ই-বর্জ্য রিসাইক্লিং
পুরোনো মোবাইল, টিভি, ফ্রিজ ও কম্পিউটার থেকে ধাতু আলাদা করার কাজ। ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের নিবন্ধন ও ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক; বিনা নিবন্ধনে করলে ২ বছর কারাদণ্ড বা ২ লাখ টাকা জরিমানা বা দুটোই।
- শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- সংস্করণ ১

ই-বর্জ্য রিসাইক্লিং
- শুরুর পুঁজি
- ৳১০,০০,০০০ – ৳৩,০০,০০,০০০ সম্পাদকীয় অনুমান
- জনবল
- ৫ – ৪০ জন
- প্রথম বিক্রি
- ১২০ – ৫৪০ দিন সম্পাদকীয় অনুমান
- খরচ উঠতে
- ৯ – ৩৬ মাস সম্পাদকীয় অনুমান
- কাজের ধরন
- ওয়ার্কশপ · কঠিন
ব্যবসাটি সম্পর্কে
ফেলে দেওয়া মোবাইল, টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার আর কারখানার যন্ত্র থেকে তামা, অ্যালুমিনিয়াম, লোহা, প্লাস্টিক আর সোনা-রুপার মতো ধাতু আলাদা করে বিক্রি করা। বাংলাদেশে এই কাজের দুটো চেহারা আছে, আর দুটোর মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। প্রথমটা আইনসম্মত পথ। ২০২১ সালের ১০ জুন পরিবেশ অধিদপ্তর বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর অধীনে ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ জারি করে। এই বিধিমালা অনুযায়ী উৎপাদক, সংযোজনকারী, আমদানিকারক, সংগ্রহ কেন্দ্র, পরিবহনকারী, মেরামতকারী, খোলাখুলিকারী, রিসাইক্লার, ব্যবসায়ী ও দোকানদার — সবাইকে নির্ধারিত ফরমে পরিবেশ অধিদপ্তরে নিবন্ধন করতে হয়, সঙ্গে দিতে হয় ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, আর নিবন্ধিত হওয়ার পর পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয়। উৎপাদক ও আমদানিকারকদের জন্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাঁধা — প্রথম বছরে ১০%, দ্বিতীয় বছরে ২০%, তৃতীয়ে ৩০%, চতুর্থে ৪০% আর পঞ্চম বছর থেকে ৫০%। লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা দুটোই; একই অপরাধ আবার করলে দুই থেকে দশ বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ থেকে দশ লাখ টাকা জরিমানা। দ্বিতীয় চেহারাটা অবৈধ এবং প্রাণঘাতী। দেশের ই-বর্জ্যের ৯৭ শতাংশ চলে যায় অনানুষ্ঠানিক হাতে, মাত্র ৩ শতাংশ পৌঁছায় নিয়মিত কারখানায়। খোলা জায়গায় তার পুড়িয়ে তামা বের করা, অ্যাসিডে সার্কিট বোর্ড ধুয়ে সোনা তোলা — এসবই সেখানে সাধারণ চর্চা, আর কর্মীরা খালি হাতে, মুখোশ ছাড়া কাজ করেন। ঢাকার ই-বর্জ্যের দোকানের ধুলো ও বাতাসে সীসা ও তামার মাত্রা অন্য দোকানের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে, আর কর্মীরা কর্মদিবসে গড়ে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা সেই বাতাসে থাকেন। এই ব্যবসায় নামার আগে তাই প্রশ্নটা টাকার নয় — আপনি কোন পথে যাচ্ছেন, সেটার।
আয়-ব্যয়ের হিসাব
| খাত | পরিসর | সূত্র | সংশোধন পাঠান |
|---|---|---|---|
