মূল অংশে যান
  • এই সাইটের তথ্য কপিরাইটভুক্ত — অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ
  • আমরা কোনো টাকার লেনদেন করি না
  • টাকা নিয়ে কোনো ব্যবসার প্রচার করি না
  • ভুল পেলে জানান — যাচাই করে ঠিক করি
আরও গল্প
যা শিখেছিপ্রথম আলোর প্রতিবেদনে বগুড়ার আদমদীঘির একজন হাসকিং চালকল মালিক

মণে খরচ ২,৪০০ টাকা, চাল বিক্রি ২,২৫০ — উপজেলায় বন্ধ ২৩৩টি চালকল

সনাতন হাসকিং চালকলে মণপ্রতি উৎপাদন খরচ প্রায় ২,৪০০ টাকা, অথচ চাল বিক্রি হয় ২,২৫০ টাকায় — মণে লোকসান ১৫০–২০০ টাকা। উপজেলার ২৩৩টি চালকল বন্ধ, কাজ হারিয়েছেন প্রায় ৭,০০০ শ্রমিক।

বগুড়ার আদমদীঘিতে নব্বইয়ের দশকের পর সনাতন হাসকিং চালকল ছড়িয়ে পড়ে এবং লাভজনকই ছিল, যতক্ষণ না ২০০৪ সালে উপজেলায় স্বয়ংক্রিয় চালকল আসে। সান্তাহারের এই মিলমালিকের কল ১৫ দিনে ১৫৪ মেট্রিক টন চাল দেয়, আর পাশের একটি অটো মিল তিনটি ইউনিট মিলে একই সময়ে দেয় ৪৮,০০০ টন। ধানের বর্তমান দামে তাঁর মণপ্রতি উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২,৪০০ টাকা, অথচ চাল বিক্রি হয় ২,২৫০ টাকায় — প্রতি মণে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা লোকসান। ফারাকটা শুধু আকারের নয়: সনাতন কলে মণপ্রতি চাল ওঠে ২৫ কেজি, অটো মিলে ২৮ কেজি, আর অটো মিল ৬০০ মণ ধান থেকে প্রায় ৪০ বস্তা কুঁড়াও বিক্রি করে ৫০ কেজির বস্তা প্রায় ২,০০০ টাকায়, যেখানে হাসকিং কলের তুষের দাম বলতে গেলে নেই। এর ওপর মৌসুমে একসঙ্গে ধান কেনার সস্তা ব্যাংকঋণ অটো মিলমালিকেরা পান, সনাতন কলের মালিকেরা পান না। পুঁজি হারিয়ে উপজেলার ২৩৩টি চালকল বন্ধ হয়ে গেছে, কাজ হারিয়েছেন প্রায় ৭,০০০ শ্রমিক; তাঁর ভাষায়, "নানা কারণে স্বয়ংক্রিয় চালকল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমরা টিকতে পারছি না।"

যা শেখার আছে

  1. ১.প্রতিযোগীর যন্ত্রে মণপ্রতি ২৮ কেজি চাল ওঠে আর আপনার ২৫, উপরন্তু সে কুঁড়াও বেচে — পরিশ্রম দিয়ে এই ফারাক ঢাকা যায় না
  2. ২.চালকলে আসল সুবিধা কলটা নয়, মৌসুমে ধান কেনার সস্তা ঋণ পাওয়া

যাঁর গল্প, তাঁর অনুমতি নিয়ে এবং পরিচয় গোপন রেখে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচনা

এখনো কেউ কিছু লেখেননি। আপনিই প্রথম লিখুন।