মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি

পোষা প্রাণীর খাবার ও সামগ্রীর দোকান

বিড়াল-কুকুরের আমদানি করা খাবার, লিটার ও সরঞ্জামের দোকান। শুকনো খাবার কেজিপ্রতি ৳৪৮৭ থেকে ৳১,৯০০ (২১-০৯-২০২৬)। খাবারে আমদানি শুল্ক ২৫%, আর চাহিদা এখনো মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক।

  • শেষ পর্যালোচনা: ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • সংস্করণ ১
পোষা প্রাণীর খাবার ও সামগ্রীর দোকান

পোষা প্রাণীর খাবার ও সামগ্রীর দোকান

শুরুর পুঁজি
৳২,০০,০০০ – ৳১০,০০,০০০
সম্পাদকীয় অনুমান
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম বিক্রি
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠতে
৮ – ৩৬ মাস
সম্পাদকীয় অনুমান
কাজের ধরন
দোকান · মাঝারি কঠিন

ব্যবসাটি সম্পর্কে

এটা নতুন ব্যবসা, আর এখনো ছোট। মাল প্রায় পুরোটাই আমদানি করা — বিড়াল-কুকুরের শুকনো খাবার, পাউচ, লিটার, খেলনা, বেল্ট। শুল্ক তালিকায় খুচরা মোড়কে ভরা কুকুর ও বিড়ালের খাবারের (এইচএস ২৩০৯.১০.০০) আমদানি শুল্ক ২৫%। আমদানি করতে হলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পশুখাদ্য ক্যাটাগরী-২ লাইসেন্স লাগে; অধিদপ্তর প্রতি অর্থবছরে সেই লাইসেন্সধারীদের তালিকা প্রকাশ করে। খুচরা দোকানের নিজের কী লাগে, সেটা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি — বিএসটিআইয়ের ৩১৫টি বাধ্যতামূলক পণ্যের তালিকায় পোলট্রি ফিড (BDS 138:2006) আছে, কিন্তু পোষা প্রাণীর খাবার নেই। দাম দেখলে বোঝা যায় টাকাটা কোথায় আটকায়। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ঢাকার একটি দোকানের দরে ১৫ কেজির বস্তা শুকনো বিড়ালের খাবার ৳৭,৩০০ (কেজি ৳৪৮৭), ৮ কেজি ৳৫,২০০ (কেজি ৳৬৫০), ১.২ কেজি ৳৬৫০ (কেজি ৳৫৪২), ৫০০ গ্রাম ৳৩০০ (কেজি ৳৬০০), আর দামি গ্রেইন-ফ্রি ১ কেজি ৳১,৯০০। বিড়ালের লিটার ৪.৫ লিটার ৳৩২০ থেকে শুরু, বেন্টোনাইট ৳৪০০–৭৯০। একটা ১৫ কেজির বস্তাতেই সাত হাজার টাকা আটকে থাকে, আর খাবারের মেয়াদ থাকে — না বিক্রি হলে ফেলে দিতে হয়। ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে দেশে এই বাজার বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা, বছরে ২০ শতাংশের বেশি বাড়ছে; বড় একটি অনলাইন দোকানের বিক্রি ২০১৯ সালে মাসে ১০ লাখ থেকে বেড়ে ২০–৩০ লাখ হয়েছিল। কিন্তু খদ্দের ঢাকার কয়েকটা এলাকাতেই — এর বাইরে চাহিদা পাতলা।

আয়-ব্যয়ের হিসাব

খাতপরিসরসূত্রসংশোধন পাঠান
মাসিক চলতি মূলধন৳১,০০,০০০ – ৳৩,০০,০০০সম্পাদকীয় অনুমান
বিক্রয় মূল্য৳৪৮৭ – ৳১,৯০০ / কেজিবাজারদর
পরিবর্তনশীল খরচ৳৩৬৫ – ৳১,৬১৫ / কেজিসম্পাদকীয় অনুমান
মোট লাভের হার১৫% – ২৫%সম্পাদকীয় অনুমান
প্রথম বিক্রি পর্যন্ত সময়১৫ – ৬০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
খরচ উঠে আসার সময়৮ – ৩৬ মাসসম্পাদকীয় অনুমান
নগদ চক্র২০ – ৯০ দিনসম্পাদকীয় অনুমান
অপচয় ও ক্ষতির হার২% – ১০%সম্পাদকীয় অনুমান
দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা৫ – ২০সম্পাদকীয় অনুমান