| মাসিক চলতি মূলধন | ৳৬,০০,০০০ – ৳১২,০০,০০০ | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| বিক্রয় মূল্য | ৳১৬৪ – ৳১৬৭ / কেজি | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| পরিবর্তনশীল খরচ | ৳৬০ – ৳৯০ / কেজি | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| মোট লাভের হার | ৪৫% – ৬৪% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময় | ১২০ – ৫৪০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| খরচ উঠে আসার সময় | ৯ – ৩৬ মাস | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| নগদ চক্র | ২১ – ৬০ দিন | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| অপচয় ও ক্ষতির হার | ১০% – ২৫% | সম্পাদকীয় অনুমান | |
| দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা | ৩৮৫ – ১,৫৪০ | সম্পাদকীয় অনুমান |
শুরু করতে যা লাগবে
- হাতে খোলার সরঞ্জাম (স্ক্রু ড্রাইভার, কাটার, তারের কাটার), চুম্বক ও বাছাইয়ের বাক্স, ওজন পাল্লা, ধুলো ঢাকার ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপক, আর প্রতি কর্মীর জন্য দস্তানা, মুখোশ ও চশমা। দাম এখানে যাচাই করা যায়নি।যন্ত্রপাতি
- পরিবেশগত ছাড়পত্র — পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী নিবন্ধিত উৎপাদক ও রিসাইক্লারকে আলাদাভাবে ছাড়পত্র নিতে হয় (ফরম-৩ অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদন, ফরম-৫ নবায়ন)। বিনিয়োগভিত্তিক ফির তফসিল এখানে যাচাই করা যায়নি।লাইসেন্স
- ট্রেড লাইসেন্স — সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। আবেদন ফরম ৳৫০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳২০০–২৬,০০০, ইউনিয়ন পরিষদে ৳২৩০–১,৫০০। মেয়াদ এক অর্থবছর, প্রতি বছর নবায়ন, ৩ কর্মদিবসে ইস্যু।লাইসেন্স
- পরিবেশ অধিদপ্তরের নিবন্ধন — ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ (জারি ১০-০৬-২০২১), বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর অধীনে। উৎপাদক, সংযোজনকারী, আমদানিকারক, সংগ্রহ কেন্দ্র, পরিবহনকারী, মেরামতকারী, খোলাখুলিকারী, রিসাইক্লার, ব্যবসায়ী, দোকানদার, নিলামকারী ও রপ্তানিকারক — সবার জন্য বাধ্যতামূলক। আবেদনের সঙ্গে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা জমা দিতে হয়। নিবন্ধন ফি ও মেয়াদ বিধিমালার প্রকাশিত সারাংশে পাওয়া যায়নি; পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জেনে নিতে হবে।লাইসেন্স
- কোন যন্ত্রের কোথায় কী ধাতু আছে তা চেনা, আর কোনটা বিপজ্জনক তা আলাদা করা — ব্যাটারি, সিআরটি মনিটরের কাচ, পারদযুক্ত বাতি ও ক্যাপাসিটর। একটি মোবাইল ব্যাটারির ক্যাডমিয়ামই ৬০০ ঘনমিটার পানি দূষিত করতে যথেষ্ট।দক্ষতা
- বর্জ্যের নিয়মিত উৎস — কর্পোরেট অফিস, ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর ও সরকারি দপ্তরের নিলাম, আর এলাকার ভাঙারি সংগ্রাহক। দেশের ৯৭% ই-বর্জ্য অনানুষ্ঠানিক হাতে যায় বলে নিবন্ধিত কারখানাকে মাল পেতে এই সংগ্রাহকদের সঙ্গেই দর করতে হয়।সরবরাহকারী
