১৪টি লাইসেন্স, নবায়নেই বছরে ১০ লাখ টাকা
২০০১ সালে যখন অকেজো মোবাইল-কম্পিউটার ২০–৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো তখন শুরু করা এই ই-বর্জ্যের ব্যবসায় এখন ১৪টি লাইসেন্স লাগে, প্রতি বছর নবায়নে যায় প্রায় ১০ লাখ টাকা।
সেগুনবাগিচার এই ব্যবসায়ী আগে পুরোনো আসবাবপত্রের কারবার করতেন; ২০০১ সালে তিনি দেখেন অকেজো মোবাইল আর কম্পিউটার নিয়ে মানুষ কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না, তখন সেসব ২০–৩০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হতো। মোবাইল আমদানিকারক, টেলিফোন কোম্পানি, ব্যাংক আর বিদেশি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে ই-বর্জ্য কিনতে গিয়ে তাঁকে ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট আর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ কাগজপত্র জোগাড়ে অনেক সময় দিতে হয়। তাঁর ভাষায়, "আমাদের এ ব্যবসায় ১৪টি লাইসেন্স লাগে। প্রতি বছর নবায়ন করতে ১০ লাখ টাকা চলে যায়।" মুনাফাও কমেছে — আগে একটি কম্পিউটার ভাঙলে ভালো পরিমাণ লোহা, অ্যালুমিনিয়াম বা তামা মিলত, কিন্তু সার্কিট, মাদারবোর্ড আর চিপ ছোট হতে থাকায় এখন অনেক যন্ত্র ভেঙেও ধাতু মেলে সামান্য। একই বাজারের চানখাঁর পুলে একটি দোকান সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রেখে প্রতিদিন ২০–২২ হাজার টাকার মাল কেনে। ব্যবসাটা চলছে, কিন্তু নিয়ন্ত্রক খরচ আর ছোট হয়ে আসা ধাতুর পরিমাণ দুই দিক থেকেই মার্জিন চেপে ধরেছে।
যা শেখার আছে
- ১.লাইসেন্স-নির্ভর খাতে বছরের নিয়মিত নবায়ন খরচই ছোট উদ্যোক্তার জন্য কার্যত প্রবেশ-বাধা
- ২.প্রযুক্তি ছোট হলে প্রতি ইউনিট বর্জ্য থেকে পাওয়া ধাতুও কমে — মাল বেশি ভাঙলেও মার্জিন বাড়ে না
যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
আলোচনা
এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।