শুরু করতে যা লাগবে

  • ওজনের যন্ত্র (খোলা বেচলে), বায়ুরোধী পাত্র, মেয়াদের খাতা, আর অনলাইনে বেচলে ডেলিভারির ব্যবস্থা।যন্ত্রপাতি
  • খাবার, লিটার ও সরঞ্জামের মজুত। ছোট দোকানে ১০টি ১৫ কেজির বস্তা, ৩০ ব্যাগ লিটার ও কিছু পাউচ-খেলনা ধরলে খুচরা দরে প্রায় ৳১,০০,০০০।শুরুর মাল
  • ট্রেড লাইসেন্স, সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে। ঢাকা উত্তরে অনলাইনে আবেদন, ৩ কর্মদিবসে ইস্যু, নবায়ন ২ কর্মদিবস। ফি সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬-এর ১০(৪) ধারা অনুযায়ী; অঙ্কটি আমাদের সূত্রে পড়া যায়নি। প্রতি অর্থবছরে নবায়ন।লাইসেন্স
  • পশুখাদ্য ক্যাটাগরী-২ লাইসেন্স, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর — শুধু নিজে আমদানি করলে। অধিদপ্তর প্রতি অর্থবছরের ক্যাটাগরী-২ (আমদানি-রপ্তানি) লাইসেন্সধারীদের তালিকা প্রকাশ করে। শুধু খুচরা বিক্রির জন্য এটি লাগে কি না, তা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।লাইসেন্স
  • কোন বয়সের ও কোন সমস্যার প্রাণীর জন্য কোন খাবার, সেটা বুঝিয়ে বলতে পারা — কিটেন, অ্যাডাল্ট, স্টেরিলাইজড, ডাইজেস্টিভ কেয়ার। ভুল খাবার দিলে খদ্দের আর ফেরে না।দক্ষতা
  • আমদানিকারক বা তাদের পরিবেশক। খুচরা মোড়কে ভরা কুকুর ও বিড়ালের খাবারে (এইচএস ২৩০৯.১০.০০) আমদানি শুল্ক ২৫%; ভ্যাট, এআইটি ও অন্যান্য কর যোগ হলে মোট করভার আরও বেশি, তবে সেই মোট অঙ্ক আমরা যাচাই করতে পারিনি।সরবরাহকারী
  • শুকনো ও ঠান্ডা দোকানঘর, মেঝে থেকে উঁচু তাক। খাবারের বস্তা স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে রাখলে ছত্রাক ধরে আর পোকা আসে।কাজের জায়গা