- পাকা মেঝে ও ছাদসহ আলাদা শেড, যেখানে বৃষ্টি ঢোকে না আর মেঝে দিয়ে কিছু মাটিতে চোয়ায় না। ব্যাটারি, সার্কিট বোর্ড ও পারদযুক্ত বাতির জন্য আলাদা তালাবদ্ধ জায়গা, আর বিপজ্জনক অবশিষ্টাংশ রাখার নির্দিষ্ট কক্ষ। বসতির মাঝখানে এই কাজ করা যায় না।কাজের জায়গা
কাজের ধাপ
- 1শুরুতেই ঠিক করুন আপনি নিবন্ধিত পথে যাবেন। ই-বর্জ্য বিধিমালা, ২০২১ অনুযায়ী সংগ্রহ কেন্দ্র, পরিবহনকারী, খোলাখুলিকারী, রিসাইক্লার, ব্যবসায়ী ও দোকানদার — সবার জন্যই পরিবেশ অধিদপ্তরের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। বিনা নিবন্ধনে কাজ করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা দুটোই।
- 2ট্রেড লাইসেন্স ও প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন সারুন — ফরম ৳৫০, লাইসেন্স ফি ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ৳২০০–২৬,০০০, ৩ কর্মদিবসে ইস্যু। ভারী শিল্পের ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ফি আলাদা হতে পারে।
- 3ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা লিখুন — কোথা থেকে বর্জ্য আসবে, কীভাবে খোলা হবে, কোন অংশ কোথায় যাবে, আর বিপজ্জনক অবশিষ্টাংশ কীভাবে নিষ্পত্তি হবে। নিবন্ধনের আবেদনের সঙ্গে এটা জমা দিতে হয়।
- 4পরিবেশ অধিদপ্তরে নির্ধারিত ফরমে নিবন্ধনের আবেদন করুন। নিবন্ধিত হওয়ার পরও আলাদা করে পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয় — দুটো এক জিনিস নয়, আর দুটোরই সময়সীমা বিধিমালায় ঘোষিত নেই।
- 5পাকা মেঝে ও ছাদসহ শেড নিন, যেখানে বৃষ্টির পানি ঢোকে না আর মেঝে দিয়ে কিছু চুইয়ে মাটিতে যায় না। ব্যাটারি ও সার্কিট বোর্ডের জন্য আলাদা, তালাবদ্ধ জায়গা রাখুন।
- 6হাতে খোলার সরঞ্জাম দিয়েই শুরু করুন — স্ক্রু ড্রাইভার, কাটার, তারের কাটার, চুম্বক, ওজন পাল্লা আর বাছাইয়ের বাক্স। গলানো বা অ্যাসিড দিয়ে ধাতু তোলার কাজ ছাড়পত্র ছাড়া করা যাবে না।
- 7প্রত্যেক কর্মীর জন্য দস্তানা, মুখোশ, চশমা ও বদলানোর পোশাক দিন, আর হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখুন। ঢাকার ই-বর্জ্যের দোকানের ধুলো ও বাতাসে সীসা ও তামার মাত্রা অন্য দোকানের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে — এটা স্বাস্থ্যের প্রশ্ন, সাজসজ্জার নয়।
- 8খোলা জায়গায় তার পোড়ানো বা অ্যাসিডে বোর্ড ধোয়া — এই দুটো কখনো করবেন না। অনানুষ্ঠানিক খাতে এটাই সবচেয়ে সাধারণ চর্চা, আর এটাই কর্মীদের ফুসফুস ও স্নায়ু নষ্ট করে, আশপাশের মাটি ও পানিও।
- 9সরবরাহের উৎস বাঁধুন — কর্পোরেট অফিস, ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর ও সরকারি দপ্তরের নিলাম, আর এলাকার ভাঙারি দোকান। নিবন্ধিত হলে বড় প্রতিষ্ঠান আপনাকেই মাল দিতে চাইবে, কারণ তাদের নিজেদের সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আছে।
