আর সেই টাকা ফেরত আসে কেবল যদি প্রতিদিন গোবর ঢালা হয়।
  • মাঝারিচলতি মূলধন: যাঁর গরু নেই, তাঁর জন্য এই হিসাব পুরোপুরি ভুল। প্ল্যান্ট ৳২৮,০০০–৫০,০০০, কিন্তু দুই-পাঁচটি গরু কিনতে লাগে তার কয়েক গুণ, আর গরুর খাবার ও গোয়ালঘরের খরচ প্রতি মাসে চলতেই থাকে। 'সাত মাসে পুঁজি ওঠে' কথাটি কেবল তাঁদের জন্য সত্য যাঁদের গোয়ালঘরে গরু আগে থেকেই বাঁধা আছে।
  • মাঝারিঅন্যান্য: স্লারি সরানোর জায়গা না থাকলে প্ল্যান্টই বোঝা হয়ে যায়। স্রেডা তাদের নিজের পাতায় লিখেছে, বায়োগ্যাস উৎপাদনের পর বর্জ্য (স্লারি) ব্যবস্থাপনা 'একটি বড় চ্যালেঞ্জ' এবং এ বিষয়ে আলাদা গাইডলাইন করা হয়েছে। প্রতিদিন যে পরিমাণ গোবর ঢালা হয়, প্রায় সেই পরিমাণই ভেজা সার হয়ে বেরিয়ে আসে — বাড়ির উঠানে সেটা জমতে দিলে দুর্গন্ধ আর মাছি।
  • মাঝারিচাহিদা: জৈব সারের ক্রেতা সব জায়গায় থাকে না। পাবনায় যে পরিবার মাসে ৳২,০০০–২,৫০০ পাচ্ছে, তার কারণ আশেপাশে চাষি আছে যাঁরা কেনেন। যে গ্রামে সবাই নিজের গোবর নিজে ব্যবহার করেন, সেখানে উদ্বৃত্ত সার বিনামূল্যেও যায় না, আর তখন পুরো হিসাব থেকে মাসে দুই হাজার টাকা বাদ পড়ে যায় — পরিশোধের সময় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

একই রকম আরও ব্যবসা

কৃষি ও খামার

ভেড়া পালন

মাঠে ও চরে ঘাস খাইয়ে ভেড়া পালন। ২০২৬ সালের কোরবানির আগে জয়পুরহাটে এক খামারি ২৬টি ভেড়া বিক্রি করেছেন ৳২,৩০,০০০ টাকায় — গড়ে প্রতিটি প্রায় ৳৮,৮০০।

পুঁজি
৳৩০ হাজার – ৳২.৫ লাখ
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম আয়
১৮০ – ৩৬৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
কৃষি ও খামার

পেঁয়াজ চাষ

মুড়িকাটা ও হালি — দুই ফসলের পেঁয়াজ। আগস্ট ২০২৬-এ দেশী পেঁয়াজের পাইকারি জাতীয় গড় ৳৪১.৮২ কেজি, কিন্তু চৈত্র-বৈশাখের ভরা মৌসুমে কৃষক পেয়েছেন মণ ৳৭০০–১,১০০, অথচ খরচ মণে ৳১,৪০০–১,৬০০।

পুঁজি
৳৩০ হাজার – ৳২.৫ লাখ
জনবল
২ – ১০ জন
প্রথম আয়
৯০ – ১৫০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
কৃষি ও খামার

ছাগল মোটাতাজাকরণ

পাঁচ-ছয় মাসের খাসি কিনে খাইয়ে কোরবানির হাটে বিক্রি। মে ২০২৬-এ চট্টগ্রামের হাটে ছোট ছাগল ৳৮,০০০–১৫,০০০, বড় ছাগল ৳৪০,০০০–৫০,০০০; বড় সংকর জাত কেজি দরে ৳৭০০–৮০০।

পুঁজি
৳৩০ হাজার – ৳২.৫ লাখ
জনবল
১ – ৩ জন
প্রথম আয়
৯০ – ৩৬৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
কৃষি ও খামার

ঝিনুক ও মুক্তা চাষ

পুকুরের ঝিনুকে বীজ বসিয়ে ৭–১১ মাসে মুক্তা তৈরি। পাইকারিতে এ গ্রেডের মুক্তা ৳৫০০–৬০০, কিন্তু নিয়মিত ক্রেতা নেই — এটিই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

পুঁজি
৳৩০ হাজার – ৳১.৫ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
২১০ – ৩৩০ দিন
অভিজ্ঞ-যাচাইকৃত