কাজের ধাপ

  1. 1আগে দেখে নিন আপনার এলাকায় আদৌ খদ্দের আছে কি না। এই ব্যবসা এখনো ঢাকার কয়েকটা এলাকাতেই চলে — ফ্ল্যাটবাড়ির ঘনত্ব আর পশু হাসপাতালের কাছাকাছি হওয়াটাই আসল।
  2. 2সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিন। ঢাকা উত্তরে অনলাইনে আবেদন, ৩ কর্মদিবস; নবায়ন ২ কর্মদিবস।
  3. 3আমদানিকারক ঠিক করুন। নিজে আমদানি করতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পশুখাদ্য ক্যাটাগরী-২ লাইসেন্স লাগে; অধিদপ্তর প্রতি অর্থবছরে লাইসেন্সধারীদের তালিকা প্রকাশ করে। ছোট দোকানের জন্য ঢাকার আমদানিকারকের কাছ থেকে তোলাই সহজ।
  4. 4প্রতি বস্তার মেয়াদের তারিখ দেখে নিন, আর খাতায় লিখে রাখুন কোন বস্তা কবে শেষ হবে। মেয়াদ শেষ মানে পুরো সাত হাজার টাকা ফেলে দেওয়া।
  5. 5প্রথম চালানে অল্প করে অনেক ধরন রাখুন — বড় বস্তা দুই-তিনটার বেশি নয়, বাকিটা ছোট প্যাক। ছোট প্যাকে কেজির দাম বেশি, আর টাকাও কম আটকায়।
  6. 6লিটার আর সরঞ্জাম রাখুন — লিটারের মেয়াদ নেই, খেলনা ও বেল্টও নষ্ট হয় না। এগুলোই মজুতের নিরাপদ অংশ।
  7. 7অনলাইনে পাতা খুলুন আর ডেলিভারির ব্যবস্থা রাখুন। এই ব্যবসার বড় বিক্রেতারা দোকানের পাশাপাশি অনলাইনেই বেশি বেচেন।
  8. 8পাশের ভেটেরিনারি চেম্বার বা পশু হাসপাতালের সঙ্গে পরিচয় রাখুন — চিকিৎসকের বলে দেওয়া বিশেষ খাবারের খদ্দের ওখান থেকেই আসে।
  9. 9খোলা ওজনে বেচবেন কি না ঠিক করুন। বড় বস্তা খুলে কেজি দরে বেচলে বিক্রি বাড়ে, কিন্তু খোলা খাবার দ্রুত নষ্ট হয় আর মেয়াদের দায়ও আপনার।
  10. 10প্রতি মাসে তাক মিলিয়ে দেখুন কোন প্যাক তিন মাসে নড়েনি। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ছাড় দিয়ে ছেড়ে দিন — পরে দিলে কেউ নেবে না।

মৌসুম

  1. জানুস্বাভাবিক
  2. ফেব্রুস্বাভাবিক
  3. মার্চস্বাভাবিক
  4. এপ্রিলস্বাভাবিক
  5. মেস্বাভাবিক
  6. জুনস্বাভাবিক
  7. জুলাইস্বাভাবিক
  8. আগস্টস্বাভাবিক
  9. সেপ্টেস্বাভাবিক
  10. অক্টোস্বাভাবিক
  11. নভেস্বাভাবিক
  12. ডিসেস্বাভাবিক
বেশিস্বাভাবিককম

কোন জেলায় ভালো

  • খুব উপযোগীঢাকা · এই ব্যবসার প্রায় পুরোটাই এখানে — আমদানিকারক, বড় অনলাইন দোকান আর ফ্ল্যাটে বিড়াল-কুকুর পোষা পরিবার সবই ঢাকায়।
  • সম্ভবচট্টগ্রাম · বন্দর শহর, আমদানি এখান দিয়েই ঢোকে আর শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবারও আছে।
  • সম্ভবগাজীপুর · ঢাকার লাগোয়া, নতুন আবাসিক এলাকা বাড়ছে — ঢাকার দোকান থেকে ডেলিভারিও সহজ।
  • সম্ভবনারায়ণগঞ্জ · ঢাকার কাছে ঘন শহর, ডেলিভারির দূরত্ব কম।
  • সম্ভবসিলেট · প্রবাসী পরিবারের শহর, আমদানি করা খাবারের দাম দেওয়ার মতো ক্রেতা আছে।
  • কম উপযোগীবগুড়া · উত্তরাঞ্চলের বাণিজ্যকেন্দ্র, কিন্তু আমদানি করা পোষা প্রাণীর খাবারের বাজার এখনো ছোট।
  • কম উপযোগীখুলনা · বিভাগীয় শহর, তবে পোষা প্রাণীর খাবারের নিয়মিত খদ্দের এখনো অল্প — দোকান নেওয়ার আগে গুনে দেখা দরকার।
  • কম উপযোগীরাজশাহী · বিভাগীয় শহর, চাহিদা পাতলা; অনলাইনে ঢাকা থেকে ডেলিভারিই এখানে বেশি চলে।