- 10ক্রেতা আগে ঠিক করুন, তারপর মাল কিনুন — তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের পাইকার, রি-রোলিং মিল, প্লাস্টিক দানার কারখানা। ক্রেতা ঠিক না করে গুদাম ভরলে টাকা মালেই আটকে থাকে।
- 11প্রতিটি চালানের ওজন, উৎস ও গন্তব্য লিখে রাখুন। বিধিমালার আওতায় পরিদর্শনে এই খাতাই দেখানো লাগে, আর বিপজ্জনক অবশিষ্টাংশ কোথায় গেল তার হিসাব না থাকলে নিবন্ধন ঝুঁকিতে পড়ে।
- 12ফ্লুরোসেন্ট ও পারদযুক্ত বাতি আলাদা রাখুন — বিধিমালায় বলা আছে, রিসাইকেল করা না গেলে এগুলো সংগ্রহ কেন্দ্রে হস্তান্তর করে সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্য বর্জ্যের সঙ্গে মিশিয়ে ফেললে পুরো চালান বিপজ্জনক হয়ে যায়।
মৌসুম
- জানুস্বাভাবিক
- ফেব্রুস্বাভাবিক
- মার্চস্বাভাবিক
- এপ্রিলস্বাভাবিক
- মেস্বাভাবিক
- জুনবেশি
- জুলাইস্বাভাবিক
- আগস্টকম
- সেপ্টেকম
- অক্টোস্বাভাবিক
- নভেস্বাভাবিক
- ডিসেবেশি
কোন জেলায় ভালো
- খুব উপযোগীচট্টগ্রাম · বন্দর ও সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা শিল্পের কারণে ধাতু ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের বড় প্রবাহ আছে; অনানুষ্ঠানিক খাতে জাহাজভাঙা ইয়ার্ডেই শিশুশ্রমিকের বড় অংশ কাজ করেন বলে প্রতিবেদন আছে।
- খুব উপযোগীঢাকা · দেশের ই-বর্জ্যের সবচেয়ে বড় উৎস ও বাজার — কর্পোরেট অফিস, ব্যাংক ও মোবাইল অপারেটরের নিলাম এখানেই, আর পুরোনো ঢাকার ভাঙারি বাজার থেকেই বেশিরভাগ মাল ওঠে।
- খুব উপযোগীগাজীপুর · শিল্প এলাকা — কারখানার পুরোনো যন্ত্র, মোটর ও তার নিয়মিত নিলামে ওঠে, আর শেড ভাড়া ঢাকার চেয়ে কম।
- খুব উপযোগীনারায়ণগঞ্জ · ধাতু গলানো ও রি-রোলিং মিলের ঘনত্ব বেশি, অর্থাৎ বাছাই করা তামা ও লোহার ক্রেতা হাতের কাছে; ঢাকার সঙ্গে সরবরাহ শিকলও ছোট।
- সম্ভববগুড়া · উত্তরবঙ্গের ধাতু ও যন্ত্রাংশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র; ছোট ঢালাই ও যন্ত্রাংশ কারখানা থাকায় স্থানীয় ক্রেতা পাওয়া যায়।
- সম্ভবকুমিল্লা · ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর বলে দুই প্রান্তের মালই সংগ্রহ করা যায়, আর জমি ও শেডের খরচ কম।
- সম্ভবখুলনা · দক্ষিণ-পশ্চিমের সংগ্রহের কেন্দ্র, তবে ধাতুর ক্রেতা কম বলে বাছাই করা মাল ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জে পাঠাতে হয়।
- সম্ভবনরসিংদী · ঢাকার কাছেই ছোট শিল্প ও তার-কেবল সংক্রান্ত কারখানা আছে, আর ঢাকার তুলনায় জায়গার খরচ অনেক কম।
- সম্ভবরাজশাহী · বিভাগীয় শহরের অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পুরোনো কম্পিউটার ওঠে, কিন্তু আয়তনে কম বলে পরিবহনের খরচ পোষানো কঠিন।
- সম্ভবসিলেট · প্রবাসী পরিবারে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেশি বলে ই-বর্জ্যও তুলনামূলক বেশি, তবে স্থানীয় প্রক্রিয়াকরণের সুবিধা নেই।
ঝুঁকি ও সাবধানতা