ঝুঁকি ও সাবধানতা

  • বেশিনষ্ট হওয়া: খাবারের মেয়াদ থাকে, আর একেকটা বস্তায় অনেক টাকা। ১৫ কেজির একটা বস্তার দাম ৳৭,৩০০ — মেয়াদ পেরোলে গোটা টাকাটাই যায়, কমিয়েও বেচা যায় না। ছোট দোকানে বড় বস্তা বেশি তুললে এই ঝুঁকিই সবচেয়ে বড়। কত শতাংশ মাল এভাবে নষ্ট হয়, তার কোনো সংখ্যা আমরা সূত্রে পাইনি।
  • বেশিচাহিদা: খদ্দের এখনো ঢাকার কয়েকটা এলাকায় সীমাবদ্ধ। ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে সারা দেশে এই বাজার বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকা — অর্থাৎ পুরো দেশের বিক্রি একটা মাঝারি শিল্পের সমান। বাড়ছে বছরে ২০ শতাংশের বেশি, কিন্তু ভিত্তিটা ছোট। ঢাকার বাইরে দোকান দিলে ক্রেতা আছে কি না, সেটা আগে গুনে দেখতে হবে।
  • বেশিনির্ভরশীলতা: সব খাবার আমদানি করা, আর শুল্ক ২৫%। ডলারের দর, শুল্ক বা এলসি খোলায় জটিলতা — যেকোনো একটাতেই সরবরাহ আটকে যায় আর দাম লাফ দেয়। দোকানি দাম ঠিক করেন না, আমদানিকারক করেন।
  • মাঝারিচলতি মূলধন: তাক ভরাতে অনেক ব্র্যান্ড আর অনেক মাপ রাখতে হয় — কিটেন, অ্যাডাল্ট, স্টেরিলাইজড, নানা স্বাদ। একেকটা কেনা মানে টাকা আটকানো, আর যে স্বাদটা কেউ চায় না সেটাই মেয়াদ পর্যন্ত পড়ে থাকে।
  • মাঝারিআইনি বাধ্যবাধকতা: পশুখাদ্য আমদানির জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ক্যাটাগরী-২ লাইসেন্স লাগে। যে আমদানিকারকের কাছ থেকে মাল নিচ্ছেন, তাঁর লাইসেন্স আছে কি না দেখে নেওয়া ভালো — অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে তালিকা আছে। খুচরা দোকানের নিজের কী দায় তা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি, তাই ধরে নেবেন না যে কোনো দায় নেই।

সূত্র

কী বদলেছে

এখনো কোনো সংশোধন প্রকাশ হয়নি।

প্রশ্নোত্তর

এখনো কেউ প্রশ্ন করেননি। আপনিই প্রথম প্রশ্ন করুন।

একই রকম আরও ব্যবসা

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

কসমেটিকস দোকান

ক্রিম, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ ও সাজসজ্জার পণ্য বিক্রির দোকান। বিএসটিআই-এর বাধ্যতামূলক তালিকায় অন্তত ১৮টি প্রসাধনী — সনদ ছাড়া বা কাগজবিহীন আমদানি করা মাল তুললে দায় দোকানদারের।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
১ – ৫ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৪৫ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

চশমার দোকান

ফ্রেম আর লেন্স এনে দোকানে বসে চশমা বানিয়ে দেওয়া। একজোড়া সাধারণ চশমা ৳৬৪৯ থেকে ৳৫,৪০০ (অনলাইন দর, ২১-০৯-২০২৬)। বিএসটিআইয়ের কোনো সনদ লাগে না, ট্রেড লাইসেন্সই একমাত্র কাগজ।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
১ – ৪ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

মাছের আড়ত

চাষির মাছ নিলামে তুলে কমিশনে বিক্রি। কমিশন প্রায় ৩ শতাংশ, আর চাষিকে ধরে রাখতে বিনা সুদে দাদন দিতে হয় — লাভটা আসলে ভলিউমে।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳১৫ লাখ
জনবল
৩ – ১২ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসা

রং ও হার্ডওয়্যারের দোকান

রং, সিমেন্ট, রড, পাইপ, স্যানিটারি ও যন্ত্রপাতির খুচরা দোকান। ১২-০৩-২০২৬ তারিখে ৫০ কেজির সিমেন্ট ৳৪৭৫–৫২০ আর ৬০ গ্রেডের রড টনপ্রতি ৳৮৭,০০০–৮৮,৫০০ — দাম সপ্তাহে সপ্তাহে নড়ে।

পুঁজি
৳২ লাখ – ৳২০ লাখ
জনবল
১ – ৬ জন
প্রথম আয়
১৫ – ৬০ দিন
সম্পাদকীয় অনুমান