- বেশিআইনি বাধ্যবাধকতা: নিবন্ধন ছাড়া এই কাজ অপরাধ। ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ লঙ্ঘনে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ১৫(১) অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা বা দুটোই; একই অপরাধ আবার করলে দুই থেকে দশ বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ থেকে দশ লাখ টাকা জরিমানা বা দুটোই। ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন বলছে, দেশে যে প্রতিষ্ঠানগুলো এই কাজ করছে তার প্রায় অর্ধেকই পরিবেশ অধিদপ্তরের নিবন্ধন ছাড়াই চলছে — অর্থাৎ ঝুঁকিটা কাগজের নয়, বাস্তব।
- বেশিঅন্যান্য: কর্মীর স্বাস্থ্য। ঢাকার অনানুষ্ঠানিক ই-বর্জ্য দোকানের ভেতরের ধুলো ও বাতাসে ভারী ধাতুর মাত্রা অন্য দোকানের তুলনায় অনেক বেশি, আর তাতে সীসা ও তামাই প্রধান; নিকেল, ম্যাঙ্গানিজ ও ক্রোমিয়ামও মেলে। কর্মীরা কর্মদিবসে গড়ে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা সেই বাতাসে থাকেন, আর নিঃশ্বাসের পাশাপাশি হাত ও ত্বক দিয়েও ঢোকে। অনানুষ্ঠানিক খাতে শিশু ও নারী শ্রমিকই বেশি। এটা ধীরে ধীরে ক্ষতি করে — ফল দেখা যায় বছর পেরিয়ে, তখন আর ফেরানো যায় না।
- বেশিনির্ভরশীলতা: মাল পাওয়াই সবচেয়ে বড় সমস্যা। দেশের ই-বর্জ্যের ৯৭ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক হাতে যায়, মাত্র ৩ শতাংশ নিয়মিত কারখানায় পৌঁছায়; পুরোনো মোবাইলের ক্ষেত্রে নিয়মিত রিসাইক্লাররা ২০ শতাংশেরও কম পান। অর্থাৎ নিবন্ধন নিয়ে, ছাড়পত্র নিয়ে, নিরাপত্তা সরঞ্জাম কিনে যে কারখানা দাঁড়ায়, তাকে প্রতিদিন দর করতে হয় এমন সংগ্রাহকদের সঙ্গে যাঁদের এসব খরচ নেই — আর তাই তাঁরা বেশি দাম দিতে পারেন।
- বেশিচলতি মূলধন: মাল কিনতে হয় নগদে, আগে। ভাঙারি ও সংগ্রাহক বাকিতে দেন না, আর নিলামে জিতলে টাকা তখনই দিতে হয়। উল্টো দিকে গলানোর কারখানা ও পাইকারের কাছে ধাতু বেচলে টাকা আসে চালান বুঝে নেওয়ার পরে, প্রায়ই কয়েক সপ্তাহে। মাঝের সময়টায় গুদামভর্তি মাল থাকে আর হাতে টাকা থাকে না।
- মাঝারিচাহিদা: দাম নিজের হাতে নেই। তামা, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের দর আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে ওঠানামা করে, আর যে দামে মাল কেনা হয়েছে তার চেয়ে কমে নামলে পুরো মজুতে লোকসান। বাজারের আকার বড় — বছরে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকার বাণিজ্য, মাসে প্রায় ৫০০ কোটি — কিন্তু সেই বাজারের প্রায় পুরোটাই অনানুষ্ঠানিক হাতে, তাই নিবন্ধিত কারখানার জন্য নিশ্চিত ক্রেতা কম।
সূত্র
- সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬
যে হিসাবের সূত্র: risks.other · বাংলাদেশ — ঢাকা
Bangladesh publishes E-waste Management Rule
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়, requirements.license · বাংলাদেশ
Why Bangladesh's Tk 6,000cr e-waste market remains largely informal
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা, মাসিক চলতি মূলধন, বিক্রয় মূল্য · বাংলাদেশ
ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ — গেজেট
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: requirements.license · বাংলাদেশ
ট্রেড লাইসেন্স ফি — প্রতিষ্ঠানের ধরন ভেদে ইস্যু ও নবায়ন ফি
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ — সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ
পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ (অবস্থানগত ও পরিবেশগত ছাড়পত্র)
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: শুরুর পুঁজি · বাংলাদেশ
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১ নং আইন), ধারা ১৫
সংগ্রহ: ২১ সেপ, ২০২৬যে হিসাবের সূত্র: risks.compliance · বাংলাদেশ
Review of E-waste Management Rules, 2021 — Bangladesh
সংগ্রহ: ৩০ সেপ, ২০২২যে হিসাবের সূত্র: requirements.license · বাংলাদেশ
যে হিসাবের সূত্র: risks.other · বাংলাদেশ — ঢাকা
কী বদলেছে
এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।
প্রশ্নোত্তর
এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।
এই ব্যবসার গল্প
১৪টি লাইসেন্স, নবায়নেই বছরে ১০ লাখ টাকা
২০০১ সালে যখন অকেজো মোবাইল-কম্পিউটার ২০–৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো তখন শুরু করা এই ই-বর্জ্যের ব্যবসায় এখন ১৪টি লাইসেন্স লাগে, প্রতি বছর নবায়নে যায় প্রায় ১০ লাখ টাকা।
- কারণ
- আইনি জটিলতা, অন্যান্য
একই রকম আরও ব্যবসা
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপকংক্রিট ব্লক তৈরি
সিমেন্ট-বালু-পাথরের কুচি দিয়ে ব্লক বানিয়ে বিক্রি। একটি হলো ব্লক ৳৩২–৫০, আর একটি ব্লক পাঁচটি ইটের জায়গা নেয়। সরকারি কাজে শতভাগ ব্লকের সময়সীমা ২০২৫ সালের জুনে শেষ, কিন্তু মানা হয়নি।
- পুঁজি
- ৳১২ লাখ – ৳৪৫ লাখ
- জনবল
- ৩ – ১২ জন
- প্রথম আয়
- ৩০ – ৯০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপপ্লাস্টিক পণ্য তৈরি
ছাঁচে গলানো প্লাস্টিক ঢেলে বালতি, মগ ও চেয়ার বানানো। বাজার ৫০ হাজার কোটি টাকার, কিন্তু আরএফএলের দোকানেই ৩০ লিটারের বালতি ৳১৯৩ — নতুন দানা কিনে এই দামে টেকা যায় না।
- পুঁজি
- ৳৬ লাখ – ৳৫০ লাখ
- জনবল
- ৪ – ৩০ জন
- প্রথম আয়
- ৯০ – ২৪০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপবরফ কল
মাছ সংরক্ষণের বরফ তৈরির কারখানা। এক ক্যান বরফ ১২০–৩০০ টাকা, কিন্তু ১২৫ কেজির এক ক্যান বানাতে টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ লাগে — লোডশেডিংই এখানে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
- পুঁজি
- ৳১৫ লাখ – ৳১ কোটি
- জনবল
- ৫ – ২৫ জন
- প্রথম আয়
- ৯০ – ২৪০ দিন
হালকা উৎপাদন ও ওয়ার্কশপমশার কয়েল তৈরি
কাঠের গুঁড়া ও কীটনাশক মিশিয়ে মশার কয়েল বানানোর কারখানা। বিএসটিআইয়ের বাধ্যতামূলক সনদ লাগে, আর আবাসিক এলাকায় পরিবেশের ছাড়পত্র মেলে না।
- পুঁজি
- ৳৪ লাখ – ৳৪০ লাখ
- জনবল
- ৫ – ৪০ জন
- প্রথম আয়
- ৯০ – ২৭০ দিন
